
ভাঙন
জুন ২৫, ২০২৬
ভারতে মার্কিন এলপিজি আমদানি রেকর্ড ১০ লাখ টন ছাড়াতে পারে
জুন ২৫, ২০২৬২০২৬ সালে চীনে মঙ্গোলিয়ার কোকিং কয়লা আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।
সাশ্রয়ী মূল্য ও দেশীয় কয়লার সঙ্গে সহজেই মিশ্রণযোগ্য হওয়ায় দেশটিতে এ কয়লার চাহিদা এখন ঊর্ধ্বমুখী। পাশাপাশি চীনের স্থানীয় খনিগুলোয় কঠোর সরকারি নজরদারির কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় মঙ্গোলিয়ার কয়লার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
চীনের ইস্পাত শিল্পে, বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের কারখানাগুলোর জন্য মঙ্গোলিয়ার কয়লা এখন অন্যতম কাঁচামালে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছরের রেকর্ড আমদানির পর চলতি বছর এ চাহিদা আরো বাড়বে।
চায়না আয়রন অ্যান্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে চীন মঙ্গোলিয়া থেকে ৬ কোটি ৪ লাখ টন কোকিং কয়লা আমদানি করেছিল, যা ছিল দেশটির মোট কয়লা আমদানির ৫১ শতাংশ।
মঙ্গোলিয়ার কোকিং কয়লায় ছাই ও সালফারের পরিমাণ বেশ কম থাকে। ফলে এটি চীনের শানসি ও হেবেই প্রদেশের উচ্চ সালফারযুক্ত কয়লার সঙ্গে মিশ্রণের জন্য বেশ উপযোগী। এ মিশ্রণ প্রক্রিয়ার কারণে মান ঠিক রেখেই উৎপাদন খরচ কমাতে পারছে চীনা কারখানাগুলো।
চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা রফতানিকারক দেশ রাশিয়া বর্তমানে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে রুশ কয়লার ওপর চীনের ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ এবং খনি কোম্পানিগুলোর দেউলিয়াত্বের কারণে এ সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। পাশাপাশি শীতকালীন লজিস্টিক বা পরিবহন জটিলতার কারণে রুশ কয়লা বাজারে মূল্য সুবিধা হারাচ্ছে, যা চীনা ক্রেতাদের মঙ্গোলিয়ার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে।
তাছাড়া চীনের অভ্যন্তরীণ খনিগুলোয় দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ আরো সংকুচিত হয়েছে। গত ২২ মে শানসি প্রদেশের লিউশেনইউ খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের পর দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা নজরদারি শুরু হয়, যা স্থানীয় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। ফলে স্থানীয় খনিগুলো দেশের মোট চাহিদার মাত্র ৭৫ শতাংশ মেটাতে পারছে। এ ঘাটতি পূরণে এবং ইস্পাত কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে চীনা ক্রেতারা এখন মঙ্গোলিয়ার কয়লার ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানির এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বছরজুড়েই অব্যাহত থাকতে পারে।


