
যুদ্ধের প্রভাবে মালয়েশিয়ায় সংকুচিত হচ্ছে চাকরির বাজার
এপ্রিল ২০, ২০২৬
প্রশ্নোত্তরে জ্বালানিমন্ত্রী দেশে মজুদ গ্যাস ১২ বছর সরবরাহ করা সম্ভব
এপ্রিল ২০, ২০২৬কোরবানির ঈদের আগে বাজারে চাহিদা বাড়ে মসলাপণ্যের। এ বছর পর্যাপ্ত আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনের কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।
তবে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজার প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের মসলাপণ্যের দাম বাড়ছে।
দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুকনা মরিচ, রসুন, ধনিয়াসহ কয়েকটি ছাড়া প্রায় সব ধরনের মসলার দাম স্থিতিশীল। বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া অনেক আমদানি করা মসলাপণ্যের দাম কমতির দিকে রয়েছে। কিন্তু পাইকারি বাজার থেকে সংগ্রহের পর বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় পণ্য পৌঁছাতে পরিবহন খরচ পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বাড়তে থাকলে আগামীতে মসলার দাম আরো বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা বলছেন, এক-দেড় মাস আগেও পাবনা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া থেকে প্রতি ট্রাক পেঁয়াজ চট্টগ্রামে আনতে ২৪-২৬ হাজার টাকা লাগত। বর্তমানে পরিবহন খরচ বেড়ে ৪৫ হাজার টাকায় উঠেছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দামে প্রভাব পড়ছে। আগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উৎপাদন এলাকা থেকে চট্টগ্রামে পেঁয়াজ, শুকনা মরিচের মতো পণ্য সরবরাহ দেয়া সম্ভব হলেও বর্তমানে দেড়-দুইদিন পর্যন্ত সময় লাগছে। এ কারণে পরিবহন মালিকরা যানবাহনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা বেড়েছে। রসুনের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০-১২ ও আস্ত ধনিয়ার দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা। তবে অধিকাংশ মসলার দাম বর্তমানে নিম্নমুখী। যদিও দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার পাইকারি ও খুচরা বাজারে পচনশীল ও শুকনা গরমমসলা বাড়তি দামেই বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। পরিবহন খরচ ও পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
খাতুনগঞ্জের মেসার্স ইরা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, পেঁয়াজের বাজার আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। পরিবহন খরচ দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়ে গেলেও পেঁয়াজের কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২-৩ টাকা। এটা খুব একটা বেশি নয়। অনেক ব্যাপারীই আড়তে পেঁয়াজ পাঠিয়ে লোকসান গুনছেন। উৎপাদন এলাকার আড়ত ও পাইকারি বাজারে দাম না বাড়ালেও খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েছে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে। জ্বালানি পরিস্থিতি ও যানবাহনের ভাড়া আরো বাড়তে থাকলে কোরবানির ঈদের আগে মসলাপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খাতুনগঞ্জে শনিবার প্রতি কেজি শুকনা মরিচ বিক্রি হয়েছে (ভারত থেকে আমদানি) ৩৯৮-৪০০ টাকায়। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এ মরিচের দাম বেড়েছে ২৫-৩০ টাকা। এছাড়া পঞ্চগড়ের মরিচের দাম সমপরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৪৫ টাকা। যদিও দেশীয় হলুদের দাম ১২-১৫ টাকা কমে কেজিপ্রতি লেনদেন হচ্ছে ২১৮ টাকায়। এছাড়া ধনিয়ার দাম কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩৮-১৫৫ টাকায় (মানভেদে)। জয়ত্রীর দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকায়।
এদিকে পাইকারি বাজারে আমদানীকৃত গরমমসলার মধ্যে জিরার দাম কেজিপ্রতি ৮-১০ টাকা কমে লেনদেন হচ্ছে ৫৫০ টাকায়, দারচিনি ৩৫০-৩৫৫, লবঙ্গ ১ হাজার ৩৩০, গোলমরিচ ১ হাজার ২০, এলাচ ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার, জায়ফল ৭০০, কালিজিরা ৩৬০, মেথি ১৩০ ও সরিষা ৯৪-৯৫ টাকায় লেনদেন হয়েছে।
আড়তগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ ২২ থেকে ২৮ টাকায় লেনদেন হয়েছে। যদিও সদ্য মাঠ থেকে উত্তোলন হওয়া পানিযুক্ত ও পচন ধরেছে এমন পেঁয়াজ পাইকারিতে কেজিপ্রতি ৭ থেকে ১৫ টাকায় লেনদেন হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে রসুন বিক্রি হয়েছে (আমদানীকৃত) ১৩০-১৩২ টাকায়, দেশী রসুন ৬৫-৭০ ও আমদানীকৃত আদা ৯০-৯২ টাকা কেজি দরে। পরিবহন খরচ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকলে কোরবানির ঈদের আগে পচনশীল মসলাপণ্যের দাম পাইকারি বাজারেও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঢাকার মৌলভীবাজার, শ্যামবাজার, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, পাহাড়তলী ও রিয়াজউদ্দিন বাজারেই সবচেয়ে বেশি পাইকারি পণ্য লেনদেন হয়। এসব বাজার থেকে সারা দেশের বাজারগুলোতে দেশী ও আমদানীকৃত মসলা সরবরাহ করেন ব্যবসায়ীরা। পাইকারি বাজারগুলোতে দাম অনেকটা স্থিতিশীল থাকলেও দেশব্যাপী এসব মসলাপণ্য পৌঁছাতে পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে, যার কারণে কেজিপ্রতি মসলার দামে মানভেদে ২ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে সংগ্রহকারী ব্যবসায়ীদের। এজন্য সারা দেশের খুচরা বাজারগুলোতে এখনই গরমমসলা ও পচনশীল মসলাপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের মেসার্স নিজাম এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক অমল সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এক মাস আগেও যুদ্ধের কারণে অনেক মসলাপণ্যের দাম বেড়েছিল। এখন বাড়তি পণ্যগুলোর দাম কমতে শুরু করেছে। আবার স্থিতিশীল থাকা মসলার দামও অপরিবর্তিত আছে। শুকনা মরিচ, ধনিয়াসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়লেও সেটি অস্বাভাবিক নয়। সারা দেশের ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা কোরবানির ঈদের অনেক আগেই গরমমসলা সংগ্রহ করেন। এজন্য পাইকারি বাজারে এখন বিক্রি ও ভিড় অনেক বেশি। তবে পরিবহন ভাড়া না কমলে পণ্যের দাম কোরবানির ঈদের আগে অস্থিতিশীল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’


