
রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ১৩৭ কোটি টাকার চুক্তি
জুন ২৫, ২০২৬
বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার
জুন ২৫, ২০২৬কয়রা উপজেলায় এলজিইডির একাধিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া, ধীরগতির নির্মাণকাজ ও অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার কারণে এরই মধ্যে তিনটি প্রকল্প বাতিলও করা হয়েছে বলে এলজিইডির খুলনা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়রা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন দুদফায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর একই স্থানে দায়িত্ব পালন করায় একটি নিজস্ব ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এসব অসমাপ্ত বা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে করা কাজগুলো ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করলেও প্রকল্পগুলো বছরের পর বছর ঝুলে থাকার কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, উপজেলাজুড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে কোথাও সড়ক খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে, কোথাও ইটের খোয়া কিংবা বালি ফেলে উধাও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে বর্ষায় কাদা-পানি এবং শুকনা মৌসুমে ধুলাবালি—দুই মৌসুমেই চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কের পিচ ঢালাইয়ের মাত্র তিনদিনের মাথায় হাতের চাপে উঠে যেতে দেখা গেছে। সড়কে সামান্য টান দিতেই খসে পড়ছে কার্পেটিংয়ের আস্তরণ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে কাজ বন্ধ করে দেন।
সরজমিনে মহারাজপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কের পিচ ঢালাইয়ের মাত্র তিনদিনের মাথায় হাতের চাপে উঠে যাচ্ছে। কোথাও সামান্য টান দিতেই খসে পড়ছে কার্পেটিংয়ের আস্তরণ। সড়কের মাঝামাঝি অংশে নতুন একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। তবে তার পাশেই ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে আছে পুরনো একটি কালভার্ট। প্রকল্প এলাকায় কোনো তথ্যফলক বা সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি।
মহারাজপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জামাল ফারুক বলেন, ‘সড়কের কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। স্থানীয় লোকজনের প্রতিবাদের মুখে সেই খোয়া অপসারণ করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন ফেলে রাখা কাজ আবার শুরু হলেও পিচ ঢালাইয়ে খুবই পাতলা করে পিচ দেয়া হয়েছে। পিচের নিচের অংশ পরিষ্কার না করেই ধুলাবালি ও মাটির ওপর ঢালাই করা হয়েছে। ধুলাবালির ওপর পিচ দেয়া শুরু হলে এলাকাবাসী বাধা দেন।’
কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কের পিচ ঢালাই ছাড়াও কয়রা সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোড় থেকে ৪ নম্বর কয়রা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত এ সড়ক সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। কাজ পায় মেসার্স রাকা এন্টারপ্রাইজ। কয়েক মাস সড়ক খুঁড়ে ইটের খোয়া ফেলার পর কাজ ফেলে চলে যায় প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সড়কটি বেহাল হয়ে পড়ে আছে।
মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বানিয়াখালী থেকে হড্ডা গ্রামের প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের অবস্থাও করুণ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। কাজ পায় মোহাম্মদ ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্স। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও সড়কটি খোঁড়াখুঁড়ির পর বালি ফেলে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
আমাদী ইউনিয়নে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে হুদুবুনিয়া-চান্নিরচক সড়কের দুই কিলোমিটার অংশ কার্পেটিং করার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। কাজের দরপত্র পায় রাকা-সিয়াম (জেভি) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
২০২১ সালের জুনে তারা কাজ শুরু করে। কয়েক মাস ধরে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির পর কাজ ফেলে চলে যায় প্রতিষ্ঠানটির লোকজন। ২০২২ সালের ২৬ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেই সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় চার বছর হতে চললেও কাজ শেষ করার কোনো উদ্যোগ নেই।
এলজিইডির খুলনা জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, ‘কয়রা উপজেলায় বর্তমানে কোনো উপজেলা প্রকৌশলী নেই। পাশের পাইকগাছা উপজেলার প্রকৌশলী অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিনটি প্রকল্প এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে। কাজ বন্ধ থাকা কিছু প্রকল্পে আবার টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।’ উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেনের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান মো. কামরুল ইসলাম।


