
সাত জেলায় বন্যায় ৫৪ জনের মৃত্যু, পানিবন্দি দেড় লাখের বেশি পরিবার
জুলাই ১৪, ২০২৬
চট্টগ্রাম ও পার্বত্যাঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত-বন্যা প্রত্যন্ত এলাকা বিদ্যুৎহীন, বিঘ্নিত হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্ক
জুলাই ১৪, ২০২৬দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ। ১১ কোটি ৭১ লাখ কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে প্রায় চার কোটি এখনো কর্মহীন বা আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের বাইরে।
দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক কর্মবাজার ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির চাহিদার প্রেক্ষাপটে এ বিশাল যুবগোষ্ঠীকে সনদসর্বস্ব শিক্ষিত হিসেবে নয়; বরং ভবিষ্যৎমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কর্মদক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার, শিল্প খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি বিনিয়োগও বাড়াতে হবে বলে অভিমত তাদের। অন্যথায় দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর কর্মবাজারে দেশের তরুণরা পিছিয়ে পড়বে এবং জনমিতিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কাজে লাগানোর সুযোগও হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে শিল্পের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলা, আপস্কিলিং-রিস্কিলিং, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের ওপরও জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল ঢাকায় বণিক বার্তার প্রধান কার্যালয়ে ‘তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক রূপান্তর: চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব মতামত উঠে আসে। বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বণিক বার্তা ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন বণিক বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সহকারী সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ বিশেষ সংবাদদাতা বদরুল আলম।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনএসডিএর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড এক্সপার্ট সৈয়দ আজহারুল হক। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এনএসডিএর সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) ও যুগ্ম সচিব মো. জোহর আলী। এছাড়া আলোচক হিসেবে ছিলেন শ্রম অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক শাহ আব্দুল তারিক, সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের (সিরামিক আইএসসি) চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম, ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মির্জা নুরুল গনী শোভন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাকসুদুর রহমান, ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (ডিটিটিটিআই) প্রিন্সিপাল ড. প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত আলী, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) হেড অব ট্রেনিং (উপমহাসচিব) জোহা জামিলুর রহমান, এনএসডিএর সদস্য (পরিকল্পনা ও দক্ষতা মান) ও যুগ্ম সচিব জেসমিন আক্তার, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ও যুগ্ম সচিব প্রিয়সিন্ধু তালুকদার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আল-নোমান ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির অতিরিক্ত নির্বাহী সচিব তামান্না সুলতানা।
সূচনা বক্তব্যে বণিক বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, ‘গ্লোবাল স্কিল রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষতার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর একটি। অথচ আমাদের কর্মীরা অত্যন্ত পরিশ্রমী; প্রয়োজন শুধু শিক্ষা, দক্ষতা ও শৃঙ্খলার উন্নয়ন। তরুণদের একটি বড় অংশ এখন না শিক্ষায়, না কোনো কর্মে যুক্ত। তাই জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মতো প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন। লজিস্টিকস, রোবোটিকস, ড্রোন প্রযুক্তিসহ নতুন পেশার চাহিদা বিবেচনায় ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর এখনই জোর দিতে হবে।’
শুভেচ্ছা বক্তব্যে এনএসডিএর সদস্য ও যুগ্ম সচিব মো. জোহর আলী বলেন, ‘আমাদের যে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা আছে, তার সঙ্গে ব্যবহারিক জ্ঞানের স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ঘাটতি কাটিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যেই এনএসডিএ শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।’
গোলটেবিলে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় সৈয়দ আজহারুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের ১১ কোটি ৭১ লাখ কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে প্রায় চার কোটি এখনো কর্মের বাইরে। দেশের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যাই তরুণ। এ বিশাল জনবলকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডে রূপ দিতে হলে সনদসর্বস্ব শিক্ষার পরিবর্তে শিল্পের চাহিদাভিত্তিক কারিগরি ও ব্যবহারিক দক্ষতায় জোর দিতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বাস্তবতায় আপস্কিলিং ও রিস্কিলিংয়ের মাধ্যমে কর্মীদের প্রস্তুত করার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও বিগ ডেটার মতো আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ, বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ ও স্মার্ট ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে তরুণদের বৈশ্বিক মানের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।’
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের হেড অব ট্রেনিং জোহা জামিলুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘স্কিল মিসম্যাচ বা দক্ষতার অমিল এখন দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। মোট শ্রমশক্তির মাত্র ১০ শতাংশ আনুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। প্রায় চার কোটি কর্মহীন মানুষের বড় অংশই তরুণ। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী “ডিমান্ড ফোরকাস্ট” ভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং ইন্ডাস্ট্রি, একাডেমিয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের সমন্বয়ে একটি ডিজিটাল ডেটাবেজ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে টিভেটের (কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা-প্রশিক্ষণ) অবকাঠামো উন্নয়ন, নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদার, ইন্টার্নশিপ ও ডুয়াল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ বাড়ানোর পাশাপাশি সফট স্কিল ও মিড-লেভেল ম্যানেজার তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে।’
