
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর, কী আছে ১৪ দফা শর্তে
জুন ১৮, ২০২৬
মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং দমনে সরকার বদ্ধপরিকর —স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জুন ১৮, ২০২৬প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কৃষি খাতে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এদিন রাষ্ট্রীয় কাজে সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে থাকায় প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
সেলিম রেজার প্রশ্ন ছিল, আমাদের কৃষিনির্ভর এ বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও মেহনতি কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে আপনার বহুল জনপ্রিয় স্লোগান ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ কর্মসূচির আওতায় কী কী পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং এগুলো বাস্তবায়ন হলে কৃষিতে অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধনে আমরা আশান্বিত হতে পারি কিনা?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হলো একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ুসহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষককেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্যচালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষি খাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের নির্বাচনী স্লোগান ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ কর্মসূচির আওতাধীন পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও গম সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দেশব্যাপী কৃষক বাজার স্থাপন করা হচ্ছে।’ এ কর্মসূচির আওতায় কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিতকরণে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানের লক্ষ্যে গত ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে। আজ পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারপ্রধান আরো বলেন, ‘সরকার এরই মধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে। ফলে সারা দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ কৃষক উপকৃত হবেন।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে। ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি এবং এমওপি সার অত্যন্ত সুলভ মূল্যে সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বিএডিসির মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।


