
কুষ্টিয়ায় মানুষ ডুবলে ডুবুরি ডাকতে হয় ১৫০ কিলোমিটার দূর থেকে
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
পানিতে ডুবে দুই জেলায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময় দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘাটতি ছিল প্রায় এক হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বেশি। এ ঘাটতি লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।
জ্বালানি সংকটে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বেড়েছে লোডশেডিং। বিশেষ করে মধ্যরাতে বিদ্যুৎ ঘাটতি তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ভারতের আদানি পাওয়ারের গড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বয়লার কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নতুন করে আরো চাপ তৈরি হয়েছে। এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি)। ত্রুটি সারিয়ে ইউনিটটি চালু করতে ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিপিডিবি কর্মকর্তারা।
বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট। তবে গরমের কারণে রাতের দিকে চাহিদা আরো বেড়ে ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হচ্ছে। এ সময় জ্বালানি সংকটে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির মাধ্যমে লোডশেডিং সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময় দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘাটতি ছিল প্রায় এক হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বেশি। এ ঘাটতি লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।
এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়েছে। বুধবার রাত ১২টায় কেন্দ্রটি সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছিল। এরপর উৎপাদন কমে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে নেমে আসে। গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে ৭৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে।
বিপিডিবির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আদানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আগে থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছিল না। এর মধ্যে বয়লারে ত্রুটি দেখা দেয়ায় একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। ত্রুটি মেরামত করে ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় লাগতে পারে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিডিবির এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ায় গত কয়েকদিন লোডশেডিং বেড়েছে। আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বয়লার ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে লোডশেডিং আরো কিছুটা বাড়তে পারে। তবে অন্য কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে মধ্যরাতে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের জন্য বিদ্যুতের চাহিদার প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৭ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। রাত ১টায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ১৬ হাজার ৪০৪ মেগাওয়াট। এ সময় লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৮১ মেগাওয়াট। রাত ১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিং ছিল প্রায় ১ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি পর্যন্ত।
অন্যদিকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চাহিদা ছিল প্রায় ১৩ হাজার ২০০ থেকে সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে। এ সময় লোডশেডিং করতে হয় ২০০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান ঘাটতির মূল কারণ হিসেবে জ্বালানি সংকটকেই দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে এ উৎস থেকে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মতো।
বর্তমানে জ্বালানি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াট এবং সৌর, জলবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুৎ মিলিয়ে এক হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট।
জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ অব্যবহৃত থাকায় চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। গরমের তীব্রতা বাড়লে বিশেষ করে রাতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে এ ঘাটতি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা।


