প্রথম ওয়ানডে জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে অলআউট করেও হারল বাংলাদেশ
জুলাই ৭, ২০২৬
মাঠে মেসি-সালাহ দ্বৈরথ, কৌশলে কেপ ভার্দে
জুলাই ৭, ২০২৬
প্রথম ওয়ানডে জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে অলআউট করেও হারল বাংলাদেশ
জুলাই ৭, ২০২৬
মাঠে মেসি-সালাহ দ্বৈরথ, কৌশলে কেপ ভার্দে
জুলাই ৭, ২০২৬

মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোলে রোনালদোর পর্তুগালের বিদায়

এই জয়ে স্পেন জায়গা করে নিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী

নব্বই মিনিটজুড়ে লড়াই, কৌশল আর স্নায়ুর পরীক্ষার পরও যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি হয়তো অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, ঠিক তখনই নেমে এল শেষ আঘাত। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই মিকেল মেরিনো গোল করে স্পেনকে এনে দিল ১-০ ব্যবধানের নাটকীয় জয়। সেই এক গোলেই ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের বেশির ভাগ সময়ই দুই দল ছিল সমানে সমান। বলের দখল, মাঝমাঠের লড়াই এবং রক্ষণভাগের শৃঙ্খলায় একে অপরকে ছাড় দেয়নি কেউ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিল স্পেনের বেঞ্চের শক্তি এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা।

ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন বল দখলে এগিয়ে ছিল। চতুর্থ মিনিটেই মিকেল ওইয়ারসাবাল দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করেন, যদিও সেটি সহজেই সামলে নেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। দশম মিনিটে আরও বড় সুযোগ নষ্ট করেন ওইয়ারসাবাল। দানি ওলমোর দারুণ থ্রু পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়েও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে পর্তুগালও বসে থাকেনি। অষ্টম মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলোর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। এরপর ১৩ মিনিটে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শট নিলে দারুণ সেভ করেন উনাই সিমন। সেই কর্নার থেকেও সুবিধা করতে পারেনি রবার্তো মার্তিনেজের দল।

১৮ মিনিটে স্পেন পরপর দুটি সুযোগ তৈরি করে। প্রথমে লামিন ইয়ামালের শট ঠেকান দিয়োগো কস্তা, ফিরতি বলে আলেক্স বায়েনার জোরালো প্রচেষ্টাও কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে স্পেন ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। তবে শেষ পাস কিংবা ফিনিশিংয়ে ছিল ঘাটতি।

প্রথমার্ধের সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে পর্তুগালের সামনে। ৪২ মিনিটে কর্নার থেকে নুনো মেন্দেসের জোরালো শট স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে। ভাগ্য সঙ্গে না থাকায় এগিয়ে যাওয়া হয়নি তাদের। এর আগে ৩৯ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের হেড থেকে রোনালদো গোলের চেষ্টা করলেও দ্রুত ফিরে এসে বল তালুবন্দি করেন সিমন।

বিরতির আগে কোনো গোল না হওয়ায় ০-০ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আরও সতর্ক হয়ে ওঠে। দুই দলই রক্ষণে শৃঙ্খলা ধরে রেখে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। ৫৬ মিনিটে ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন নুনো মেন্দেস। তার পরিবর্তে নেলসন সেমেদোকে নামাতে বাধ্য হন মার্তিনেজ। এই পরিবর্তনের পর বাঁ প্রান্তে পর্তুগালের আক্রমণাত্মক গতি কিছুটা কমে যায়।

৬২ মিনিটে পেদ্রির দূরপাল্লার শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। অন্যদিকে ৭৭ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেস ডান দিকের সংকীর্ণ কোণ থেকে শক্তিশালী শট নিলেও বল জালে না গিয়ে সাইডনেটে লাগে। সেটিই ছিল দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগালের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুযোগ।

শেষ ২০ মিনিটে স্পেন ধীরে ধীরে চাপ বাড়াতে থাকে। ৭৪ মিনিটে ইয়ামালের বাঁকানো ফ্রি-কিক ক্রসবারের নিচে ঢুকে যাচ্ছিল, কিন্তু অসাধারণ দক্ষতায় সেটি কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন দিয়োগো কস্তা। এরপরও একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে স্পেন। ৮০ মিনিটে দানি ওলমোর শট দুর্দান্ত স্লাইডিং ট্যাকলে আটকে দেন রুবেন দিয়াশ।

৮৫ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্পেন কোচ। দানি ওলমো ও পেদ্রিকে তুলে মাঠে নামান মিকেল মেরিনো ও ফাবিয়ান রুইসকে। বিশেষ করে মেরিনোর আগমন স্পেনের আক্রমণে নতুন গতি এনে দেয়।

৯০+২ মিনিটে অচলাবস্থা ভাঙেন মিকেল মেরিনো। দ্রুত নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে ফেরান তোরেসের থ্রু বল ধরে নিখুঁত টাইমিংয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। কোনো বাধা ছাড়াই দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করে জালে বল জড়ান স্পেনের এই বদলি মিডফিল্ডার। তখন পর্তুগালের হাতে সমতা ফেরানোর জন্য বাকি ছিল মাত্র চার মিনিট। গোল হজমের পর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সময় পায়নি পর্তুগাল। ম্যাচজুড়ে পর্তুগালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। ইয়ামাল, বায়েনা ও স্পেনের একাধিক আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে দীর্ঘ সময় ম্যাচে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মেরিনোর শট আর থামাতে পারেননি।

এই জয়ে স্পেন জায়গা করে নিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *