
রাওয়ালপিন্ডির স্মৃতি ফিরবে কি মিরপুরে?
মে ৮, ২০২৬
বাংলাদেশের জিডিপিতে বহুজাতিকের অবদান ৫ শতাংশের নিচে
মে ৮, ২০২৬আসন্ন ঈদুল আজহার আগে রাজধানীর বাজারগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে সবজির মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের চাপ বাড়িয়েছে।
বাজারে ৬০ টাকার কমে মিলছে না কোনো সবজি। ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়ায় ঊর্ধ্বমুখী সবজির দাম। দাম বেড়েছে ডিমেরও। সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। মোটা ও মাঝারি চালের কেজিতে সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে ২-৩ টাকা বেড়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা কাঁচাবাজার, হাতিরপুল বাজার, কাজীপাড়া বাজারসহ আরো কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও ১১০-১২০ টাকা ছিল ডিমের ডজন। এছাড়া বাজারে সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী। ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক দিন টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় অনেক সবজিখেত নষ্ট হয়ে গেছে। এতে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়ায় দাম কিছুটা বাড়ছে। তবে কাঁচামরিচের দাম নাগালের মধ্যে রয়েছে।
কারওয়ান বাজারে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পটোল ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৯০, বরবটি ৭০, ঝিঙা ও ধুন্দল ৭০-৮০, বেগুন ৬০-৭০ ও ঢেঁড়শ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মৌসুমের শুরুতে সাধারণত চালের দাম কমলেও বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মোটা ও মাঝারি চালের কেজিতে সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে ২-৩ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি মোটা চাল ৫৫-৫৮ ও মাঝারি চাল ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট চাল ৭৫-৮০, আটাশ ৫৫-৬০ ও নাজিরশাইল ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন চাল বাজারে এলে কেজিপ্রতি ৩-৫ টাকা কমবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
কারওয়ান বাজারের এক পাইকারি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে নতুন চাল আসা শুরু করলে সাধারণত দাম কমে। তবে এবার বৃষ্টির কারণে নতুন চাল এখনো আসেনি সেভাবে। তবে পুরনো চাল যেগুলো আছে তার দাম কমবে না।’
চালের দাম না কমলেও কিছুটা স্বস্তি ফিরছে মুরগির বাজারে। দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকা মুরগির দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। গতকাল কারওয়ান বাজারে ব্রয়লার ১৭০, সোনালি ৩২০ ও দেশী মুরগি বিক্রি হয়েছে ৬০০ টাকায়। রামপুরা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী সোবাহান বলেন, ‘মুরগির বাজার কয়েক দিন ধরে স্থিতিশীল। সরবরাহ ঘাটতি নেই। ব্রয়লারের কেজি ১৮০-১৯০ টাকায় বিক্রি করলেও সপ্তাহের ব্যবধানে ১৭০-১৭৫ টাকা বিক্রি করছি।’
এছাড়া মাছের বাজারও গত এক সপ্তাহে স্থিতিশীল রয়েছে। রুই মাছ ৩৬০ টাকা, বাগদা চিংড়ি আকারভেদে ৭০০-৮০০, তেলাপিয়া ২২০-২৫০ ও পাঙাশ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের দৈনিক বাজারদরের প্রতিবেদনেও বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য বলছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানীর প্রধান বাজারগুলোতে সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, কাঁচামরিচ ও ডিমের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ছোলা, আমদানি করা রসুন, আদা, ব্রয়লার মুরগি ও লেবুর দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এক সপ্তাহ আগে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটারের দাম ১৯৫ থেকে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ থেকে বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বাজারে গিয়ে সয়াবিন তেল অতিরিক্ত দামে বিক্রি করতে দেখা যায়নি।
এদিকে কোরবানির ঈদকে ঘিরে মসলার দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে মসলার বাজার স্থিতিশীল থাকলেও ঈদের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে সিন্ডিকেট সক্রিয় হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।


