
জ্বালানি বাণিজ্যের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থান শক্তিশালী করছে রাশিয়া
এপ্রিল ২০, ২০২৬
এসএসসি-দাখিল পরীক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা বিরোধীদলীয় নেতার
এপ্রিল ২০, ২০২৬মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছেই না।
কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়া প্রথম দফার আলোচনা শেষে দ্বিতীয় দফা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল, তা এখনো রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনায় অংশ নিতে আজ সন্ধ্যা নাগাদ পাকিস্তানে পৌঁছবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল। কিন্তু নিজেদের অবস্থানে এখনো অনড় ইরান। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন নৌ-অবরোধ যতক্ষণ বহাল থাকছে, ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়। এমনকি তারা ইসলামাবাদে কোনো প্রতিনিধিও পাঠাবে না। খবর তাসনিম, আল জাজিরা, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।
গতকাল এবিসি নিউজের সাংবাদিক জনাথন কার্ল এক এক্স পোস্টে জানান, ট্রাম্প তাকে বলেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তবে এর পরও একটি শান্তি চুক্তি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। কার্ল জানান, ট্রাম্প তাকে বলেছেন, এটি (শান্তি চুক্তি) হবেই। কোনো না কোনোভাবে এটি হবে। হয় সহজভাবে, না হয় কঠিনভাবে—কিন্তু এটি ঘটবে।
এর পরই চুক্তি না হলে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আমরা খুব ন্যায্য এবং যৌক্তিক একটি চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি। আশা করি, তারা (ইরান) এটি গ্রহণ করবে। কারণ যদি তারা তা না করে তবে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।’ এর আগেও একাধিকবার এমন হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পর ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে মার্কিন প্রতিনিধি দলের পাকিস্তানে যাওয়ার কথা জানান ট্রাম্প। তিনি লেখেন, এ আলোচনার জন্য সোমবার (আজ) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।
এর মধ্যেই আবার পাকিস্তানে কারা যাবেন তা নিয়ে শুরু হয় অনিশ্চয়তা। এবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবারের আলোচনায় থাকছেন না বলে জানান ট্রাম্প। কারণ হিসেবে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানান তিনি। যদিও ইরানের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভ্যান্স। তবে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে সিএনএনকে পরে জানানো হয়, ইরানের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনায় যোগ দিতে জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারও থাকছেন। এবারো প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন ভ্যান্স।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকায় আলোচনার জন্য পাকিস্তানে কোনো প্রতিনিধি দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশটির আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ অবরোধ যতক্ষণ কার্যকর থাকবে, ততক্ষণ কোনো আলোচনা হবে না। অবরোধ বহাল রেখে আলোচনার টেবিলে বসার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে তেহরানের নেই।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফায় অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। এর কারণ হিসেবে তারা ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত চাহিদা, অবাস্তব প্রত্যাশা, অবস্থানের ক্রমাগত পরিবর্তন এবং বারবার স্ববিরোধী বক্তব্যকে দায়ী করেছে। এছাড়া চলমান মার্কিন নৌ-অবরোধকেও দায়ী করেছে, যাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করে ইরান।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে এ দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, এর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তেহরানের একের পর এক অপরিপক্ব ও অগোছালো বক্তব্যকেই দায়ী করেছেন বিশ্লেষকরা। গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির হরমুজ খুলে দেয়ার ঘোষণা, এরপর আবার আইআরজিসির এ নিয়ে শর্তারোপ ও ব্যাখ্যা, ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের একের পর এক পোস্ট ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নেয়ার দাবি এবং সবশেষ হরমুজ পুনরায় আগের অবস্থায় নেয়ার ঘোষণা—সবকিছুই পরিস্থিতিকে শুধু ঘোলাটেই করেছে।
তবে যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা ফলপ্রসূ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এ বিষয়ে অবগত সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম বলেছে, আগামী শুক্রবারের আগেই এ আলোচনা হতে যাচ্ছে, এমনকি আগামীকাল মঙ্গলবারও তা হতে পারে।
কাতারভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা জানিয়েছে, এ আলোচনা ঘিরে এরই মধ্যে ইসলামাবাদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের অদূরে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিশালাকার সি-১৭ গ্লোবমাস্টার কার্গো বিমান অবতরণ করেছে। বিমানবন্দর থেকে ইসলামাবাদের ‘রেড জোন’ পর্যন্ত রাস্তাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এমনকি ইসলামাবাদের সেরেনা ও ম্যারিয়ট হোটেল থেকে অতিথিদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ম্যারিয়ট হোটেল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, পাকিস্তান সরকার গতকাল বেলা ৩টা থেকে পুরো হোটেলটি বুকিং করে রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রথম পর্ব যে সেরেনা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেটিও আগামী কয়েক দিনের জন্য সব বুকিং স্থগিত রেখেছে। রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষও পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত গণ ও পণ্য পরিবহন স্থগিত রাখার আদেশ জারি করেছে।
এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে আটকে আছে হাজারো বাণিজ্যিক জাহাজ। গত শনিবার গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল করেছিল, কিন্তু তেহরান প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এদিন কয়েকটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাত হানার খবরও পাওয়া গেছে। একই দিন একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছিল। এছাড়া গতকাল এ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ফিরিয়ে দেয় আইআরজিসি।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে উপসাগরজুড়ে বিশেষ করে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছাকাছি অনেকগুলো জাহাজকে নোঙর করে থাকতে দেখা গেছে।


