
মৃত্যুর গুজব, ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রুনা লায়লা
মে ৬, ২০২৬
সিনেমায় সময় মাত্র আড়াই ঘণ্টা তাই গল্পটা দারুণভাবে বলতে হয়
মে ৩০, ২০২৬রুপন্তী আকিদ গত বছর বলিউডের ‘হিন্দি ভিন্দি’ সিনেমা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক করে রীতিমতো চমকে দিয়েছিলেন।
প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী নীনা গুপ্তারও। তবে এবার নিজের চেনা আঙিনায়, দেশের মাটিতে বড় পর্দার রুপালি জগতে পা রাখলেন প্রতিভাবান এ অভিনেত্রী। তিনি একজন আলোকচিত্রীও। এবারের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’-এ কবি জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রেম ‘শোভনা’-এর চরিত্রে হাজির হয়েছেন তিনি। লেন্সের পেছনের পেশাদার আলোকচিত্রী থেকে লেন্সের সামনের ‘শোভনা’ হয়ে ওঠা ও প্রাপ্তির গল্পই উঠে এল তার কথায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
ঈদে বড় পর্দায় আপনার অভিষেক হলো। এ নিয়ে আপনার অনুভূতি?
এই সিনেমা ইতিহাস হবে—এটাই আশা। আমি খুবই কৃতজ্ঞ যে মাসুদ হাসান উজ্জ্বল আমাকে শোভনা চরিত্রে ট্রাস্ট করেছেন। সুতরাং শতভাগ এক্সসাইটমেন্ট কাজ করেছে।
‘শোভনা’ চরিত্র নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন?
পড়ে যতদূর জেনেছি, জীবনানন্দ দাশ শোভনাকেই ভালোবেসেছিলেন। দ্যাট ওয়াজ হিজ ফার্স্ট লাভ অ্যান্ড পিস। এবং পরবর্তী সময়ে বারবার এই শোভনার কাছেই ছুটে গেছেন শত অবহেলা-উপেক্ষা সত্ত্বেও। তাই দর্শক আমাকে ভালোভাবেই নেবেন আমার বিশ্বাস। শোভনা হওয়ার জন্য আমি প্রচুর শ্রম দিয়েছি।
দর্শকরা যেভাবে আপনার শৈশবের ‘জেনিফার’ চরিত্রটি আজও মনে রেখেছে, আপনার কি মনে হয় ‘শোভনা’ চরিত্রটিও সিনেমাপ্রেমীদের মনে ঠিক সেভাবেই দাগ কেটে যেতে পারবে?
জি। আমার বিশ্বাস তা-ই। একটা ভালো চরিত্রের জন্য আজীবন অপেক্ষা করব। শোভনা আমার কাছে তেমনই একটা অফার ছিল। থ্যাংকস টু ডিরেক্টর, আমাকে ট্রাস্ট করার জন্য।
‘শোভনা’ হয়ে বড় পর্দায় আসার জন্য নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করেছিলেন? শুটিংয়ের কোনো বিশেষ বা মজার স্মৃতি আছে যা দর্শকদের সঙ্গে শেয়ার করা যায়?
এ চরিত্রের জন্য আমাকে অনেক অনেক ওয়ার্কশপ করতে হয়েছে। সেই সিডনিতে জুম কলে রিহার্সাল থেকে শুরু করে ঢাকায় নেমে প্রতিদিন রিহার্সাল উইথ কস্টিউম। মজার স্মৃতি নেই, আছে কেবল মজাহীন স্মৃতি।
শুটিংয়ের ফাঁকে মা আমাকে টান দিয়ে মাটির আগুনের চুলার পাশে বসিয়ে রাখতেন, আমি যাতে সিক না হয়ে যাই সে জন্য। লোকেশনগুলো মোটেই আরামদায়ক ছিল না। এর মাঝেও আনন্দ ছিল। যেমন নাটোরে গিয়ে খাঁটি খেজুরের রস খাওয়া।
বাংলাদেশে বড় পর্দায় আপনার পথচলার আগেই গত বছর বলিউডের ‘হিন্দি ভিন্দি’ সিনেমা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আপনার অভিষেক হয়ে গেছে। দেশের আগে বলিউডে শুরু করার সেই গল্পটা যদি একটু বলেন।
নীনা গুপ্তা ও মিহির আহুজার সঙ্গে অভিজ্ঞতা ছিল খুবই উপভোগ্য। নীনা গুপ্তার সঙ্গে আমার একটা খুব লম্বা ইমোশনাল সিন ছিল। এরপর উনি আমার মায়ের কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন, ‘আপ কা বেটি বহুত আচ্ছা কিয়া।’ আরো ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ভেরি পপুলার সিঙ্গার গাই সিবেইস্টেইন। এত গ্রেট আর্টিস্ট প্রফেশনালিজম, আই লারনড আ লট। ডিরেক্টর আলী সায়িদ মেড আ রিয়েলি ব্রিলিয়ান্ট মুভি।
‘হিন্দি ভিন্দি’ সিনেমায় আপনি ‘রিহানা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে অস্ট্রেলীয় টোনে ভাঙা ভাঙা হিন্দি বলে। নিজের এ চরিত্র ও ভাষার প্রস্তুতি কীভাবে নিয়েছিলেন?
পুরনো ছবি দেখার নির্দেশনাসহ তারা আমাকে কিছু না কিছু ওয়ার্কশপ প্রতিদিন দিতেন। ভিডিও করে করে আমাকে ডায়ালগ এক্সপ্রেশন পাঠাতে হতো। তারপর বলে দিতেন, কোথায় কী ইমপ্রুভ করতে হবে।
অভিনয়ে আসার মূল অনুপ্রেরণা কোথা থেকে পেয়েছিলেন?
ইট ওয়াজ মাই রুট। বাবা-মা ফ্রম দ্য চাইল্ডহুড শতভাগ যুক্ত ছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। ছোটবেলায় গিয়াস উদ্দিন সেলিম, মাহফুজ আহমেদ, তারিনসহ সব সেলিব্রিটি আমাদের বাসায় আসতেন। স্কুল থেকে এসে আমাকে কিছু না কিছু কালচারাল অ্যাক্টিভিটিজ করতে হতো। এভাবেই অনুপ্রেরণাটা এসে গেছে।
আপনি অভিনয়ের পাশাপাশি একজন পেশাদার আলোকচিত্র শিল্পী। লেন্সের সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় করা নাকি লেন্সের পেছনে থেকে মুহূর্ত বন্দি করা—কোনটি আপনার সত্তাকে বেশি তৃপ্তি দেয়?
দুটোই। দুইটার দুই রকম রেসপনসিবিলিটি। যখন যেটা করি ট্রাই করি শতভাগ পারফেক্ট করার।


