নকআউটে মুখোমুখি ব্রাজিল-জাপান নেদারল্যান্ডসের সামনে মরক্কো
জুন ২৭, ২০২৬
জার্মানবধে নকআউটে ডার্ক হর্স একুয়েডর
জুন ২৭, ২০২৬
নকআউটে মুখোমুখি ব্রাজিল-জাপান নেদারল্যান্ডসের সামনে মরক্কো
জুন ২৭, ২০২৬
জার্মানবধে নকআউটে ডার্ক হর্স একুয়েডর
জুন ২৭, ২০২৬

ইরাকের জালে ৫ গোল দিয়ে নকআউটের আশা টিকিয়ে রাখল সেনেগাল

বিশ্বকাপে টিকে থাকার আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না সেনেগালের সামনে। সেই চাপের ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলল আফ্রিকার দলটি।

টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে ইরাককে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সেনেগাল। প্রথমার্ধে এক গোলের লিডে থাকা দলটি বিরতির পর আরো ৪ বার জাল কাঁপিয়ে বড় জয় নিশ্চিত করে তারা। বদলি নেমে মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন পাপে গুইয়ে, আর এক গোলের সঙ্গে এক অ্যাসিস্ট করে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেন ইসমাইলা সার।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সেনেগাল। মাত্র চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। ডান প্রান্ত থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে হাবিব দিয়ারা বল জালে পাঠিয়ে দলকে কাঙ্ক্ষিত সূচনা এনে দেন। গোল হজমের ধাক্কা সামলানোর আগেই আরো বড় বিপদে পড়ে ইরাক। ১৩তম মিনিটে রক্ষণভাগের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রেবিন সুলাকা সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিরা।

একজন কম নিয়ে খেললেও প্রথমার্ধের বাকি সময়ে কোনোভাবে আর গোল হজম করেনি ইরাক। গোলরক্ষক আহমেদ বাসিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ব্যবধান এক গোলেই আটকে রাখেন। অন্যদিকে সেনেগালও বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করায় বিরতিতে ১-০ ব্যবধানই থেকে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে নেমে আরো গতি বাড়ায় সেনেগাল। ৫৪তম মিনিটে ইসমাইলা সার এককভাবে গোলের দারুণ সুযোগ পেলেও ইরাক গোলরক্ষক তা রুখে দেন। তবে দুই মিনিট পর আর রক্ষা হয়নি। জিদান ইকবালের ভুলে নিজেদের অর্ধেই বল হারায় ইরাক। লামিন কামারা দ্রুত বল কেড়ে নিয়ে সারকে পাস বাড়ান। সহজ সুযোগ থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন সার।

এরপর সেনেগালের কোচ একসঙ্গে কয়েকটি পরিবর্তন আনেন। ৫৭তম মিনিটে মাঠে নামেন পাপে গুইয়ে, নিকোলাস জ্যাকসন ও ইলিমান এনদিয়ায়ে। বদলি নামার মাত্র ৮৯ সেকেন্ডের মাথায়ই নিজের উপস্থিতির জানান দেন গুইয়ে। ৫৯তম মিনিটে সার বল কেড়ে নিয়ে তাকে পাস দিলে দূরপাল্লার দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দেন জালে।

৭১তম মিনিটে ইলিমান এনদিয়ায়ের নিখুঁত হেড থেকে বল পেয়ে আবারও দুর্দান্ত ফিনিশ করেন গুইয়ে। বক্সের ভেতর থেকে তার জোরালো শট সোজা জালের ওপরের কোণে গিয়ে লাগে। দুই গোল করে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি।

৮২তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান ইলিমান এনদিয়ায়ে। পাপে গুইয়ের পাস থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে তাকে আটকানোর মতো কেউ ছিল না। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে বল জড়িয়ে দেন জালের কোণে। দারুণ এই গোলের মধ্য দিয়ে ৫-০ ব্যবধানে ম্যাচের ইতি টানে সেনেগাল।

পুরো দ্বিতীয়ার্ধে ইরাক কার্যত নিজেদের অর্ধেই আটকে ছিল। একজন কম নিয়ে খেলায় দলটি কোনোভাবেই ম্যাচে ফিরতে পারেনি। মাঝে আলি জাসিমের একটি দূরপাল্লার শট ছাড়া উল্লেখযোগ্য আক্রমণও গড়তে পারেনি তারা।

এ জয়ে সেনেগাল তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করল। তবে নকআউটে উঠতে হলে এখন তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচগুলোর ফল এবং সেরা তৃতীয় দলের হিসাব-নিকাশের দিকে। অন্যদিকে টানা তিন হারে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিশ্বকাপ শেষ করল ইরাক।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *