ভালো চরিত্রের জন্য আজীবন অপেক্ষা করতে পারি
মে ৩০, ২০২৬
ঢালিউডে মিথিলার অভিষেক ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা বাজারে বেশ সাড়া ফেলেছে ‘রকস্টার’।
জুন ১, ২০২৬
ভালো চরিত্রের জন্য আজীবন অপেক্ষা করতে পারি
মে ৩০, ২০২৬
ঢালিউডে মিথিলার অভিষেক ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা বাজারে বেশ সাড়া ফেলেছে ‘রকস্টার’।
জুন ১, ২০২৬

সিনেমায় সময় মাত্র আড়াই ঘণ্টা তাই গল্পটা দারুণভাবে বলতে হয়

লিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ হিসেবে পরিচিত আমির খান।

দীর্ঘদিন ধরেই ভিন্নধর্মী গল্প ও নিখুঁত চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত তিনি। ‘লগন’, ‘তারে জমিন পার’, ‘দঙ্গল’ কিংবা ‘রং দে বাসন্তী’র মতো সিনেমার মাধ্যমে তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন, শক্তিশালী গল্পই একটি চলচ্চিত্রের আসল ভিত্তি। এবার সে গল্প বলার শিল্প নিয়েই চলচ্চিত্র শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন এ অভিনেতা।

ভারতের অন্যতম শীর্ষ চলচ্চিত্র, মিডিয়া ও সৃজনশীল শিল্পবিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোইস্টলিং উডস ইন্টারন্যাশনালে আয়োজিত স্ক্রিন একাডেমির তৃতীয় মাস্টারক্লাসে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সিনেমা নির্মাণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লেখালেখি ও গল্পের স্বচ্ছতা।’

আমিরের মতে, কেউ চিত্রনাট্যকার না হলেও চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাইলে লেখার শিল্প সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি। এ প্রসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে সুপারিশ করেন লাজস ইগরির বিখ্যাত বই ‘দ্য আর্ট অব ড্রামাটিক রাইটিং’। তার মতে, এটি লেখালেখি শেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বইগুলোর একটি।

মাস্টারক্লাসে আমির তার প্রয়াত বাবা ও নির্মাতা তাহির হুসেনের একটি শিক্ষার কথাও তুলে ধরেন। তাহির হুসেন নাকি চিত্রনাট্যকারদের বলতেন, ‘গল্পটা এক লাইনে বলো। যদি সেটা না পারো, তাহলে সিনেমা কাজ করবে না।’ পরে বুঝতে পেরেছেন, গল্পের মূল বক্তব্য পরিষ্কার হওয়াই আসল বিষয়।

নিজের জনপ্রিয় সিনেমা দঙ্গলের উদাহরণ টেনে আমির বলেন, ‘সিনেমাটির মূল বক্তব্য ছিল “মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে কম নয়।” আর সে ভাবনাই পুরো চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিয়েছে।’

সিনেমায় সময় সীমিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘একটি বইয়ের মতো নয়, সিনেমায় আপনার হাতে মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা থাকে। তাই খুব সংক্ষেপে ও কার্যকরভাবে গল্প বলতে হয়’ বলেন আমির। উদাহরণ হিসেবে তিনি লগন সিনেমার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে শুরুতেই গল্পের লক্ষ্য নির্ধারণ হয়ে যায়।

চলচ্চিত্র নির্মাণে ‘টেস্ট স্ক্রিনিং’-এর গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন এ অভিনেতা। মুক্তির আগে বিভিন্ন দর্শকের সামনে সিনেমা দেখিয়ে প্রতিক্রিয়া নেয়াকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তার মতে, দর্শক কীভাবে গল্প গ্রহণ করছে, সেটিই নির্মাতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

এ সময় তারে জমিন পারের প্রথম টেস্ট স্ক্রিনিংয়ের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন আমির। তিনি জানান, প্রথম প্রদর্শনীতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর সিনেমাটির সম্পাদনায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। পরে দর্শকের প্রতিক্রিয়া অনেক ইতিবাচক হয়।

সবশেষে আমির বলেন, ‘চলচ্চিত্র আসলে যোগাযোগের শিল্প। আপনি যা বলতে চাইছেন, দর্শক সেটাই বুঝছে কিনা, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

চলচ্চিত্রে আমির খানের অভিজ্ঞতা ও সফলতা অনেক। সে অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করিয়ে দেন, চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের সঙ্গে নির্মাতার এক গভীর যোগাযোগের শিল্প। তাই বড় তারকা, বাজেট বা প্রযুক্তির চেয়ে গল্পের স্বচ্ছতা ও অনুভূতির সততাকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তার কথায়, দর্শক যদি নির্মাতার অনুভূতিকে নিজের ভেতরে অনুভব করতে পারে, তবেই একটি সিনেমা সত্যিকার অর্থে সফল হয়ে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *