
আলোকপাত বিদ্যুৎ সংকট থেকে টেকসই স্থাপত্যের পথে: নগর ভবিষ্যতের পুনর্বিবেচনা
এপ্রিল ২১, ২০২৬
নওগাঁয় এক পরিবারে চার হত্যার ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে পাঁচ জন
এপ্রিল ২২, ২০২৬বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ১৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে—৫৭টি সরকারি ও ১১৬টি বেসরকারি।
তবে বর্তমানে ১৬৩টি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। এর মধ্যে ৩৫টি পাবলিক ও ১০৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল অনুষদ রয়েছে।
এত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশল শিক্ষা চালু থাকলেও আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বৈশ্বিক বিভিন্ন র্যাংকিং বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে দেশের মাত্র ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিতে পেরেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষা খাতে কম বরাদ্দ, গবেষণা ও উদ্ভাবনে পর্যাপ্ত গুরুত্বের অভাব এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার ঘাটতির কারণেই মূলত দেশের প্রকৌশলবিদ্যায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা ‘কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস’ (কিউএস) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং ২০২৬-এ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে মাত্র দুটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে—বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তালিকাভুক্ত ১৯১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের অবস্থান যথাক্রমে ১০০ ও ১২৬। এ র্যাংকিং নির্ধারণে মূলত তিনটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে—চাকরিদাতাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহণযোগ্যতা (এমপ্লয়াবিলিটি), গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক।
বর্তমানে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শুধু প্রকৌশলবিদ্যার জন্য বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান পাঁচটি। এছাড়া বিগত দুই দশক ধরে প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমানে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩টিই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া অন্যান্য সাধারণ সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও রয়েছে প্রকৌশল অনুষদ। ইউজিসির প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৩ অনুযায়ী, দেশে প্রকৌশল শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারের বেশি এবং বছরে প্রকৌশল গ্র্যাজুয়েট তৈরি হন ৫০ হাজারের কাছাকাছি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এর বড় অংশই প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার সংকটে ভুগছে। বিশেষত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চারটির স্থায়ী ক্যাম্পাসই নেই, নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই পর্যাপ্ত ল্যাব এবং আটটিতে অধ্যাপক সংকট।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের প্রকৌশল শিক্ষা মূলত একাডেমিকভাবে দক্ষতা তৈরিতে সীমাবদ্ধ। কিন্তু একটি আইডিয়াকে মার্কেটাইজ করা বা প্যাটেন্টেবল পণ্যে রূপান্তরের যে “প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট” সংস্কৃতি আইআইটি বা বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় রয়েছে, তা আমাদের এখানে অনুপস্থিত। ইনোভেশন ও প্যাটেন্ট সংস্কৃতির অভাবে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে।’
দেশের শিক্ষার্থীরা একটি যন্ত্র পরিচালনা করতে শেখে কিন্তু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হয় কীভাবে সেটি শেখার সুযোগ সেভাবে পায় না জানিয়ে ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়গুলো পড়ানোর কথা ছিল কিন্তু এখন বেশির ভাগই ঢালাওভাবে সাধারণ বিষয় (জেনারেল সাবজেক্ট) যুক্ত করায় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিশেষত্ব হারাচ্ছে। আবার সীমিত বাজেটে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে “এমপ্লয়ার রেটিং” ও “ইন্ডাস্ট্রি কানেক্টিভিটি”তে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হলো ল্যাবরেটরিগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে না পারা। সেই সঙ্গে গবেষণায় নামমাত্র বরাদ্দ। আমরা যদি আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের বৈশ্বিক সিইও বা পরিচালনা লেভেলে দেখতে চাই তবে শিক্ষায় জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব, উপযুক্ত গবেষণার পরিবেশ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন বাড়াতে হবে।’
কিউএস র্যাংকিংয়ের এমপ্লয়ার রেটিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ র্যাংকিংয়ে স্থান পাওয়া দুটি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর যথাক্রমে যথাক্রমে ৬০ এবং ৫৭ দশমিক ৪। অন্যদিকে এ তালিকায় স্থান পাওয়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর ৬৪-এর বেশি, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর ৫০-এর বেশি এবং দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর ৮০-এর বেশি।
বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভারতের প্রকৌশল গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি নিয়োগদাতাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যায় বৈশ্বিক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) বিষয়টি বিবেচনায় নিলেও। বৈশ্বিক জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম গুগল, মাইক্রোসফট ও আইবিএম। এ তিনটি কোম্পানিতেই বর্তমানে সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিন ভারতীয় ব্যক্তি এবং তারা সবাই ভারতের বিভিন্ন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে গুগল ও অ্যালফাবেট সিইও সুন্দর পিচাই আইআইটি খড়গপুর, মাইক্রোসফট করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও সিইও সত্য নাদেলা মনিপাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, আইবিএম করপোরেশনের সিইও ও চেয়ারম্যান অরবিন্দ কৃষ্ণ কানপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। শুধু এ তিন সিইও-ই নন, বর্তমানে বৈশ্বিক নামি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অংশের প্রধান নির্বাহী এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বরতরা ভারতের বিভিন্ন আইআইটি ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রিধারী।
অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্বের দৌড়ে বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েটরা পিছিয়ে থাকার কারণ বেশকিছু কাঠামোগত সমস্যা বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মানে প্রতিযোগিতা করতে হলে আউটকাম বেজড এডুকেশন (ওবিই) পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন জরুরি। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো অনেক পিছিয়ে; যেখানে বিশ্বে এআই, মেশিন লার্নিং ও রোবোটিকস দ্রুত এগোচ্ছে, সেখানে দেশের অনেক ল্যাবরেটরি এখনো পুরনো যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল।
ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকৌশল বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরতদের দুই-তৃতীয়াংশই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তবে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম মনে করেন, উন্নত দেশে শিল্প খাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও বাংলাদেশে সে সমন্বয় নেই। ফলে গবেষণা ও উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কম হওয়ায় অধিকাংশ অর্থ অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়ে যায়, আধুনিক গবেষণা সুবিধা গড়ে তোলা সম্ভব হয় না।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশীয় শিল্প খাতে উচ্চতর গবেষণার চাহিদা না থাকায় মেধাবীরা উদ্ভাবনে আগ্রহ হারাচ্ছে এবং শিল্প খাত বিদেশী প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল রয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতকে গবেষণায় বিনিয়োগে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি সমস্যা সমাধানভিত্তিক ওবিই কার্যকর করা গেলে বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা বিশ্ববাজারে নেতৃত্বের জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে।’
বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত অন্য র্যাংকিং টাইমস হায়ার এডুকেশন ২০২৬-এ প্রকৌশল বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাংকিংয়ে স্থান পেয়েছে মাত্র ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়। এ র্যাংকিং তৈরির ক্ষেত্রে টাইমস হায়ার এডুকেশন বিবেচনা করেছে পাঁটি সূচক—গবেষণার মান, উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিকে সহযোগিতা করার সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার সক্ষমতা, গবেষণার পরিবেশ এবং শিক্ষার পরিবেশ। প্রতিটি সূচকে মোট স্কোর ১০০। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সার্বিকভাবে ১০০ স্কোরের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর ৩৬ দশমিক ৫ থেকে ৩৯-এর মধ্যে এবং বুয়েটের স্কোর ৩১ দশমিক ৬ থেকে ৩৬ দশমিক ৩-এর মধ্যে। অন্যান্য ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। এই ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোরই ১০০-এর মধ্যে ২১.৪ থেকে ৩৬ দশমিক ৩-এর মধ্যে। এ র্যাংকিং বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পাঁচটি সূচকের মধ্যে গবেষণার মানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্কোর ৬০-এর ওপরে থাকলেও বাকি সূচকগুলোতে স্কোর ৪০-এর কম। এদের মধ্যে গবেষণার পরিবেশ এবং শিক্ষার পরিবেশ—এই দুই সূচকে স্কোর ১৫-এরও কম।
এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, কিউএস র্যাংকিংয়ে চীনের ৪২টি, ভারতের মোট ১৮টি, মালয়েশিয়ার ১৫টি, জাপানের ১৪টি, পাকিস্তানের আটটি, শ্রীলংকার চারটি, ইন্দোনেশিয়ার ছয়টি, ইরানের চারটি এবং সিঙ্গাপুরের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। আর টাইমস হায়ার এডুকেশনে ভারতের ১০২টি, চীনের ৮৫টি, জাপানের ৭৯টি, ইরানের ৫১টি, ইন্দোনেশিয়ার ২১টি, মালয়েশিয়ার ২০টি, পাকিস্তানের ৩১টি, সিঙ্গাপুরের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।
বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী অবশ্য মনে করেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট দক্ষ ও মেধাবী এবং কারিকুলামও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। মূল সংকটটা মূলত সুযোগ-সুবিধা ও উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে। দেশে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ অত্যন্ত কম। সর্বশেষ অর্থবছরে জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ শিক্ষায় ব্যয় করা হয়েছে, যেখানে অন্তত ৫ শতাংশ বরাদ্দ প্রয়োজন। এ স্বল্প বাজেট দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব। তিনি ভারতের আইআইটির সঙ্গে বুয়েটের বাজেট তুলনা করে বড় ধরনের বৈষম্যের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জানান, গত কয়েক দশকেও দেশের অনেক ল্যাবরেটরি আধুনিকায়ন হয়নি, ফলে প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে পড়ছে দেশ।
সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভালো কাজের চেষ্টা করছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনে রাষ্ট্রের সুস্পষ্ট দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নেই। উন্নত দেশগুলো যেখানে নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়নে জোর দিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনো আমদানিনির্ভর। আমাদেরও এ ধরনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থী এবং শিল্প খাত একটি নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পেত এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়ার সম্পর্ক জোরদার হতো।’
এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যানের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও অনেক প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই বিভাগ চালু করছে, ফলে গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। দেশকে প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে নিতে হলে অবশ্যই এসব সংকট দূর করতে হবে।
টাইমস হায়ার এডুকেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের গবেষণার মানের ক্ষেত্রে স্কোর ৮৩ দশমিক ৬। এছাড়া উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিকে সহযোগিতা করার সক্ষমতায় স্কোর মাত্র ২৯ দশমিক ৩, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার সক্ষমতা ৪২ দশমিক ৮, গবেষণার পরিবেশের ক্ষেত্রে ১৬ দশমিক ৫ এবং শিক্ষার পরিবেশে ১৬ দশমিক ৫ স্কোর। সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কোর ৩৬ দশমিক ৫ থেকে ৩৯-এর মধ্যে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পুরনো হলেও প্রকৌশল অনুষদ খুব বেশি দিনের নয়। এর পরও আমরা যথেষ্ট ভালো করছি। বিশেষত আমাদের বাজেট এবং সুযোগ-সুবিধার যে পরিস্থিতি সেটি যদি বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করা হয় তাহলে নিঃসন্দেহে এটি বলা যায় যে এত অল্প দিয়ে আমাদের চেয়ে ভালো করছে এমন প্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে। আবাসন ও মানসম্মত খাবারের যে মৌলিক চাহিদা, আমরা শিক্ষার্থীদের সেটিই পূরণ করতে পারি না। ল্যাবগুলোয় আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই, একেকটা গবেষণা প্রজেক্টে যে বরাদ্দ দেয়া হয় তা অতিস্বল্প। প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় আরো ভালো করতে হলে এ সংকটগুলো আগে নিরসন করতে হবে, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।’

