
সিটি ব্যাংকের ১১৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন
এপ্রিল ১৮, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে বিমান জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা, আগাম প্রস্তুতির আহ্বান
এপ্রিল ১৮, ২০২৬ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংকট শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজার থেকে ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ও ঘনীভূত জ্বালানি হারিয়ে গেছে। আধুনিক ইতিহাসে এটিই জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় বিঘ্ন ঘটার ঘটনা
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর গত ৫০ দিনে বিশ্ববাজার থেকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের অপরিশোধিত তেল হারিয়ে গেছে। বিশ্লেষক ও রয়টার্সের হিসাব বলছে, এ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব আগামী কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার জানান, হরমুজ প্রণালী বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দ্রুতই একটি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ অবসানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, যদিও এর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো অনিশ্চিত। তবে তার কয়েকঘন্টা পরই ইরানের বন্দরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন, জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংকট শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজার থেকে ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ও ঘনীভূত জ্বালানি হারিয়ে গেছে। আধুনিক ইতিহাসে এটিই জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় বিঘ্ন ঘটার ঘটনা।
উড ম্যাকেঞ্জির প্রধান বিশ্লেষক ইয়ান মোয়াট জানান, এ পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে বিশ্বের বিমান চলাচলের ১০ সপ্তাহের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক মাসের তেলের চাহিদার সমান অথবা মার্কিন সামরিক বাহিনীর টানা ছয় বছরের জ্বালানি খরচের সমান।
যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো মার্চ মাসে দৈনিক প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন হারিয়েছে। কেপলারের সিনিয়র বিশ্লেষক জোহানেস রাউবল জানান, যুদ্ধের সময় তেলের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ধরে হিসাব করলে এ লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। এ বিশাল অংক লাটভিয়া বা এস্তোনিয়ার মতো দেশের মোট জিডিপির সমান।
জ্বালানি রপ্তানির চিত্রে দেখা যায়, সৌদি আরব, কাতার ও আমিরাতসহ অঞ্চলের দেশগুলোর জেট ফুয়েল বা বিমান জ্বালানি রপ্তানি ফেব্রুয়ারি মাসের ১৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কমে মার্চ-এপ্রিল নাগাদ মাত্র ৪ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে।
তেলের উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেপলারের মতে, কুয়েত ও ইরাকের ভারি তেলের খনিগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও ৪-৫ মাস সময় নিতে পারে। এছাড়া কাতার ও এই অঞ্চলের রিফাইনারি ও এলএনজি কমপ্লেক্সগুলোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুরোপুরি সারিয়ে তুলে জ্বালানি অবকাঠামো পূর্বাবস্থায় ফেরাতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।


