
আনচেলত্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে মুখিয়ে নরওয়ে
জুলাই ৩, ২০২৬
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এসএসসির পর ভর্তি না হওয়ার হার উদ্বেগজনক
জুলাই ৩, ২০২৬
ভারত থেকে আমদানীকৃত ৫ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৫ টন চাল গত সপ্তাহে মোংলা বন্দরে পৌঁছলেও তার প্রভাব এখনো পড়েনি খুচরা বাজারে।
বরং গত এক মাসে বিভিন্ন জাতের চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সময়ে মাছ ও মুরগির দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সবজির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল।
ব্যবসায়ীরা জানান, এক মাস ধরে মোটা, মাঝারি ও সরু চালের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে আমদানি বন্ধ থাকা ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি চালের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। এছাড়া সরকার সরাসরি কৃষক থেকে ধান কেনায় এবং মিল মালিকদের থেকে পোলাওয়ের চাল কেনার কারণেও দাম বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে সরু চালের দর ১ দশমিক ২৯ শতাংশ, মাঝারি চালের ২ দশমিক ৫ ও মোটা চালের দর ২ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়েছে।
টিসিবি ও বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে নাজিরশাইল চালের। এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ৫ টাকা। বর্তমানে খুচরা বাজারে নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। পাইকারি বাজারে মানভেদে ৭২-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের মিনিকেট ৭২-৭৫, পাইজাম ৬৮-৭০ ও আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়। এছাড়া মোটা জাতের স্বর্ণা, চায়না ও ইরি চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এসব জাতের চাল বিক্রি হয়েছিল ৪৮-৫৫ টাকায়। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পোলাওয়ের চালের দাম। পাইকারি পর্যায়ে এ চাল বিক্রি হচ্ছে ১৭২ টাকায়। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।
চালের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের মেসার্স মেঘনা রাইসের মালিক আবু বকর ছিদ্দিক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চালের দাম একটু বাড়তির দিকে। এর কারণ এলসি বন্ধ থাকা এবং পরিবহন খরচ বেশি হওয়া। আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চাল আনতে কেজিপ্রতি খরচ হতো ১০ পয়সা। এখন সেটি ৩০ পয়সা পড়ছে। এ কারণে পরিবহন খরচটা কেজিপ্রতি দামের সঙ্গে সমন্বয় করতে হচ্ছে। পরিবহন ও শ্রমিক খরচ যোগ করলে ১ টাকার কাছাকাছি পড়ে যাচ্ছে। বস্তাপ্রতি প্রায় ৩০০-৪০০ টাকা বেড়ে যায়। আবার বাইরে থেকে চাল আমদানি না থাকলে মিল মালিক ও ডিলারদের সিন্ডিকেট বাজার দখলে রাখলেও দাম কমবে না।’
তবে চালের বর্তমান দামকে স্বাভাবিক হিসেবে দাবি করেছেন নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার। তিনি বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অনিয়ন্ত্রিত চাল আমদানির একটি ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছে দেশের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে দেশীয় চালকল শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। চালের বাজারদর যৌক্তিক কারণেই এক মাস আগে প্রতি কেজিতে ১-৩ টাকা বেড়েছিল। এখানে অবৈধ মজুদ বা বাজার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেউ দাম বাড়ায়নি।’
তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল আমদানি না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে চালের সঙ্গে বেড়েছে মাছ ও মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দাম বেড়েছে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত। গতকালের বাজারে বড় রুই মাছ ৪৫০-৫৫০, মাঝারি ৪০০ ও ছোট রুই বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৩৩০ টাকায়। কাতল মাছ আকারভেদে ৪০০-৪৮০, কোরাল ৯০০-১০০০, তেলাপিয়া ২৮০, শিং ৬০০, পাবদা ৫০০, টেংরা ৮০০, পাঙাশ ৩৫০ ও চিংড়ি ৮০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে বেড়ে ১৮০-১৯০ টাকা, সোনালি ৩৫০ ও দেশী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় মাছ-মুরগির দাম বেড়েছে। কোরবানিতে চাহিদা ছিল না, এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও আগের তুলনায় গাড়ি ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গতকাল পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজে ৩৫-৪০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৪৫-৫০ টাকা। মূলত দেশে ব্যাপক উৎপাদনের কারণে পেঁয়াজের দাম কমছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে দাম বেড়েছে রসুনের। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশী রসুনের দাম ২০ টাকা বেড়ে ৯০ টাকা এবং আমদানীকৃত রসুন ১২০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে বেশির ভাগ সবজির দাম আগের মতোই আছে। বেড়েছে শুধু বেগুন ও কাঁচামরিচের দাম। বেগুন ৮০-১০০ ও কাঁচামরিচ ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ঢেঁড়শ ৩০, পটোল ৫০, মিষ্টিকুমড়া, ঝিঙা ও পেঁপে ৪০, করলা ৫০ -৬০ এবং কাঁকরোল ও বরবটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


