পাইকারি বাজার স্থিতিশীল থাকলেও খুচরায় বাড়ছে সব ধরনের মসলাপণ্যের দাম
এপ্রিল ২০, ২০২৬
জ্বালানি বাণিজ্যের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থান শক্তিশালী করছে রাশিয়া
এপ্রিল ২০, ২০২৬
পাইকারি বাজার স্থিতিশীল থাকলেও খুচরায় বাড়ছে সব ধরনের মসলাপণ্যের দাম
এপ্রিল ২০, ২০২৬
জ্বালানি বাণিজ্যের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থান শক্তিশালী করছে রাশিয়া
এপ্রিল ২০, ২০২৬

প্রশ্নোত্তরে জ্বালানিমন্ত্রী দেশে মজুদ গ্যাস ১২ বছর সরবরাহ করা সম্ভব

দেশে মজুদ গ্যাস ১২ বছর সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

লিখিত প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমানে দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ ২৯ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট মজুদ ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। নতুন কোনো গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে এবং বর্তমানে কমবেশি দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করা হলে ওই অবশিষ্ট ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদের ভিত্তিতে আনুমানিক ১২ বছর সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’

নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘পেট্রোবাংলার ৫০ থেকে ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মপরিকল্পনার আওতায় এ পর্যন্ত ২৬টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কূপগুলো খনন ও ওয়ার্কওভারের লক্ষ্যে কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাপেক্স কর্তৃক সিসমিক সার্ভের আওতায় ব্লক-৭ ও ৯-এ প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কিলোমিটারের ডেটা আহরণ করে উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলমান। বিজিএফসিএল হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনার ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় থ্রিডি সিসমিক ডেটা আহরণের কার্যক্রম শুরু করব। পাশাপাশি বাপেক্স ভোলার চরফ্যাশনে ৬৬০ বর্গকিলোমিটার ও জামালপুরে ৬৫০ বর্গকিলোমিটার, বিজিএফসিএল তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদীসংলগ্ন ৬৩২ বর্গকিলোমিটার ও এসজিএফএল কর্তৃক লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাসটিলা সাউথ এবং ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েস্ট স্ট্রাকচারে ৮৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় থ্রিডি সিসমিক জরিপ সম্পাদনের নিমিত্তে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মো. নূরুল ইসলামের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, গভীর ও অগভীর সমুদ্রাঞ্চলে নতুন গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং এ লক্ষ্যে শিগগিরই নতুন অফশোর বিডিং রাউন্ড আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী আরো জানান, বাংলাদেশ অফসোর বিডিং রাউন্ড ২০২৪-এর অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) পর্যালোচনার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোকে অধিকতর আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বিদ্যমান ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৩’ হালনাগাদ করার লক্ষ্যে খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এ খসড়ার ওপর সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং/মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। এ মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রণীত খসড়া ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ চূড়ান্ত অনুমোদনের পর হালনাগাদ করা পিএসসির আওতায় গভীর ও অগভীর সমুদ্রাঞ্চলে নতুন গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং এ লক্ষ্যে শিগগিরই নতুন অফশোর বিডিং রাউন্ড আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টাল প্রকল্পের নামে লুটপাট ও বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে বলেও তিনি সংসদে জানান। পাবনা-৫ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

বিদ্যুৎ মন্ত্রী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ জারি করা হয়েছিল। এ আইনের আওতায় কোনো ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র বা ক্রয় প্রক্রিয়া ছাড়াই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অযাচিত প্রস্তাব অনুমোদনের সুযোগ তৈরি করা হয়।

তিনি আরো বলেন, এ আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী গঠিত নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্যারিফ অনুমোদন করা হতো। এ প্রক্রিয়ায় প্রায়ই বিদ্যুতের অন্যায্য মূল্য ও অস্বাভাবিক ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ধারণ করা হতো। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাবশালী নেতারা এবং তাদের আত্মীয়স্বজনও জড়িত ছিলেন। এতে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

তিনি জানান, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বিতর্কিত ওই বিশেষ বিধান আইনটি বাতিল করে অধ্যাদেশ জারি করেছে। ওই অধ্যাদেশটি ৭ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে। ফলে আগের মতো স্বেচ্ছাচারী প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *