এলিয়েন টাওয়ার’ দেখতে বছরে লাখো পর্যটকের ভিড়
মে ৩০, ২০২৬
বিশ্বকাপে ইবোলা আতঙ্ক, মধ্য আফ্রিকার যাত্রীদের ভ্রমণে মেক্সিকোর নিষেধাজ্ঞা
মে ৩১, ২০২৬
এলিয়েন টাওয়ার’ দেখতে বছরে লাখো পর্যটকের ভিড়
মে ৩০, ২০২৬
বিশ্বকাপে ইবোলা আতঙ্ক, মধ্য আফ্রিকার যাত্রীদের ভ্রমণে মেক্সিকোর নিষেধাজ্ঞা
মে ৩১, ২০২৬

চুক্তিতে সম্মত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা

তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর একটি প্রাথমিক চুক্তিতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো ৬০ দিন বাড়াতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে দুই দেশ।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা, ইরানের বন্দর অবরোধ শিথিল করা এবং তেল রফতানির কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ও রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। চুক্তিটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানও আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির খসড়া অনুমোদনের কথা জানায়নি।

প্রাথমিক এ চুক্তি সই হলে এটি হবে চলমান যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি। সম্ভাব্য চুক্তির খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে গেছে। গতকাল প্রারম্ভিক লেনদেনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ৬৭ সেন্ট হয়েছে। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে হয়েছে ৮৭ ডলার ৬৪ সেন্ট। আর সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্টের দাম কমেছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।

রয়টার্সকে চারটি অবহিত সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি আরো ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে।

চুক্তি অনুমোদিত হলে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌযান চলাচল নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল করবে এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাইনি। তবে খুব কাছাকাছি অবস্থানে আছি এবং আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি নিশ্চয়তা দিতে পারছি না যে সমঝোতা হবেই, কিন্তু এ মুহূর্তে আমি যথেষ্ট আশাবাদী।’

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার যুদ্ধের অবসান ও সমঝোতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও পরে ইরান সেসব দাবি খণ্ডন বা গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করেছে। এবারো তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা আলোচনাকারী দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, চুক্তির পাঠ এখনো চূড়ান্ত বা অনুমোদিত হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি সম্ভাব্য এ চুক্তি নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনগুলোর সমালোচনা করে বলেছে, সেখানে প্রকাশিত কিছু তথ্য ‘সঠিক নয়’ এবং এতে বেশকিছু ভুল ব্যাখ্যা রয়েছে।

হোয়াইট হাউজে ব্রিফিংয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট কোনো চুক্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের আগে কোনো মন্তব্য করা সবসময়ই একটি ভুল সিদ্ধান্ত। সব প্রক্রিয়াই প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’ ‘ইরানের জন্য কোনো ‘পুনর্গঠন’ পরিকল্পনা এ সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্য পারের চিন্তা করার আগে আমাদের চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশই একে অপরের দাবিকে অস্বীকার করেছে এবং প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে খুব কম তথ্য দিয়েছে, ফলে বাস্তবে এ দুই পক্ষ কতটা কাছাকাছি অবস্থান করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন পেলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনবে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের আগে পর্যন্ত পরিস্থিতি যেকোনো সময় আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *