
ইউটিউব দেখে অকটেন তৈরির চেষ্টা, বিস্ফোরণে দগ্ধ ব্যবসায়ীর মৃত্যু
এপ্রিল ১৮, ২০২৬
মিরপুরের স্লো উইকেটে প্রথম ওয়ানডেতে হারল বাংলাদেশ
এপ্রিল ১৮, ২০২৬চাল উৎপাদনের প্রধান দুটি অঞ্চল কুষ্টিয়া ও নওগাঁ। গত এক মাস সেখানে চালের দাম বাড়েনি। কোনো কোনোটির দাম উল্টো কমেছে। দাম বাড়েনি রাজধানীর পাইকারি বাজারেও।
এর পরও মোটা চাল কেজিতে ৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা। গত রোববার থেকে দাম বাড়ার এ চিত্র উঠে এসেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনে।
মোটা চালের ভোক্তাদের অধিকাংশই নিম্ন আয়ের মানুষ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এ চালের দাম বাড়ায় তাদের জীবনমানকে আরো কঠিন করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
টিসিবির দৈনিক বাজারদরের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর খুচরা বাজারে গতকাল প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হয় ৫৫-৬০ টাকায়। গত রোববারের আগ পর্যন্ত তা ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ।
এদিকে কোনো কারণ ছাড়াই খুচরা বাজারে চালের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। নওগাঁর পার নওগাঁ মহল্লার আড়তদারপট্টিতে গতকাল সরজমিনে দেখা যায়, মিলগেট ও আড়তগুলোয় গত দেড় মাসে পাইকারি পর্যায়ে মানভেদে প্রতি কেজি চালের দাম ২ থেকে ৭ টাকা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি স্বর্ণা-৫ বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৩, জিরাশাইল ৬৭-৬৮ ও কাটারিভোগ ৭৪-৭৬ টাকা কেজিতে। দেড় মাস আগে প্রতি কেজি স্বর্ণা-৫ জাতের চাল ৪৬-৪৭, জিরাশাইল ৭৪-৭৫ ও কাটারিভোগ ৭৬-৭৮ টাকা দরে কেনাবেচা হয়।
পার নওগাঁ মহল্লার সততা রাইস এজেন্সির আড়তদার সুকুমার ব্রহ্ম বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে অনিয়ন্ত্রিত চালের আমদানি বন্ধ করেছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যারা এলসি করে রেখেছেন তাদের চাল এখনো দেশে আসছে। এতে চালের দাম কমেছে। ধান-চাল ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আগে নওগাঁ মোকাম থেকে দৈনিক অন্তত ১২০ ট্রাক চাল দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠানো হতো, বর্তমানে ৫০ ট্রাক চাল বিক্রি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। চালের ক্রেতা একেবারেই নেই।’
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ‘দেড় মাস ধরে আমদানির খেসারত দিচ্ছেন কৃষক ও চাল মিল ব্যবসায়ীরা। দেড় মাসের ব্যবধানে মানভেদে প্রতি কেজি চালের দাম ২ থেকে ৭ টাকা কমেছে।’
কুষ্টিয়াতেও চালের দাম বাড়েনি। জেলার খাজানগর এবং বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এক মাসের বেশি সময় ধরে মোকামে চালের দাম বাড়েনি। এ সপ্তাহেই বাজারে আসবে নতুন ধান। তাই আপাতত দাম বাড়ার সম্ভাবনাও দেখছেন না তারা। জেলাটিতে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। মাঝারি মানের চাল ৬২ থেকে ৬৬, মিনিকেট ৮২ থেকে ৮৬, আর নাজিরশাইলের দাম ৭২ থেকে ৭৮ টাকা।
খাজানগরের চাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দেশ এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল খালেক বলেন, ‘সাধারণত ধানের দাম বাড়লে চালের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। তখন মিলগেট থেকেই চালের দাম বাড়ে। যেটির প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়ে। এ মুহূর্তে বাজারে ধান সংগ্রহ নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা নেই, সরবরাহ ব্যবস্থায়ও সীমাবদ্ধতা নেই। ফলে দাম বাড়ার কোনো সুযোগ নেই।’
উৎপাদকদের পাশাপাশি দাম বাড়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরাও। কারওয়ান বাজারের জনপ্রিয় রাইস এজেন্সির ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চালের দাম বাড়বে কেন? কিছু চালের দাম কমেছে। সামনে বোরো উঠলে আরো কমবে। এখন বাড়ার কোনো সুযোগই নেই।’
উত্তর বাড্ডা এলাকার এক খুচরা চালের দোকানি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তার দোকানে ৫৮ টাকায় স্বর্ণা জাতের মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে। বেশ কিছুদিন থেকেই তিনি এ দামে বিক্রি করছেন। এ দামে বিক্রির বিষয়ে তার যুক্তি, অন্য চালের তুলনায় এটির বিক্রি কম। তুলনামূলক প্রত্যন্ত মহল্লা বা নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস যেখানে বেশি সেসব মহল্লায় এটির বিক্রি বেশি। অন্যান্য জায়গায় বিক্রি কম। সে জন্য অন্য চালের তুলনায় খুচরা দোকানিরা এ চালে মুনাফা বেশি করেন।’
তবে তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আড়ত থেকে বেশি দামে কেনার দাবি করে মধ্য বাড্ডার এক দোকানি বলেন, ‘পরিবহন খরচ বেড়েছে। সেজন্য মাছ, মাংস, শাকসবজি, চালেও খরচ বেড়েছে। কেউ কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করছে আবার সীমিত লাভেই আগের দামে বিক্রি করছে। দোকানভেদে খুচরা জিনিসের দাম একটু কম-বেশি হয়।’
ভাটারা এলাকায় সরাফত আলী নামের এক রিকশাচালকের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি সে সময় বলেন, ‘বেশির ভাগ সময় আটাশ চাল কিনি। যখন আয় কম থাকে তখন মাঝেমধ্যে মোটা চাল কিনি। ওইটার দামও বেড়ে গেছে। শাকসবজি-তেল-মাছের দামও বেশি। যাদের আয় একেবারে কম তারা এবার বিপদে পড়বে।’
বাজার মনিটরিংয়ের দুর্বলতার সুযোগ অসাধু ব্যবসায়ীরা নিচ্ছে জানিয়ে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখন জ্বালানির সংকট চলছে। কোথাও কোথাও পরিবহন খরচও কিছুটা বেড়েছে। যেটিকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। চালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়ার মতো পরিবহন ব্যয় তো বাড়েনি। এটি হচ্ছে দুর্বল বাজার মনিটরিং ব্যবস্থার কারণে।’ ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শও দেন তিনি।


