
ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের বড় ঘোষণা
মে ৩০, ২০২৬চুক্তিতে সম্মত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা
মে ৩০, ২০২৬মহাকাশে ভিনগ্রহবাসীর অস্তিত্ব আছে কিনা, সেই প্রশ্ন বহুদিনের। এ রহস্যকে ঘিরে হলিউডে তৈরি হয়েছে অসংখ্য সিনেমা।
তবে এমনও একটি জায়গা আছে, যেটি শুধু একটি সিনেমার কারণেই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যের ডেভিলস টাওয়ার ন্যাশনাল মনুমেন্ট এখন অনেক পর্যটকের কাছে ‘এলিয়েন টাওয়ার’ নামেও পরিচিত।
প্রায় ৫০ বছর আগে পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ তার বিখ্যাত সিনেমা ‘ক্লোজ এনকাউন্টারস অব দ্য থার্ড কাইন্ড’-এর কিছু দৃশ্য ধারণ করেছিলেন এ জায়গায়। এরপর থেকেই এটি নতুন পরিচিতি পায়। সিনেমাটি মুক্তির পর পর্যটকের সংখ্যা এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ওয়াইয়োমিংয়ের সরকারি পর্যটন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, এখনো এলিয়েন টাওয়ার দেখতে বছরে লাখো পর্যটক ভিড় জমান।
সিনেমার মাত্র ১২ মিনিটের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল সেখানে। কিন্তু সেটিই পুরো জায়গার ভাগ্য বদলে দেয়। পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, সিনেমা মুক্তির পর এক বছরের মধ্যে দর্শনার্থীর সংখ্যা ৭৬ শতাংশ বেড়ে যায়। আগে যেখানে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার মানুষ আসতেন, পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭০ হাজারে।
আজও অনেক পর্যটক শুধু সিনেমাটির কারণেই সেখানে যান। কেউ কেউ আবার এলিয়েনের রহস্য খুঁজতেও আগ্রহী। যদিও বাস্তবে সেখানে ভিনগ্রহবাসীর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ডেভিলস টাওয়ার দেখতে সত্যিই বেশ অদ্ভুত। সমতল প্রান্তরের মাঝ থেকে বিশাল এক পাথরের স্তম্ভের মতো উঠে গেছে এটি। উচ্চতা প্রায় ৮৬৭ ফুট। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গাছের কাটা কোনো গুঁড়ি দাঁড়িয়ে আছে। স্থানটি শুধু পর্যটকদের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। বহু আগে থেকেই এটি স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত। এখনো সেখানে গাছের ডালে ছোট ছোট প্রার্থনার কাপড় ও পুঁটলি ঝুলতে দেখা যায়। দর্শনার্থীদের সেগুলো স্পর্শ বা ছবি তুলতে নিরুৎসাহিত করা হয়।
ডেভিলস টাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ। ১৯০৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট একে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণা করেন।
এভিলস টাওয়ারকে ঘিরে স্থানীয়দের নানা লোককথাও রয়েছে। অনেকের বিশ্বাস, একসময় একটি ভালুক দুই শিশুকে তাড়া করছিল। তখন শিশুরা এখানে প্রার্থনা করলে মাটি উঁচু হয়ে এ টাওয়ার তৈরি হয়। টাওয়ারের গায়ে যে দাগগুলো দেখা যায়, সেগুলো নাকি ভালুকের নখের আঁচড়।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, প্রায় পাঁচ কোটি বছর আগে টাওয়ারটি তৈরি হয়েছিল। তবে এটি কীভাবে গঠিত হয়েছে, তা নিয়ে এখনো মতভেদ আছে। ধারণা করা হয়, ভূগর্ভ থেকে গরম ম্যাগমা ওপরে উঠে এসে ঠাণ্ডা হয়ে শক্ত হয়ে যায়। পরে চারপাশ ক্ষয়ে গেলেও শক্ত অংশটি রয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা অগডেন ড্রিস্কিল বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই টাওয়ারটির পাশে বড় হয়েছেন। এখনো জায়গাটি তাকে মুগ্ধ করে।


