
এক ম্যাচে যত কীর্তি মেসির
জুন ১৭, ২০২৬
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরকারের ভুল হতে পারে, গঠনমূলক আলোচনা হোক
জুন ১৭, ২০২৬চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
গতকাল সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বাজেটের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে এ নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন হবে।
নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজনের আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। এ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চলতি জাতীয় বাজেটের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
নির্বাচন আয়োজনের বিস্তারিত ব্যয় নির্ধারণের জন্য এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
নতুন অর্থবছর শুরু হলে নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ শুরু করবে বলেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন।
এদিকে সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের আরেক সদস্য মো. আবুল কালামের টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সরকার স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় রাজধানীর নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খালগুলো থেকে নিয়মিত পলি ও বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। ভারি বর্ষণের সময় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমে দ্রুত বৃষ্টির পানি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যমান পাম্প স্টেশনগুলো ব্যবহার করে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘নগরীর বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্তসংখ্যক ক্যাচপিট ও লোহার গ্রেটিংস স্থাপন করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক জরুরি প্রতিক্রিয়া দল (ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম) গঠন করা হয়েছে। এসব দল তাৎক্ষণিকভাবে পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে চারটি বৃহৎ খালের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জিয়া সরণি খাল ও শ্যামপুর খালের পানি নিকটবর্তী বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য আউটলেট নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে।
এছাড়া রাজধানীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন নর্দমা নির্মাণ এবং বিদ্যমান নর্দমাগুলোর সংস্কার ও মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জিয়া সরণি খাল, কাজলা খাল ও মৃধাবাড়ি খালসহ প্রায় ৫০ কিলোমিটার খাল উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘নবসংযুক্ত এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় দ্রুত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য অধিকসংখ্যক আউটলেট নির্মাণ এবং নতুন পাম্প স্টেশন স্থানের পরিকল্পনা রয়েছে।’
মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্ষমতা মূল্যায়ন করে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন সেবার জন্য ইউটিলিটি ডাক্ট নির্মাণ এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরো আধুনিক, টেকসই ও যুগোপযোগী করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা ধীরে ধীরে কমিয়ে এনে নগরবাসীর জন্য একটি উন্নত ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’


