
দুই সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৪০%
মার্চ ১৭, ২০২৬
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে এপ্রিলে হোম সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ
মার্চ ১৭, ২০২৬বোর্ড মনে করে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুরক্ষার স্বার্থে এই তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করা জরুরি। বিসিবি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যাতে তারা বিষয়টি এমনভাবে নিষ্পত্তি করে যা দেশের ক্রিকেটের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখে। মূলত ক্রিকেট বোর্ডের স্বায়ত্তশাসন রক্ষাকেই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে তারা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কার্যক্রমে সরকারি হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিসিবি। গত বছরের বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার পরই এই প্রতিক্রিয়া জানায় বোর্ড। অতীতে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল।
সোমবার এক বিবৃতিতে বিসিবি জানিয়েছে, গেজেট জারির প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তারা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে, যাদের আগামী ১১ মার্চ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটিকে গত বছরের বিসিবি নির্বাচনে ‘অনিয়ম, কারসাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার’ সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। ওই নির্বাচনে আমিনুল ইসলাম পুনরায় বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হন।
বিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আইসিসির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় উত্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ব্যবস্থাপনায় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।‘
বিসিবি আরো জানায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সমাধান করা প্রয়োজন। আইসিসির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের আগে গেজেটের প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে তারা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে চায়।
বোর্ড মনে করে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুরক্ষার স্বার্থে এই তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করা জরুরি। বিসিবি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যাতে তারা বিষয়টি এমনভাবে নিষ্পত্তি করে যা দেশের ক্রিকেটের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখে। মূলত ক্রিকেট বোর্ডের স্বায়ত্তশাসন রক্ষাকেই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে তারা।
বিসিবির গত নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের করা অভিযোগ থেকে। তামিমের অভিযোগ ছিল, আমিনুল ইসলাম সভাপতি থাকাকালীন নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে একটি চিঠির মাধ্যমে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে নির্দিষ্ট কিছু জেলার কাউন্সিলর পরিবর্তনের অনুরোধ করেছিলেন। এছাড়াও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ দুই দফায় পরিবর্তন করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তামিম। শেষ পর্যন্ত ১ অক্টোবর তামিম তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন এবং ৫ অক্টোবর আমিনুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ভোটের দিন তামিম এবং ঢাকা ক্লাব কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ ‘নির্বাচনে কারচুপির’ অভিযোগ তোলেন। ফলাফল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৎকালীন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে তাদের একজন মনোনীত পরিচালকের নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছিল, কারণ সামাজিক মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়। এরপর থেকেই ঢাকার ক্লাবগুলোর একটি বড় অংশ এই বর্তমান বোর্ডকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়ে আসছে এবং তারা ২০২৫-২৬ মৌসুমের ঢাকা লিগগুলো বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে।


