ইসরায়েলের মন্ত্রণালয় লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মার্চ ২০, ২০২৬
ইসরায়েলের মন্ত্রণালয় লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মার্চ ২০, ২০২৬

তিন হাজার কিলোমিটার রেলপথে উদ্ধার ট্রেন মাত্র ৬টি রেলওয়ের দুর্ঘটনা-পরবর্তী উদ্ধার ব্যবস্থাপনা এখনো সেকেলে

বাংলাদেশ রেলওয়ের রুট প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার। গত দেড় দশকে রেলে বিপুল বিনিয়োগও হয়েছে।

কিন্তু দুর্ঘটনা-পরবর্তী উদ্ধার ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট মনোযোগ পায়নি। রেলওয়ের উদ্ধারকারী ট্রেন রয়েছে গুটিকয়েক। এ কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনায়ও উদ্ধার ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে লম্বা সময় লাগছে।

দুটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগ রয়েছে চারটি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় গড়ে ৩৫০টির বেশি ট্রেন চলাচল করে। উভয় অঞ্চলে উদ্ধার ট্রেন রয়েছে তিনটি করে মোট ছয়টি। এ কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার ট্রেন আসতেই সময় লাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ফলে দেশব্যাপী ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যাও বেড়ে যায়।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, পূর্বাঞ্চলে ভারী উদ্ধার ট্রেন রয়েছে ঢাকা, আখাউড়া ও চট্টগ্রামে। অপরদিকে পশ্চিমাঞ্চলের ঈশ্বরদী, পার্বতীপুর ও খুলনায় একটি করে ভারী ও কার্যকর উদ্ধার ট্রেন বা রিলিফ ট্রেন আছে। ফলে দেশের প্রধান কয়েকটি স্টেশন বা সেকশন ছাড়া বিভিন্ন রুটে দুর্ঘটনা হলে অন্তত ৩ ঘণ্টা থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার ট্রেন পৌঁছতে। এ পরিস্থিতিকে দেশের আধুনিক রেল ব্যবস্থাপনার বড় ঘাটতি বলে মানছেন রেল কর্মকর্তারাও।

সর্বশেষ বুধবার বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস নামের একটি আন্তঃনগর ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়ে। দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা পর উদ্ধার অভিযান শেষ করে পুনরায় ট্রেন চলাচল চালু করতে সমর্থ হয় রেলওয়ে। দেড় দশকে দেড় লাখ কোটি টাকা অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ হলেও উদ্ধার ব্যবস্থাপনায় যে রেলের আধুনিকায়ন হয়নি, তা এ ধরনের দুর্ঘটনায় ফুটে ওঠে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলওয়ের তথ্যমতে, বুধবারের দুর্ঘটনার পর খবর দেয়া হলে ঘটনাস্থলে উদ্ধার ট্রেন আসতে সময় লাগে ৫ ঘণ্টা। ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে দুটি রিলিফ ট্রেন এসে লাইনচ্যুত নয়টি কোচ লাইনে তুলতে ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এরপর কোচগুলো ফিট দিয়ে লাইন ক্লিয়ার করে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় পশ্চিমাঞ্চলে। আর ঈদের মাত্র তিনদিন আগে রেলের একটি অঞ্চলে ২২ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিঘ্নিত হয়েছে এ পথের ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা।

জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণে গত দুই দিনে অন্তত চারটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়। এর মধ্যে বুধবার ঢাকামুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস, সীমান্ত এক্সপ্রেস এবং বৃহস্পতিবার একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণে শতাধিক ট্রেন নির্ধারিত সময়ে স্টেশন থেকে ছাড়তে পারেনি।

জানতে চাইলে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঈদের কয়েকদিন আগে দুর্ঘটনার কারণে কিছু ট্রেনের যাত্রা বাতিল হয়েছে। ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে উদ্ধার ক্রেন (ট্রেন) আসতে কিছুটা সময় লেগেছে। আবার নয়টি কোচ ডি-রেইল হওয়ায় উদ্ধার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়। এরপরও সবকিছু সম্পন্ন করে ঈদের আগে যাত্রীদের জন্য ট্রেন সার্ভিস শুরু করতে পেরেছি।’ কিছুটা বিলম্ব হলেও রাত থেকে ট্রেনের শিডিউল ঠিক হয়ে যাবে বলে গত রাতে জানিয়েছেন তিনি।

রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, রেলের দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ডি-রেইল বা লাইনচ্যুতি একটি সাধারণ ট্রেন দুর্ঘটনা। কিন্তু উদ্ধারকারী ট্রেন বা যন্ত্রপাতি সময়মতো পাওয়া না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনায়ও উদ্ধারকাজে অনেক সময় ব্যয় হয়। বড় বিনিয়োগের পরও এ ধরনের যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে রেলওয়েতে।

এ ঘাটতির বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেনও একমত পোষণ করেন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রেলওয়েতে ছয়টি বড় উদ্ধারকারী ট্রেন আছে। তবে এর বাইরেও বেশ কয়েকটি ছোট ক্রেন আছে। বড় দুর্ঘটনা হলে বড় উদ্ধার ট্রেন ছাড়া দ্রুত উদ্ধারকাজ করা যায় না। আমরা এখন চারটি বড় উদ্ধার ট্রেন কিনতে প্রকল্প তৈরি করছি।’ সরকার বা দাতা সংস্থার অর্থায়ন পাওয়া গেলে সুষ্ঠু ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে রাজশাহী, লালমনিরহাট, ভাঙ্গা/রাজবাড়ী, কক্সবাজার ও কুলাউড়ায় বড় উদ্ধার ট্রেন রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রেলওয়ের তথ্যমতে, বড় ক্রেন ছাড়াও পূর্বাঞ্চলের আখাউড়া, ময়মনসিংহ ও কুলাউড়ায় ছোট ক্রেন আছে। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলের ছোট আকারের কিছু উদ্ধার সরঞ্জাম রয়েছে। বিদ্যমান বড় ট্রেনগুলো পুরনো হওয়ায় দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করতেও সময়ক্ষেপণ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *