বরিশাল ও নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
মত-পথ ভিন্ন হতে পারে, তবে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
বরিশাল ও নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
মত-পথ ভিন্ন হতে পারে, তবে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ মঙ্গলবার

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ আগামী মঙ্গলবার বিকালে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ শপথ পড়াবেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ আগামী মঙ্গলবার বিকালে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ শপথ পড়াবেন। তার আগে সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। সংসদ সচিবালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত শুক্রবার রাতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন হলেও এবার তার ব্যতিক্রম হচ্ছে। প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হচ্ছে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান। এজন্য গতকাল থেকে সেখানে সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়।

এদিকে নতুন মন্ত্রীদের জন্য মনোগ্রাম ও পতাকা স্ট্যান্ডযুক্ত ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গাড়িচালক হিসেবে ৪৭ জনকে চূড়ান্ত করেছে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর। গতকাল ছুটির দিনে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে এসব চালক নির্বাচন করা হয়। এছাড়া সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী রাখা হলে তাদের জন্য গানম্যান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর সরকারপ্রধানদেরও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের এক নেতা জানিয়েছেন। যদিও গতকাল রাতে বিএনপির মিডিয়া সেল বণিক বার্তাকে জানায়, এখনো শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য কোনো সরকারপ্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হয়। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তাতে বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে বাকি দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। সেগুলোয়ও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। তাদের শরিকরা পেয়েছে আরো তিনটি আসন।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দশক পর আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। অন্যদিকে তাদের একসময়কার মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলের চেয়ারে বসতে যাচ্ছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্য শরিকরা পেয়েছে নয়টি আসন। গত শুক্রবার রাতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব থাকে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার অথবা রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনো ব্যক্তির ওপর। তবে তারা কেউ শপথ পাঠ করাতে ব্যর্থ হলে গেজেট প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেই দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কোথায় অবস্থান করছেন তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে রয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রেক্ষাপটে সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। একদিকে রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করা, অন্যদিকে গেজেট প্রকাশের তিনদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ নেয়া। তবে বিএনপি নেতাদের আশঙ্কা, প্রথম পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভবিষ্যতে এ নিয়ে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সে জটিলতা এড়াতে আগামী মঙ্গলবার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সচিবালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ বিষয়ে মতামত নিতে সংসদ সচিবালয় থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। সেখান থেকে জানানো হয়, গেজেট প্রকাশের তিন কর্মদিবস পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ পড়াতে কোনো বাধা নেই। এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামী মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।’

গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেয়া হয়। তার দেড় বছর পর নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। তবে সংসদ না থাকলেও সংসদ ভবন এলাকায় এ সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশনের কার্যালয়ও সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপন করা হয়। পরে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এবং সর্বশেষ তিনটি নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম তদন্ত কমিশনের কার্যালয়ও স্থাপন করা হয় একই এলাকায়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে জুলাই জাতীয় সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটিও আয়োজন করা হয়েছিল সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *