
কক্সবাজারে আদালতে হাজিরা দিতে আসা বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, দুজন আহত
মে ২৪, ২০২৬
‘প্রায় চূড়ান্ত’ চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ খোলার দাবি ট্রাম্পের, দ্বিমত তেহরানের
মে ২৪, ২০২৬এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে
আগামী এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল বিকালে ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীর জাতীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। কবির বাল্যস্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালের দরিরামপুরের নজরুল একাডেমি মাঠের নজরুল মঞ্চে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীর তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান হয়।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে যেটি বড় ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদের সময়ে মানবতা, মানবিকতা এবং দেশের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে একেবারেই বিনষ্ট করে দেয়া হয়েছে। ঢাকার মিরপুরে একটি নিষ্পাপ মেয়ের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ মিলেছে।’
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আজকের অনুষ্ঠানে আমি পরিষ্কারভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এ ধরনের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বর্তমান সরকার রামিসার এ হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশা আল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।’
প্রধানমন্ত্রী এ সর্বোচ্চ শাস্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি, মানুষ এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতন করার সাহস না পায়।’
তিনি বলেন, ‘একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদেরকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম প্রাসঙ্গিক।’
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা, জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুর রহমান শিবলী, ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কবিপৌত্রী খিলখিল কাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিখ মনজুর, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন এবং জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান।
‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন: গতকাল দুপুরে ত্রিশালের বৈলর এলাকার ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় এক সমাবেশে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে, সতর্ক থাকুন।’ তিনি বলেন, ‘আজকে যারা দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, দেশে এ মুহূর্তে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হবে। দেশের মানুষ বিপদে পড়বে।’
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিন-চারদিন আগে এ অত্যন্ত দুঃখজনক, হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা ঘটেছে। এ ছোট্ট বাচ্চাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রথম থেকে আমরা বলে এসেছি, আইনের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ করে তাকে শাস্তি পেতে হবে। আইনের শাসন আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। তবে সবকিছু নিয়ম-কানুন মেনেই করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো অন্যায়কারীকে শাস্তি দিতে হলে, তার বিচার করতে হলে সরকারের কতগুলো নিয়ম-কানুন আছে। অথচ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে কিছুসংখ্যক মানুষ একটা ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিচ্ছে, যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে, এখানে আগুন ধরাচ্ছে, ওখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এ কাজগুলো যারা করে তারা আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল সেই সময় আমরা দেখেছি দেশে এ রকম কয়েকটি দুঃখজনক অন্যায় ঘটেছে, সেই অন্যায় যখন ঘটেছে আমি নিজে সেই সব বাচ্চার মায়েদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, আমাদের দলের চিকিৎসকরা গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছে, আইনজীবীরা গিয়ে আইনি সহায়তা করেছিল। আজকে যেই ব্যক্তিরা হৈচৈ করছে, রাস্তা অবরোধ করছে, বড় বড় কথা বলছে, সেদিন কিন্তু তাদেরকে আমরা মাঠে দেখিনি, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি তারা অবরোধ করেছে।’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তাহলে কি আমরা ধরে নেব ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ যেহেতু বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করতে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই জন্যই কোনো মহলের মনে জ্বালা হচ্ছে এবং এ জ্বালার কারণেই তারা এসব ষড়যন্ত্র করছে?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। গত ৫ আগস্ট যাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ এ দেশ থেকে বিতাড়িত করে দিয়েছিল, এখন যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে তাদের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। যেভাবে ’৯৬ সালে করেছিল, যেভাবে ’৮৬ সালে করেছিল, তাদের সঙ্গে নতুন কয়েকটি সুন্দর ছোট ছোট লেজও গজিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এ দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। যেই স্বৈরাচার বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার, মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, খেটে খাওয়া মানুষ, গ্রামে বাস করা মানুষের সব ধরনের উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিল, সেই স্বৈরাচারকে এ বাংলাদেশের মানুষ, ছাত্র-জনতা রাজপথে একত্রিত হয়ে তাদেরকে এ দেশ থেকে বের করে দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষ দেশ গঠন করতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ তার ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। ভাগ্যের পরিবর্তন যদি করতে হয় আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে সক্রিয় করে তুলতে হবে, আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে ব্যবহার করতে হবে, তাহলেই আমরা এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব।’
জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা রুখতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে সময় এসেছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করার। অন্যদিকে যারা ন্যায়বিচারকে, সঠিক বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, মানুষের জন্য গৃহীত কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্তের জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে এ দেশের মালিক জনগণ। কিছুসংখ্যক মানুষ দেশে বিভ্রান্তি ছড়াবে আর তারা সফল হয়ে যাবে, মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে এ কাজ আর হতে দেয়া যাবে না। যারা জনগণের সঙ্গে থাকবে, জনগণের পাশে থাকবে, জনগণের জন্য কাজ করবে বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকেই সঙ্গে নিয়ে এ দেশকে রক্ষা করবে যেকোনো ষড়যন্ত্রের হাত থেকে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ঘর আমাকেই দেখতে হবে। আমাদের দেশ-স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, দেশের মানুষের স্বার্থ আমরাই দেখব এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করব আমরা ইনশা আল্লাহ।’
ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে সমাবেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নিজে কোদাল দিয়ে ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি খালের পাশে একটি তাল গাছের চারাও রোপণ করেন।


