
ইরাকের জালে ৫ গোল দিয়ে নকআউটের আশা টিকিয়ে রাখল সেনেগাল
জুন ২৭, ২০২৬
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব বেইজিংয়ের
জুন ২৭, ২০২৬
বিশ্বকাপ শুরুর আগে যেসব দলকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি ফিসফাস ছিল, একুয়েডর তাদের একটি।
ইউরোপের নামকরা ক্লাবগুলোতে খেলা এক ঝাঁক তরুণ ফুটবলার, মাঝমাঠে ময়সেস কাইসেদোর নেতৃত্ব, দ্রুতগতির উইঙ্গার আর আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে অনেকেই তাদের ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে হার, দ্বিতীয় ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র। শেষ ম্যাচে সমীকরণ ছিল একটাই—জার্মানিকে হারাতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে ২-১ গোলে জার্মানবধের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিয়েছে সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের দল।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য একুয়েডরের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের। দ্বিতীয় মিনিটেই আলেকসান্দার পাভলোভিচের উঁচু বুট নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ফ্লোরিয়ান ভির্টজ বল বাড়িয়ে দেন লেরয় সানেকে। জার্মান উইঙ্গার নিচু শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ৭ মিনিট পরই সমতায় ফেরে একুয়েডর। পেদ্রো ভিতের কাছ থেকে বল পেয়ে নিলসন অ্যাঙ্গুলো বক্সের বাইরে থেকে দারুণ বাঁকানো শটে ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করেন। বিশ্বকাপে এটি ছিল একুয়েডরের প্রথম গোল।
এ গোলের পরই ম্যাচের ছন্দ বদলে যায়। প্রথম দুই ম্যাচে যে দলটি আত্মবিশ্বাসহীন ছিল, তারা হঠাৎই সাহসী হয়ে ওঠে। মাঝমাঠে ময়সেস কাইসেদো পুরো খেলাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন। চেলসির এই মিডফিল্ডার শুধু বল কাড়েননি, প্রতিটি আক্রমণের সূচনাও করেছেন ঠাণ্ডা মাথায়। জার্মানির পাসিং লেন বন্ধ করে দিয়ে তিনি সতীর্থদের সামনে খেলার সুযোগ তৈরি করেছেন বারবার। বিশেষ করে পেদ্রো ভিতে ও কাইসেদোর যুগলবন্দি জার্মানির মিডফিল্ডকে প্রায় অকার্যকর করে দেয়। ভির্টজ কিংবা ফেলিক্স এনমেচারা বল পেলেও তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময় দেয়া হয়নি। ফলে জার্মানি নিজেদের স্বাভাবিক পজিশনাল ফুটবল খেলতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের পর জার্মানির খেলায় অস্থিরতা স্পষ্ট হতে থাকে। কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যান ম্যাচ শেষে যেটিকে বলেছেন, ‘ট্যাকটিক্যাল সুইসাইড’। একুয়েডরের জয়ের মুহূর্ত আসে ৭৭ মিনিটে। কর্নার থেকে বদলি খেলোয়াড় কেভিন রদ্রিগেসের ফ্লিক-অন বল জটলার মধ্যে পেয়ে কাছ থেকে জালে পাঠান গনসালো প্লাতা। গোলের পর পুরো স্টেডিয়াম যেন হলুদ উৎসবে ভেসে যায়। ম্যাচ শেষে প্লাতা বলেন, প্রথম দুই ম্যাচের কষ্টই তাদের আরো ক্ষুধার্ত করে তুলেছিল। সমর্থকদের সমর্থনই শেষ পর্যন্ত দলকে এ জয় এনে দিয়েছে।
এ জয় শুধু নকআউটে ওঠার আনন্দ নয়। ২০১৩ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে জিতল একুয়েডর। ২০০৬ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল তারা। গ্রুপ ‘ই’-এর অন্য ম্যাচে কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে আইভরি কোস্ট। নিকোলা পেপে ও সেবাস্তিয়ান হালারের গোলে জয় তুলে নেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। তিন ম্যাচ শেষে জার্মানি ও আইভরি কোস্ট সমান ৬ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে শীর্ষে থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি। অন্যদিকে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট পাওয়া একুয়েডর সেরা আট তৃতীয় স্থানধারী দলের একটি হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। আর ১ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে কুরাসাও।
এদিন গ্রুপ ‘ই’-এর পাশাপাশি গ্রুপ ‘ডি’ ও ‘এফ’-এর শেষ ম্যাচগুলোও অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রুপ ‘এফ’-এ তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নেদারল্যান্ডস। অন্য ম্যাচে জাপান ও সুইডেন ১-১ গোলে ড্র করায় রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে জাপান। চার পয়েন্ট পাওয়া সুইডেনও সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে নকআউটে উঠেছে। গ্রুপ ‘ডি’তে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩-২ গোলে হারিয়ে তুরস্ক সান্ত্বনার জয় পেলেও দুই ম্যাচে হারায় তলানিতে থেকে বিদায় নিয়েছে। অন্য ম্যাচে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার গোলশূন্য ড্রয়ে গোল ব্যবধানে রানার্সআপ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া।


