
হরমুজ প্রণালিতে দুটি ট্যাংকারে হামলা, ভারতীয় নাবিক নিহত
জুলাই ১৪, ২০২৬
তরুণদের ভবিষ্যৎমুখী কর্মদক্ষ করে গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ
জুলাই ১৪, ২০২৬দেশে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে আরো ৩৯ জন।
দেশের সাতটি জেলায় আকস্মিক এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১। গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সাতটি জেলা বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির শিকার। বন্যাকবলিত এ জেলাগুলো হলো খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলাগুলোর মোট ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত অঞ্চলগুলোর ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে বর্তমানে দেশের মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সব মিলিয়ে এ সাতটি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১। এ দুর্যোগের কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরো ৩৯ জন আহত হয়েছে।
নিহত ও আহতদের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, মৃত ৫৪ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়, সেখানে ৩১ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ছয়, রাঙ্গামাটিতে তিন ও মৌলভীবাজারে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে আহত ৩৯ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২, বান্দরবানে দুই ও খাগড়াছড়িতে এক জন রয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও উপদ্রুত মানুষকে জরুরি আশ্রয় দেয়ার জন্য সরকারিভাবে মোট ১ হাজার ৪২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে এরই মধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন বিপন্ন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
১১ জেলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এসব তথ্য দেন। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় নেয়া স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রম তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।’
মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘এছাড়া জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’


