
জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুলকে বাদ দিয়ে সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি গঠন
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী সাইফুর রহমান শুধু বিএনপির গৌরব নন, জাতির সম্পদ
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যে দেখা যায়, ২০০৬ সালের জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী ৩ কোটি ৪২ লাখ শিশুকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রার ১০০ শতাংশ অর্জিত হয়েছিল।
দেশে হামের উপসর্গে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হাজার ছুঁইছুঁই। গতকাল পর্যন্ত মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯৭। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৯৭ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জন মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১৫৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ সময় ৬০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে, তাদের সবাই ঢাকা বিভাগে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬০।
চলতি বছরের শুরুতে হঠাৎই শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। কিছুদিনের মধ্যে রোগী দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এবার হামে মৃত্যু ও সংক্রমণ নজিরবিহীন। চলতি বছর বিশ্বে হামে সর্বোচ্চ সংক্রমণও হয়েছে বাংলাদেশে।
সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানে একসময় বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বজুড়ে ছিল আলোচিত। নিয়মিত টিকাদান, জাতীয় ক্যাম্পেইনের কারণে হামসহ এ ধরনের রোগের বড় প্রাদুর্ভাব এড়ানো যাচ্ছিল। এখন হামের মারাত্মক সংকট দেখা দেয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় টিকাদানের ঘাটতিকে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যে দেখা যায়, ২০০৬ সালের জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী ৩ কোটি ৪২ লাখ শিশুকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রার ১০০ শতাংশ অর্জিত হয়েছিল। ২০১০ সালে ফলোআপ ক্যাম্পেইনে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১ কোটি ৮১ লাখ শিশুকে টিকা দেয়া। সেবারও কাভারেজ ছিল ১০০ শতাংশ। ২০১৪ সালে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা কর্মসূচির মাধ্যমে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী ৫ কোটি ২৭ লাখ শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছিল। সেবারও কাভারেজ ১০০ শতাংশ। ২০২০-২১ সালের পর বিশেষ ক্যাম্পেইন আর হয়নি। এর মধ্যে নিয়মিত টিকাদানের কাভারেজও কমতে থাকে। ২০২৫ সালে এ হার ৫৯ শতাংশে নেমে আসে। দেশের বিভিন্ন স্থানে টিকার স্বল্পতাও দেখা দেয়।
ডব্লিউএইচওর গত জুলাইয়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে এবার আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শিশুই বেশি। এক বছরের কম বয়সী যে পাঁচ হাজারের মতো শিশু গত এক বছরে হামে আক্রান্ত হয়েছে, তার মধ্যে চার হাজারের বেশি হামের টিকার দুই ডোজের একটিও পায়নি। এক থেকে চার বছর বয়সী চার হাজার রোগীর মধ্যে দেড় হাজার শিশু টিকার কোনো ডোজ পায়নি, এক ডোজ পেয়েছে ৫০০ জনের মতো। ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী ১ হাজার শিশুর অর্ধেকই টিকার কোনো ডোজ পায়নি।
জাতিসংঘ শিশু সংস্থা ইউনিসেফের বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া ৫ মে গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘২০২৫ সালে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার টিকা সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলে ইউনিসেফ বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে টিকা সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্ব হবে ও রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।’
হাম পৃথিবীর সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। এ কারণে ডব্লিউএইচও বলছে, সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে দুই ডোজ টিকার আওতায় আনতে হয়। এ অবস্থাকেই বলা হয় হার্ড ইমিউনিটি। তখন কোনো এলাকায় অল্পসংখ্যক টিকা না পেলেও সংক্রমণ সহজে ছড়াতে পারে না। এবার বাংলাদেশে যে বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, সেটিও মূলত এ ইমিউনিটি গ্যাপের ফল বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মনে করেছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে ২০২৫ সালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩২। আগের বছরগুলোর মধ্যে ২০২৪ সালে ২৪৭, ২০২৩ সালে ২৮২, ২০২২ সালে ৩১১ জন হামে আক্রান্ত হয়েছিল। মৃত্যুর রেকর্ড ছিল না।