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি উল্লেখ করে সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম বলেন, ‘এখন সবাই সরকারি কর্মকর্তা হতে চায়। এ সমস্যা ভারতেও শুরু হয়েছে। আমার মনে হয়, শিক্ষা অধিদপ্তরের সাইনবোর্ডে পরিবর্তন আনা উচিত। কারণ তারা প্রত্যাশিত ডেলিভারি দিতে পারছে না। আবার বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে কারিগরি শিক্ষায় রূপান্তরে বেশ জটিলতা আছে। একজন উদ্যোক্তা যদি নিজের টাকা দিয়ে একটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার করতে চান, তবু তিনি তা সহজে পারবেন না। সরকারি নানা জটিলতা রয়েছে।’
দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হলে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মির্জা নুরুল গনী শোভন বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ ও উদ্যোক্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। বর্তমানে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থাকলেও সেগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নেই। তাই চেম্বার, অ্যাসোসিয়েশন, এফবিসিসিআই ও সব ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের শিল্প-কারখানার আধুনিক যন্ত্রপাতিতে হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারকে উপযুক্ত প্রণোদনা, প্রয়োজন হলে বীমা ব্যবস্থা ও নীতিগত সহায়তা দিতে হবে।’
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আল-নোমান বলেন, ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং মডেল চালু করে প্রশিক্ষণ চলাকালীন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিদেশের কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এনএসডিএ ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সমন্বয়ে হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে উন্নত প্রশিক্ষণ ও সনদ চালু করা গেলে নারী উদ্যোক্তারা আরো এগিয়ে যেতে পারবেন।’
এনএসডিএর সদস্য (পরিকল্পনা ও দক্ষতা মান) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হার্ড স্কিলের পাশাপাশি সফট স্কিল ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভাষা দক্ষতা বাড়ানোর ওপর এনএসডিএ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও গ্লোবাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং শিল্পের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের বিকল্প নেই।’
দক্ষতা উন্নয়নে কৌশল নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে শ্রম অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক শাহ আব্দুল তারিক বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিশেষ করে এজিআই, ভবিষ্যতের কর্মবাজারে বড় পরিবর্তন আনবে। এমন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে দক্ষতা উন্নয়নের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিচ্ছিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পরিবর্তে সমন্বিত প্রশিক্ষণ কারিকুলাম প্রণয়ন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিতে সজ্জিত করা এবং সরকারি জটিলতা কমিয়ে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। অটোমেশনের এ যুগে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর মহাপরিকল্পনা ছাড়া দক্ষ জনশক্তি তৈরি সম্ভব নয়।’
পুরনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দেয়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের কর্মবাজারের উপযোগী জনবল তৈরি সম্ভব নয় বলে মত প্রকাশ করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) প্রিয়সিন্ধু তালুকদার। তিনি বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ যুবশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপ দিতে হলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত বাজেট ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে। পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে ভবিষ্যতের কর্মবাজারের উপযোগী জনবল তৈরি সম্ভব নয়। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাকে অবহেলার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ অবকাঠামোর আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।’
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবোটিকস ও গ্রিন স্কিলসের কারণে বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাই এখন সনদের চেয়ে দক্ষতা, অভিযোজনক্ষমতা ও আজীবন শেখার মানসিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
স্কিল গ্যাপ ও স্কিল মিসম্যাচ নিয়ে কথা বলেন ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (ডিটিটিটিআই) প্রিন্সিপাল ড. মো. শাখাওয়াত আলী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্কিল গ্যাপ ও স্কিল মিসম্যাচ। এ দুটি সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলে বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।’
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির অতিরিক্ত নির্বাহী সচিব তামান্না সুলতানা বলেন, ‘সফট স্কিল, ফিনটেক, ডেটা অ্যানালাইসিস, নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতার গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। এক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে এবং কারিগরি শিক্ষাকে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষা হিসেবে দেখার মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি দেশপ্রেম, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।’
গোলটেবিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন,”‘বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সময় অতিক্রম করছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে সেটি একসময় দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তাই শুধু সনদ নয়; দক্ষতা, সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও সফট স্কিল গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। মানবসম্পদ উন্নয়নে গত কয়েক দশকে বিপুল বিনিয়োগ হলেও সমন্বয়হীনতা, নীতিগত ও বাজেটগত ওভারল্যাপ এবং দায়িত্ব পালনে অসংগতির কারণে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি। দক্ষতা উন্নয়ন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়। তাই সরকার, শিল্প খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এনএসডিএর কাজ হলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী দক্ষতার মান, কারিকুলাম, প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও সার্টিফিকেশন কাঠামো তৈরি করা। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলে দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ত্বরান্বিত করা সম্ভব।’


