
নওগাঁয় এক পরিবারে চার হত্যার ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে পাঁচ জন
এপ্রিল ২২, ২০২৬
অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রস্তাব ডোনাল্ড ট্রাম্পের
এপ্রিল ২২, ২০২৬ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় কাঁচামাল সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসা গ্লাভস নির্মাতাসহ বিভিন্ন কোম্পানির মতো কারেক্সও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে
বিশ্বের শীর্ষ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী উৎপাদক মালয়েশিয়ার কারেক্স জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন দীর্ঘস্থায়ী হলে তারা কনডমের দাম ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এর চেয়েও বেশি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। খবর রয়টার্স।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী গোহ মিয়া কিয়াত গতকাল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বাড়তি ভাড়া ও জাহাজ চলাচলে বিলম্বের কারণে অনেক বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের মজুদ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়ায় কনডমের চাহিদাও বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে খুবই নাজুক, দাম বাড়ছে। এ মুহূর্তে আমাদের আর কোনো উপায় নেই। খরচ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিতেই হচ্ছে।’
কারেক্স বছরে ৫০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদন করে। তাদের হাতে রয়েছে শীর্ষ কয়েকটি ব্র্যান্ড। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন বৈশ্বিক সহায়তা কর্মসূচিতেও সরবরাহ করে।
ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় কাঁচামাল সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসা গ্লাভস নির্মাতাসহ বিভিন্ন কোম্পানির মতো কারেক্সও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গোহ জানান, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে কনডম তৈরিতে ব্যবহৃত সিন্থেটিক রাবার ও নাইট্রাইল থেকে শুরু করে প্যাকেজিং উপকরণ এবং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও সিলিকন অয়েলের মতো লুব্রিকেন্ট—সবকিছুর খরচ বেড়েছে।
তিনি আরো বলেন, আগামী কয়েক মাসের জন্য কারেক্সের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং বাড়তি চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। গত বছর বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডির ব্যয় কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক কনডম মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
চলতি বছরে কনডমের চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে এবং জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে এই সংকট আরো তীব্র হয়েছে। বর্তমানে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো গন্তব্যে কারেক্সের পণ্য পৌঁছাতে প্রায় দুই মাস সময় লাগছে, যেখানে আগে সময় লাগত প্রায় এক মাস।
গোহ বলেন, ‘অনেক কনডম এখন জাহাজেই পড়ে আছে, এখনো গন্তব্যে পৌঁছায়নি। কিন্তু সেগুলোর চাহিদা খুব বেশি।’
তিনি আরো বলেন, অনেক উন্নয়নশীল দেশে পর্যাপ্ত মজুদ নেই, কারণ পণ্য পৌঁছাতে সময় লাগছে।


