
ময়মনসিংহে নজরুলজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
মে ২৪, ২০২৬
ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার কম হলে নগদ লভ্যাংশ নয়
মে ২৪, ২০২৬সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়িত হতে পারে। প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি, এরপর হরমুজ প্রণালির সংকট সমাধান এবং পরে বৃহত্তর চুক্তির জন্য ৩০ দিনের আলোচনা, যা প্রয়োজনে বাড়ানো যেতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি বিষয়ক আলোচনার ‘বড় অংশে সমাঝোতা হয়ে গেছে’। এ সমঝোতা স্মারক অনুসারে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হবে। তবে ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি এ দাবির বিরোধিতা করেছে। খবর রয়টার্স।
নিজের মালিকাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে গতকাল ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় থাকা এ চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি আবার চালু হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলা চালানোর পর শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ বন্ধ হয়ে যায়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তবে সম্ভাব্য চুক্তিতে আর কী কী থাকবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘চুক্তির চূড়ান্ত দিক ও খুঁটিনাটি এখন আলোচনা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।’
তবে আজ ভোরে ফারস নিউজ জানিয়েছে, এ সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকবে। প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ‘বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’।
এর আগে গতকাল তেহরান জানিয়েছিল, যুদ্ধ অবসানে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরির দিকে তারা কাজ করছে। পাকিস্তান সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের সঙ্গে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এ তথ্য জানানো হয়।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, আলোচনায় ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ অগ্রগতি হয়েছে। আলোচনায় যুক্ত পাকিস্তানি দুটি সূত্র জানিয়েছে, যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে তা যুদ্ধ শেষ করার জন্য ‘যথেষ্ট বিস্তৃত পরিসরের’।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের ‘অসাধারণ প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করা হয়েছে।
সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়িত হতে পারে। প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি, এরপর হরমুজ প্রণালির সংকট সমাধান এবং পরে বৃহত্তর চুক্তির জন্য ৩০ দিনের আলোচনা, যা প্রয়োজনে বাড়ানো যেতে পারে।
পাকিস্তানি একটি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সমঝোতা স্মারক গ্রহণ করে, তাহলে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর আরো আলোচনা হতে পারে।
যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ওপর প্রভাব পড়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও চাপে পড়েছে। শুক্রবার তিনি বলেন, ইরান পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে তিনি ছেলের বিয়েতে যোগ দেবেন না এবং ওয়াশিংটনেই থাকবেন।
গতকাল তিনি জানান, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), জর্ডান, মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, নেতারা ট্রাম্পকে আলোচনায় থাকা সমঝোতা কাঠামো মেনে নিতে উৎসাহ দিয়েছেন।
এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাদা ফোনালাপও ‘খুব ভালো’ হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল এখনো বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান।
ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতেই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না এবং বেসামরিক কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে।


