
দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা
জুন ২৫, ২০২৬
ইমপ্যাক্ট র্যাকিংয়ে ৬০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
জুন ২৫, ২০২৬অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
গতকাল জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে যেসব ব্যবসায়িক খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো হলো মুদি দোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড় বিক্রেতা, কনফেকশনারি, প্রসাধনসামগ্রীর দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্য বিক্রেতা, ডেকোরেটরস; মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের বিক্রেতা; পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার এবং স্যানিটারি ও ফিটিংস; টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্ট, ফার্নিচার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও রেস্তোরাঁ।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভ্যাট বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারে উল্লেখিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। বর্তমানে সেতু বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপির অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় (সবুজ পাতা) প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে প্রণীত বাজেটে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সমীক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা, ব্যয় ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় মূল্যায়ন করা হবে, যা পরবর্তী সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম করবে।’
চাঁদপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ২৩২। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাবের সংখ্যা ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫ এবং ঋণ হিসাবের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৬৭।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আর্থিক সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে সরকার জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল (এনএফআইএস) প্রণয়ন করেছে। বর্তমানে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস), বীমা, শেয়ারবাজার, ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা ও অন্যান্য অনুমোদিত আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হিসাবগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী কুড়িগ্রাম-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলামের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে জানান, ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক ঋণের অর্থ পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পাচার করা অর্থ উদ্ধার একটি দেওয়ানি (সিভিল) প্রক্রিয়া। খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো নয়টি আন্তর্জাতিক আইনগত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করে “নো উইন, নো ফি” শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।’
তিনি জানান, এসব আন্তর্জাতিক আইনগত প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত ঋণখেলাপিদের নামে বিদেশে থাকা অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেবে। প্রথম পর্যায়ে ছয়টি মামলাকে কেন্দ্র করে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এগুলো হলো সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ-সংক্রান্ত মামলা। পরবর্তী সময়ে এ কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
নড়াইল-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ গ্রামীণ পর্যায়ে জনপ্রিয় করতে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিশেষ মেলা ও সচেতনতা ক্যাম্পেইন চলমান রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে শোভাযাত্রা, পেনশন মেলা, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া পাবনা, বগুড়া, নওগাঁ, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও গাইবান্ধা জেলায় কর্মশালা ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে।
তিনি জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন স্কিম জনপ্রিয় করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও ডাকঘর ফ্রন্ট অফিস হিসেবে কাজ করছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল বেটিং ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধ দমনে সরকার ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬’-এর মাধ্যমে অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনেছে। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল জারি করা ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬’-এর ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আইনের আওতায় সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার জন্য কোনো পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি কিংবা পরিচালনা করা, অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণ করা, এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান, জুয়ার প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনে অংশ নেয়া এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়া-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের প্রচার বা বিপণন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) হিসাবের লেনদেন স্থগিত বা জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।’


