
এটাই কি রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ— বোনের মন্তব্য ঘিরে জল্পনা
জুলাই ৩, ২০২৬চালের বাজার বাড়তি, দাম বেড়েছে মাছ-মুরগিরও
জুলাই ৩, ২০২৬বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের বিপক্ষে নামার আগে নরওয়ের শিবিরে ভয় নয়, বরং উত্তেজনাই বেশি।
কারণ প্রতিপক্ষের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে আছেন ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সফল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নরওয়ে কোচ স্টলে সোলবাকেন মনে করেন, আনচেলত্তি ইউরোপের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা কোচদের একজন। তবে সেই শ্রদ্ধা মাঠে কোনো ছাড় দেবে না। তার ভাষায়, ভাগ্য যখন ব্রাজিলকে প্রতিপক্ষ করেছে, তখন নিজেদের সেরাটা দিয়েই লড়তে হবে।
আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে জয় পেয়েছে নরওয়ে। ডালাসে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ৮৬তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আর্লিং হালান্ড। সেই জয়ই স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের জায়গা করে দিয়েছে শেষ ষোলোয়, যেখানে অপেক্ষা করছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
দুই দলের এটি হবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পঞ্চম সাক্ষাৎ। বিশ্বকাপে এর আগে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল তারা। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল নরওয়ে। সেই স্মৃতি অবশ্য এখন ইতিহাস। বর্তমান ব্রাজিল নতুন কোচ আনচেলত্তির অধীনে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পাচ্ছে।
আইভরি কোস্টকে হারানোর পর নরওয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রেসিংরুমে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যের শেষে সোলবাকেন হেসে বলেন, ‘কার্লো আনচেলত্তি, আমরা আসছি।’ মন্তব্যটি দ্রুতই আলোচনায় আসে। তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি পরিষ্কার করে দেন, এটি কোনো উসকানি ছিল না।
সোলবাকেন বলেন, ‘এটা উসকানি দেয়ার জন্য বলা হয়নি। আমার মতে, আনচেলত্তি ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা কোচ। পেপ গার্দিওলা, হোসে মরিনহো এবং আরো কয়েকজনের সঙ্গে তিনি সেই কাতারে থাকবেন। তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।’
তিনি জানান, এফসি কোপেনহেগেনের কোচ থাকাকালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চেলসি ও রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে কয়েকবার আনচেলত্তির সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ‘তিনি দারুণ মানুষ, অসাধারণ রসবোধসম্পন্ন। আমি নিশ্চিত, আমার মন্তব্যের মজার দিকটিই তিনি দেখবেন। এর মধ্যে অন্য কোনো বার্তা ছিল না’—বলেন সোলবাকেন।
ইতিহাস অবশ্য ব্রাজিলের জন্য খুব সুখকর নয়। ২০০২ সালে জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর ইউরোপের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নকআউটে ছয়বার বিদায় নিয়েছে সেলেসাওরা। সর্বশেষ ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
এবার ভিন্ন এক ছন্দে এগোচ্ছে ব্রাজিল। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও পরে স্কটল্যান্ড ও হাইতিকে টানা ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। শেষ ষোলোয় জাপানের বিপক্ষে অবশ্য কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আনচেলত্তির দল। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ নকআউটে নির্ধারিত সময়ে সেটিই ছিল সবচেয়ে দেরিতে হওয়া জয়সূচক গোল।
সোলবাকেনের বিশ্বাস, টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে ব্রাজিলও তত ভয়ংকর হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ব্রাজিল ধীরে ধীরে নিজেদের সেরা ফুটবল খুঁজে পাচ্ছে। প্রতিটি পজিশনেই তাদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। তাদের বিপক্ষে খেলাটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’
নিজের দলকে আগেভাগেই হার মানাতে রাজি নন সোলবাকেন। তার ভাষ্যে, ‘ব্রাজিল অবশ্যই ফেভারিট এবং শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিন্তু ভাগ্য আমাদের তাদের বিপক্ষে দাঁড় করিয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব নিজেদের সর্বোচ্চটা মাঠে তুলে ধরা। সেটাই করতে চাই।’


