
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে বিমান জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা, আগাম প্রস্তুতির আহ্বান
এপ্রিল ১৮, ২০২৬ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গতকাল তিনি এ সম্ভাবনার কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। ট্রাম্পের দাবি, বোঝাপড়ার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
নেভাদা ও অ্যারিজ়োনা সফরের প্রাক্কালে আলোচনার সময় এক সাংবাদিক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তিনি কি ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে পাকিস্তানে যাবেন?’ জবাবে ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমি হয়তো যাব, হ্যাঁ। যদি ইসলামাবাদে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, আমি হয়তো যাব। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল (আসিম মুনির) চমৎকার, প্রধানমন্ত্রী (শাহবাজ শরিফ) সত্যিই অসাধারণ। তাই আমি হয়তো যাব, তারা আমাকে চায়।’
পাকিস্তানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান দারুণ কাজ করছে। তারা খুব ভালো ভূমিকা রাখছে। যদি ইসলামাবাদে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে আমি সেখানে যেতে পারি।’
এখন পর্যন্ত ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই দ্বিতীয় দফা আলোচনার তারিখ ঘোষণা করেনি। তবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা ইরানের সঙ্গে চুক্তির খুব কাছাকাছি।’ তিনি দাবি করেন, ইরান ২০ বছর পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্পের এ দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলছে। শিগগিরই সে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরাচ্ছে। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি চাইলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো বাড়াতে পারেন। তবে তেমন করার আর প্রয়োজন হবে না বলেই মনে করছেন তিনি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে, দ্বিতীয় দফা আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে ওয়াশিংটন ও তেহরান ইসলামাবাদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছে। তবে বৈঠকের কোনো দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি আল জাজিরাকে বলেন, কারা আসবেন, প্রতিনিধি দল কত বড় হবে এবং কারা আলোচনায় থাকবেন তা দুই পক্ষই ঠিক করবে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনার বিষয়বস্তু গোপন রাখা আমাদের দায়িত্ব।
এদিকে লেবানন যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়ার ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু মাত্র ৫ মিনিটের নোটিসে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন। সে বৈঠক থেকে ফাঁস হওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, মন্ত্রীরা যুদ্ধবিরতি বিষয়ে ভোট দেয়ার সুযোগ পাননি। অনেকেই বলছেন নেতানিয়াহু মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন। তবে ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতার অংশ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এটি অর্জিত হয়েছে।


