মার্কিন এইচ-১বি ভিসা চাকরি হারানোদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই: জামায়াত আমির
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
মার্কিন এইচ-১বি ভিসা চাকরি হারানোদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই: জামায়াত আমির
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

আইএমএফের প্রতিবেদন চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে ৩ শতাংশ

আইএমএফের গত জুলাইয়ে প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ঊর্ধ্বমুখী দাম, সরকারি ঋণ বেড়ে যাওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতি কমানোর প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। খবর আরব নিউজ।
ওয়াশিংটনে আইএমএফের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে গতকাল সংস্থার মুখপাত্র জুলি কোজাক আন্তর্জাতিক অর্থনীতির এমন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস ধরে যুদ্ধ চললেও বিশ্ব অর্থনীতি এখন পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই এ ধাক্কা সামলিয়েছে। তবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার এখনো ঊর্ধ্বমুখী। ফলে যুদ্ধের ধাক্কায় তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট এখনো পুরোপুরি কেটে যায়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘যুদ্ধের প্রথম দিকে বিশ্বজুড়ে অনেক দেশই নিজেদের জরুরি জ্বালানি মজুদ বা স্ট্র্যাটেজিক ওয়েল রিজার্ভ ব্যবহার করে অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছে। এছাড়া অনেক দেশ বিকল্প জ্বালানির উৎসের দিকে ঝুঁকেছে কিংবা অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের কারণে যুদ্ধজনিত সংকটের সরাসরি প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বেশ শ্লথই রয়ে গেছে।’
আইএমএফের গত জুলাইয়ে প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ শতাংশ। এটি ২০২৪ ও ২০২৫ সালের গড় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় স্পষ্টতই কম। চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেয়া পূর্বাভাসে আইএমএফ ধারণা করেছিল, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ হয়তো প্রশমিত হতে শুরু করবে। কিন্তু বাস্তবতা তার বিপরীত। অঞ্চলটিতে সামরিক সংঘাত কমে আসার বদলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আরো তীব্র রূপ নিয়েছে। এমনকি ইয়েমেনে সামরিক তৎপরতা বাড়ায় যুদ্ধ এখন আরো বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিশ্ববাজারকে প্রতিনিয়ত অস্থিতিশীল করে তুলছে।
জ্বালানি সংকট বড় উদ্বেগ
বিশ্ব অর্থনীতির এমন বৈপরীত্য বোঝাতে গিয়ে আইএমএফ মুখপাত্র বলেন, ‘বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, সার, খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। পাশাপাশি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এতে বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে যে নতুন প্রযুক্তিগত জোয়ার তৈরি হয়েছে, তা বিশ্বজুড়ে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক অর্থনৈতিক চাহিদার সৃষ্টি করেছে। এ প্রযুক্তি খাতই মূলত অন্যান্য খাতের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দিতে সাহায্য করছে।
জ্বালানি বাজার নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগ রয়েছে। অনেক দেশকে নিজেদের জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ আবার পূরণ করতে হবে। একই সময়ে উত্তর গোলার্ধে শীত চলে আসছে। শীতকালে জ্বালানির চাহিদা সাধারণত বাড়ে। ফলে আগামী কয়েক মাসে জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২২ সালের জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের পর বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর যে প্রক্রিয়া বা ডিসইনফ্লেশন শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে স্বল্পমেয়াদে পণ্যের বাজার ও জীবনযাত্রার ব্যয় ফের অস্থির হয়ে উঠেছে। সংস্থাটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে মূল্য স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
বাড়ছে সরকারি ঋণের চাপ
বিশ্ব অর্থনীতির আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো সরকারি ঋণ। আইএমএফ বলছে, বিশ্বব্যাপী সরকারি ঋণের পরিমাণ এখন বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই সর্বোচ্চ। সামনে ঋণের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।
বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোয় জিডিপির তুলনায় সরকারি ঋণের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অন্যদিকে দ্বিপক্ষীয় বৈদেশিক আর্থিক সহায়তা বা সাহায্য কমে যাওয়ায় আফ্রিকা মহাদেশসহ বিশ্বজুড়ে বহু উন্নয়নশীল দেশ তীব্র নগদ অর্থের সংকট বা তারল্য সংকটে পড়েছে। এ কারণে সরকারগুলোকে মাঝারি মেয়াদে বাজেট ঘাটতি ও ঋণ কমানোর পরিকল্পনা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।
কোজাক বলেন, ‘এজন্য রাতারাতি বড় ধরনের ব্যয় কমানোর প্রয়োজন নেই। তবে ঘাটতি ও ঋণ কীভাবে ধীরে ধীরে কমানো হবে, সে বিষয়ে সরকারের একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা থাকা জরুরি।’
ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাবও পর্যবেক্ষণ করছে আইএমএফ। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তৃতীয় কোনো দেশের যেসব প্রতিষ্ঠান ইরানকে সহায়তা করে, তাদের ওপরও ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
কোজাক বলেন, ‘এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি বাজারে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা আইএমএফ গভীরভাবে দেখবে। আগামী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে এ বিষয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন দেয়া হতে পারে।’
এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতি আশঙ্কার তুলনায় ভালোভাবেই সামলেছে বলে মনে করছে আইএমএফ। তবে সংঘাত আরো দীর্ঘ হলে এবং শীতকালীন জ্বালানির চাহিদা বাড়লে পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ ঋণ, মুদ্রাস্ফীতির চাপ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক দুর্বলতা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে থাকছে।
আগামী ১২-১৮ অক্টোবর ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আইএমএফ বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *