বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ বাড়াল ভারত
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
জোর করে স্লোগান দেওয়ানোর চেষ্টা, বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানাই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ বাড়াল ভারত
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
জোর করে স্লোগান দেওয়ানোর চেষ্টা, বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানাই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

দেশের সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুর্ঘটনার সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা-ভাঙ্গা-পটুয়াখালী মহাসড়ক (এন-৮)। এ মহাসড়কে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৯৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দেশের প্রধান অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক যোগাযোগ পথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। ব্যস্ততার পাশাপাশি এটি দুর্ঘটনার দিক থেকেও দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কের একটি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে (এন-১) ২২৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপকে দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২০ সালে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মহাসড়কটিতে প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। বর্তমানে এ সংখ্যা আরো বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনের বড় অংশ এ মহাসড়ক দিয়ে হওয়ায় সড়কটিতে ভারী যানবাহনের চাপ বেশি। যদিও এত যানবাহনের চাপ সামাল দেয়ার সক্ষমতা মহাসড়কটির বর্তমান অবকাঠামোর নেই।
, ‘চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য এ মহাসড়ক দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে অন্য অনেক মহাসড়কের তুলনায় এখানে যানবাহনের সংখ্যা এবং সেই সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেশি।’
তিনি আরো বলেন, ‘মহাসড়ক ফাঁকা থাকলে অনেক চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। আবার অনেক বাসচালকের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণও নেই। এর সঙ্গে সড়কের অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা যুক্ত হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।’
গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থার অভাবকে দায়ী করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাইদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ গতি নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা ও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব। চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল এবং মহাসড়কে অটোরিকশার মতো ধীরগতির যানবাহন চলাচলের কারণেও দুর্ঘটনা বাড়ছে।’
ব্যস্ত মহাসড়কটিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি বলে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো ব্যস্ত সড়কে যানবাহনের চাপ ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যে ধরনের সুবিধা থাকা প্রয়োজন, তার ঘাটতি রয়েছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের মহাসড়কে দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের নকশা ও অবকাঠামোগত ত্রুটি, চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, দীর্ঘ সময় একটানা গাড়ি চালানোর কারণে ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ, অনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অন্যতম। পাশাপাশি মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল এবং তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুর্ঘটনার সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা-ভাঙ্গা-পটুয়াখালী মহাসড়ক (এন-৮)। এ মহাসড়কে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৯৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা-সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে (এন-২) ৭৯টি এবং ঢাকা-বগুড়া-বাংলাবান্ধা মহাসড়কে (এন-৫) ৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ-খুলনা মহাসড়কে (এন-৮০৫) ৪৬টি, কাশিনাথপুর-পাবনা-রাজশাহী মহাসড়কে (এন-৬) ৩৮টি, দৌলতদিয়া-খুলনা-যশোর-মোংলা মহাসড়কে (এন-৭) ৩২টি এবং ঢাকা-গাজীপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে (এন-৩) ৩১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-১৬০) এবং জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কে (এন-৪) ১৯টি করে দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।
দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি চালকদের আচরণ ও যানবাহন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে সরকার দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সড়কের জ্যামিতিক উন্নয়ন, সড়ক সরলীকরণ, সাইন সিগন্যাল ও রোড মার্কিং স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি গার্ডরেল, ডেলিনিয়েটর, স্পিড ব্রেকার ও সাইনবোর্ডের মতো রোড ফার্নিচার স্থাপন এবং পথচারীদের নিরাপত্তায় বাজার ও জনবহুল এলাকায় ওভারপাস, ফুটওভারব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং ও সার্ভিস রোড নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
এক সেমিনারে গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে কারণ বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করতে হবে এবং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্তের পরিবর্তে দুর্ঘটনার তথ্য ভবিষ্যতের সড়ক নির্মাণ ও বড় প্রকল্প পরিকল্পনায় কাজে লাগাতে হবে।’
গতকালের সেমিনারে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রোড সেফটি আইন প্রণয়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণের কথাও জানান মন্ত্রী। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু নতুন আইন বা অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়। চালকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত মহাসড়ক ঢাকা-চট্টগ্রামে এসব ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ করা না গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো কঠিন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *