
২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষ গমের রেকর্ড উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে মিসর
মার্চ ১৭, ২০২৬
ইএসপিএন ক্রিকইনফো তদন্ত কমিটি নিয়ে উদ্বেগ, সরকারকে বিসিবির সতর্কবার্তা
মার্চ ১৭, ২০২৬যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে জ্বালানি তেলের দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে এশীয় দেশগুলোসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলার। তবে শনিবার এ দাম দ্রুত বেড়ে ১০৩ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৩০ ডলার। শতকরা হিসাবে এ বৃদ্ধির হার ৪১ দশমিক ১ শতাংশ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর বড় ধরনের হামলার পর এ সামরিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। এ হামলায় ইরানের সামরিক স্থাপনা ও নেতৃত্বের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর বাজারে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আগামী দিনগুলোয় এ সংঘাতের গতিপ্রকৃতিই বিশ্ববাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। এনরিচ মানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পনমুদি আর বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে জ্বালানি তেলের বাজার অত্যন্ত অস্থিতিশীল থাকতে পারে। কারণ বিনিয়োগকারীরা এখন এ ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে গভীরভাবে নজর রাখছেন।’
পনমুদি আর আরো বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের খবরের ওপর ভিত্তি করেই বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। এ পরিস্থিতিতে জড়িত দেশগুলোর সরকারি কর্মকর্তা ও বৈশ্বিক অংশীজনরা কী ধরনের বিবৃতি দেন, বিনিয়োগকারীরা সেদিকেও খেয়াল রাখছেন। উত্তেজনা আরো বাড়ে নাকি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয়, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা জ্বালানি তেলের দামের প্রবণতা ও বৈশ্বিক বন্ডের মুনাফার ওপর প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে এটি মুদ্রাবাজারের অস্থিরতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এখন হরমুজ প্রণালির দিকে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে। কারণ এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ। এ পথ দিয়ে পণ্য পরিবহন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা আরো সংকুচিত হবে। এতে এশিয়াজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মাঝে ঝুঁকি নেয়ার মানসিকতাও কমে আসতে পারে।


