কর্মস্থল বদল ছয় অতিরিক্ত সচিবসহ ৮ কর্মকর্তার
জুন ৩, ২০২৬
যুদ্ধ ও অনাবৃষ্টিতে অস্ট্রেলিয়ায় গম উৎপাদন কমার পূর্বাভাস
জুন ৩, ২০২৬বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা না করার কারণে গত মাসের শুরুতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৩টি ব্যাংকের শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন করা হয়েছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পুঁজিবাজারেও।
তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো ভালো মুনাফা করার সুবাদে এ খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হয়ে ওঠেন, যার প্রভাবে গত মাসে দেশের পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত মে মাসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের মাসের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৩৩৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস ৩০ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৭ পয়েন্টে। মে মাসে পুঁজিবাজারের দৈনিক গড় লেনদেন ২ শতাংশ বেড়ে ৮৩৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে ২৩৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৩১টির কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
পুঁজিবাজারের সূচকে খাতভিত্তিক শেয়ারে প্রভাব মূল্যায়নে দেখা যায়, গত মে মাসে ব্যাংক খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধির প্রভাবে ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে প্রায় ২২ পয়েন্ট। এ সময়ে সূচকে ওষুধ ও রসায়ন খাত ২৪ পয়েন্ট এবং প্রকৌশল খাত ১৭ পয়েন্ট যোগ করেছে। এককভাবে এ সময়ে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার সূচকে ২৪ পয়েন্ট যোগ করেছে। তাছাড়া এ সময়ে বেক্সিমকো ফার্মা ৮ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট ও সিটি ব্যাংক ৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট যোগ করেছে।
খাতভিত্তিক শেয়ারদর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গত মাসে শীর্ষে ছিল পাট খাত। এ খাতের শেয়ারের দাম বেড়েছে ২১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এরপর ছিল সিরামিক খাত ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাত ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এককভাবে এ সময়ে মেঘনা পেটের শেয়ারদর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি, ৬২ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এছাড়া আরডি ফুডের ৫৪ দশমিক ৫৫ ও নাহি অ্যালুমিনিয়ামের ৪৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে।
গত মে মাসে পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বীমা খাতে, ১৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। তাছাড়া এ সময়ে প্রকৌশল খাতে ১৪ দশমিক ১৮ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। এককভাবে দৈনিক গড়ে ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমসের শেয়ার। এরপর সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এনসিসি ব্যাংকের ২০ কোটি ২৩ লাখ ও মুন্নু সিরামিকসের ১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অধিকাংশ ব্যাংক বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধির ফলে ভালো মুনাফা করেছে। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের নিট মুনাফা ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৫৭৭ কোটি টাকা হয়েছে। সিটি ব্যাংকের নিট মুনাফা ১৬১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ২৪১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নিট মুনাফা ১৯৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২৬১ কোটি টাকা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত মাসের শুরুতে পুঁজিবাজারের সেন্টিমেন্ট নেতিবাচক থাকলেও পরবর্তী সময়ে বাজারবান্ধব সংস্কার এবং বিদেশী বিনিয়োগ সহজ করার জন্য অডিটর সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। ১৩টি ব্যাংক ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হওয়ায় শুরুতে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও প্রথম প্রান্তিকের ভালো আয়ের কারণে বিনিয়োগকারীরা পুনরায় মৌলভিত্তিসম্পন্ন ব্যাংকের শেয়ারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সামনে পুঁজিবাজারের গতিপথ মূলত জাতীয় বাজেট ঘোষণা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বের সম্ভাব্য পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে গত মাসে পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। বিপরীতে এ সময়ে ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পুঁজিবাজার নিম্নমুখী ছিল।


