তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ মঙ্গলবার
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
তারেক রহমান আজ জামায়াত আমির ও এনসিপি আহ্বায়কের বাসায় যাচ্ছেন
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ মঙ্গলবার
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
তারেক রহমান আজ জামায়াত আমির ও এনসিপি আহ্বায়কের বাসায় যাচ্ছেন
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

মত-পথ ভিন্ন হতে পারে, তবে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের চিন্তাভাবনাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের চিন্তাভাবনাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে এবং দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে এজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

গতকাল বিকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম। একইভাবে এবার দুর্নীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের প্রতি জবাবদিহির মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যে যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি। একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে আমি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্ন মতের সবার সহযোগিতা আশা করছি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘এ বিজয় বাংলাদেশের। এ বিজয় গণতন্ত্রের ও গণতন্ত্রকামী জনগণের। আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন। সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে আপনারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছেন। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে।’

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল এবং সারা দেশে জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিল। ৩১ দফার আলোকে ঘোষণা করা হয়েছিল দলীয় ইশতাহার। একই সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে “নোট অব ডিসেন্ট” দিয়ে বিএনপি জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছিল। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব।’

তারেক রহমান বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে বলেন, ‘সারা দেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থক ছাড়াও দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে আজকের এ সময়টি ভীষণ আনন্দের। এমন এক আনন্দঘন পরিবেশে আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদের ভারাক্রান্ত করে। রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এমন একটি গণতান্ত্রিক সময়ের প্রত্যাশায় তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে লড়েছিলেন। দেশ ও জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে বরাবরই তিনি ছিলেন অটল অবিচল।’

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা রাজনৈতিক দলগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোই মূলত গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার ও বিরোধী দল যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে অবশ্যই দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। জনমনে সৃষ্ট সব সংশয় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশে শান্তিপূর্ণভাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এজন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। জনগণের প্রত্যাশিত এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গণতন্ত্রের ইতিহাসে আপনাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার দীর্ঘ এ সময়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, হতাহত হয়েছেন, আজকের এ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে সেসব বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। যারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন, হতাহত হয়েছেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আপনাদের ভূমিকাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ রাখবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত বিএনপিকে দেশের জনগণ আবারো রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে। জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা দেখিয়েছে, এবার জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজের মাধ্যমে এ বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। এবার আমি সারা দেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলতে চাই, শত নির্যাতন-নিপীড়নের পরও আপনারা রাজপথ ছাড়েননি।’

দেশ পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দল-মত-ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্ন মত যা-ই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেয়া হবে না। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সব প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে।’

সংবাদ সম্মেলনে দেশী-বিদেশী সাংবাদিকরা বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক খাতের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারেক রহমানকে প্রশ্ন করেন। ভারতীয় সাংবাদিক অশোক রাজ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই বিএনপি তাদের পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করবে।’

ভারত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা কীভাবে হবে, তা জানতে চান যুক্তরাজ্যের দি ইনডিপেনডেন্টের সাংবাদিক আলিশা রহমান সরকার। বিএনপি সরকার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ভাগ্নি যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতির মামলা এগিয়ে নিয়ে যাবে কিনা, সে প্রশ্নও করেন তিনি। এ প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারে পররাষ্ট্রনীতি সব দেশের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশকে কেন্দ্র করে হবে না।’

সরকার গঠন করার পর বিএনপির মূল চ্যালেঞ্জ কী হবে, তা জানতে চান কাতারভিত্তিক আল জাজিরার একজন সাংবাদিক। তারেক রহমান বলেন, ‘বেশকিছু চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে রয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে ঠিক করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বিগত সরকার প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকীকরণ করেছে। সেজন্য সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।’

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়ন এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ কৌশলকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য কীভাবে দেখছেন—চীনের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করব, যা কিছু বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে না, স্বাভাবিকভাবেই আমরা সেদিকে যাব না।’ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা যদি দেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক হয়, তখন সিদ্ধান্ত নেব।’

তরুণদের বিএনপি কতটা গুরুত্ব দেবে—এমন প্রশ্ন করেন একজন বিদেশী সাংবাদিক। তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অবশ্যই তরুণদের কথা শুনব। কিন্তু সমাজে আরো অনেকে রয়েছেন। সবার কথা ভাবতে হবে। আমাদের ইশতাহারেও আমরা সবার কথা বলেছি। সেখানে তরুণদের কথা আছে, বয়স্কদের কথা আছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কথা আছে, নারীদের কথা আছে।’

শেখ হাসিনার বিচার ও সার্ক পুনর্গঠনের বিষয়ে জানতে চান পাকিস্তানের জিও নিউজের সাংবাদিক এজাজ সাইদ। তারেক রহমান বলেন, ‘সার্ক গঠনের উদ্যোগ বাংলাদেশের ছিল। তাদের সরকার সার্ককে সক্রিয় করতে চায়। সরকার গঠনের পর তারা এ বিষয়ে আলোচনা করবেন।’ শেখ হাসিনার বিচারের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এটা আইনি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কোন খাতকে বেশি সম্ভাবনাময় মনে হচ্ছে তা জানতে চান চীনের আরেকজন সাংবাদিক। তারেক রহমান বলেন, ‘অনেকের মতো চীনও বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার। আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে দুই দেশই একসঙ্গে কাজ করবে।’

ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের সাংবাদিক ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিএনপির পরিকল্পনা জানতে চান। তারেক রহমান বলেন, তারা আরো বেশি ব্যবসা নিয়ে আসবেন এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবেন।

গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে বিগত সরকারের কর্মী-সমর্থকরা রয়েছেন। তাদের মূল ধারায় ফেরানোর পরিকল্পনা জানতে চান একজন বিদেশী সাংবাদিক। জবাবে তারেক রহমান আইনের শাসন নিশ্চিত করার কথা বলেন। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইন সবার জন্যই সমান। আমরা চেষ্টা করব আইন যেন আইনের মতো করে চলে।’

বিগত সরকারের আমলে অলিগার্ক তৈরি করে অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন সরকার কী পদক্ষেপ নেবে—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অর্থনীতি হবে। সবাই সবার যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিকে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। কোনো বিশেষ মহলকে আলাদা সুযোগ দেয়া হবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *