জ্বালানি স্থাপনায় ইরান-ইসরায়েলের হামলা বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম
মার্চ ২০, ২০২৬
পদ্মা সেতুতে তিনদিনে ১২ কোটি টাকার টোল আদায়: সেতু কর্তৃপক্ষ
মার্চ ২০, ২০২৬
জ্বালানি স্থাপনায় ইরান-ইসরায়েলের হামলা বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম
মার্চ ২০, ২০২৬
পদ্মা সেতুতে তিনদিনে ১২ কোটি টাকার টোল আদায়: সেতু কর্তৃপক্ষ
মার্চ ২০, ২০২৬

শেষ মুহূর্তে ঢাকা ছাড়তে বাসস্ট্যান্ড-রেলস্টেশন লঞ্চঘাটে মানুষের ভিড়

ঈদুল ফিতরের আর মাত্র একদিন বাকি। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন হাজারো মানুষ।

শেষ মুহূর্তে ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। কর্মব্যস্ততা, টিকিট সংকট কিংবা অন্যান্য কারণে আগে যাত্রা করতে না পারা অনেকেই শেষ সময়কে বেছে নিয়েছেন বাড়ি ফেরার জন্য।

গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, হাতে ব্যাগ-বোঝাই, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউবা একাই ছুটছেন বাড়ির পথে। অনেককে নির্ধারিত সময়ের আগেই এসে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে, যাতে কোনোভাবেই যাত্রা মিস না হয়।

বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বেশি দেখা গেছে। টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে নিয়মিত ট্রিপের পাশাপাশি বিশেষ ট্রিপও পরিচালনা করা হচ্ছে।

গাবতলী বাস টার্মিনালে রংপুরগামী যাত্রী মিজানুর রহমান বলেন, ‘অফিসের কাজের কারণে আগে বের হতে পারিনি। আজকেই শেষ সুযোগ, তাই একটু কষ্ট হলেও বাড়ি যাচ্ছি। পরিবার নিয়ে ঈদ করার আনন্দটাই আলাদা।’

কমলাপুর রেলস্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, ‘টিকিট পাওয়া খুব কঠিন ছিল। কয়েকদিন চেষ্টা করে অবশেষে পেয়েছি। ভিড় একটু বেশি, কিন্তু বাড়ি ফিরতে পারছি—এটাই বড় স্বস্তি।’

রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে এরই মধ্যে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে এসেছে। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ, পল্টন, মতিঝিলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অন্য সময়ের মতো যানজট নেই। যে সড়কগুলোতে স্বাভাবিক সময়ে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে, সেখানে এখন তুলনামূলক স্বস্তিতে চলাচল করা যাচ্ছে। অনেক পথই অল্প সময়েই পাড়ি দেয়া সম্ভব হচ্ছে।

ফাঁকা সড়কে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল বেড়েছে। চালকরা জানিয়েছেন, যানজট না থাকায় তারা দ্রুত যাতায়াত করতে পারছেন। কিছু যাত্রী বাড়তি ভাড়াও দিচ্ছেন, যা তাদের আয়ের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা জানান, যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদার কারণে তাদের বহরের একটি বড় অংশ এখন আন্তঃজেলা রুটে পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে অতিরিক্ত ট্রিপ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রেন ও লঞ্চেও যাত্রীদের চাপ অব্যাহত রয়েছে, যদিও সময়সূচি ঠিক রাখতে কর্তৃপক্ষ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাস, রেল ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছেন। যাত্রী হয়রানি, টিকিটের কালোবাজারি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতও সক্রিয় রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *