
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হাজার ছুঁইছুঁই
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সাইফুর রহমান যখন ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) চালু করেন, তখন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাবেক অর্থ, পরিকল্পনা ও বাণিজ্যমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান তার অবদান এবং অর্জনের কারণে শুধু বিএনপির গৌরব নন, তিনি গোটা জাতির সম্পদ।
তিনি বলেন, ‘সাইফুর রহমান এ জাতির সম্পদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের গৌরব। নানা কারণ ও অবদানের জন্য তিনি জাতির সম্পদ।’
মরহুম এম সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে গতকাল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ। ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম নাসের রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সাইফুর রহমান যখন ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) চালু করেন, তখন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছিল। ১৯৯১ সালে এটি চালুর সময় সংসদে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগও ভ্যাট ব্যবস্থা বন্ধ বা বাতিল করতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটা প্রাণ সঞ্চার করেছিল। এটা সাইফুর রহমানের অবদান।’
সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পেছনে কোনো ‘ষড়যন্ত্র আছে কিনা’ তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে মনে করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘একটা বিষয় আমার মনের মধ্যে সবসময় উঁকি দেয়। সাইফুর রহমান সাহেব দুর্ঘটনায় মারা গেলেন। এটা কি কেবলই দুর্ঘটনা ছিল, না কোনো জাতীয়, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল—এটাও আমাদের আজ আমাদের খুঁজে বের করা দরকার। কারণ তার মতো একটা মানুষ, যিনি এ রকম একটি ছোট দেশ, দারিদ্র্যপীড়িত দেশকে একটি অর্থনীতির ভিত্তির ওপরে যিনি দাঁড় করিয়েছেন, একটা ফাউন্ডেশন দিয়েছেন, এটা অনেক দেশ পছন্দ করেনি। ’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক দেশ বা ভেতরের অনেক শক্তি, যারা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পছন্দ করে না, বাংলাদেশ নিজের অর্থনীতিতে গড়ে উঠবে, নিজের কৃষি অর্থনীতির ওপরে ভিত্তি করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হবে, এটা আমার মনে হয় কেউ কেউ পছন্দ করেনি। তাই একটা সন্দেহ কিন্তু আছে তার মৃত্যুর দুর্ঘটনা নিয়ে? আমরা তখন থেকে শুনেছি যে সাইফুর রহমান সাহেবের এ দুর্ঘটনা কি নিছক দুর্ঘটনা? এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা এটি আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।’
এম সাইফুর রহমান ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ব্রাক্ষণবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান। সেদিন মৌলভীবাজারের নিজ বাড়ি ঢাকা আসছিলেন তিনি।
সাইফুর রহমানের ব্যবস্থাপনা দক্ষতার প্রশংসা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিরোধী দলেও থাকা অবস্থায় বিএনপির রাজনৈতিক বিরোধীরা তার ব্যক্তি হিসেবে উচ্চতা, ম্যানেজমেন্ট ক্যাপাসিটি এবং অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে সেভাবে সমালোচনা করতে পারেনি। কারণ দেশের জনগণের মধ্যে তার দক্ষতা ও যোগ্যতা সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল।’
তিনি বলেন, ‘সাইফুর রহমান এমন একজন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপক ছিলেন, যিনি টাকা পাচার, ব্যাংক লুট ও ব্যাংকের টাকা নিয়ে সরকারের ঘাটতি বাজেট পূরণের মতো ঘটনা ঘটতে দেননি। তার সময়ে ব্যাংক ছিল ব্যাংকের জায়গায় এবং বাজেট নিজস্ব ট্যাক্স কালেকশনের মাধ্যমে প্রণয়ন করা হতো বলে উল্লেখ করেন রুহুল কবির রিজভী।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘সাইফুর রহমানের লক্ষ্য ছিল ব্যক্তিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং নিজের পায়ে দাঁড় করানো। কীভাবে একজন ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করা যায়, কীভাবে তাকে অর্থনৈতিকভাবে নিজের পায়ে দাঁড় করানো যায়—সাইফুর রহমান তা জানতেন।’
রুহুল কবির রিজভী আরো বলেন, ‘সাইফুর রহমান যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন এবং বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখন শেয়ারবাজার লুট হয়নি। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সময় শেয়ারবাজারে অনিয়ম ঠেকাতে তিনি যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে একটি পশ্চাৎপদ ও দরিদ্র দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে সাইফুর রহমান তার মেধা, দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার যোগ্যতা কাজে লাগিয়েছিলেন। এ কারণে আন্তর্জাতিকভাবেও তিনি সম্মানিত হয়েছেন।’


