ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে পাকিস্তানে যেতে পারেন ট্রাম্প
এপ্রিল ১৮, ২০২৬
চার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫
এপ্রিল ১৯, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে পাকিস্তানে যেতে পারেন ট্রাম্প
এপ্রিল ১৮, ২০২৬
চার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫
এপ্রিল ১৯, ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত

দেশে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে সর্বোচ্চ বেড়েছে অকটেনের দাম, লিটারপ্রতি ২০ টাকা।

আর নতুন এ দাম গতকাল রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশে পণ্য পরিবহন খরচ, যাত্রীবাহী গাড়ির ভাড়া ও মূল্যস্ফীতিও বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি বিভাগের পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০, পেট্রল ১৩৫ ও কেরোসিনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩০ টাকা।

আগে ডিজেলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা। ফলে ডিজেলে দাম বেড়েছে লিটারে ১৫ টাকা, পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। এতে লিটারে বেড়েছে ১৯ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে বেড়েছে ২০ টাকা। আর কেরোসিনের দাম ১১২ থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। এতে লিটারে কেরোসিনের দাম বেড়েছে ১৮ টাকা।

দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ডিজেল। বিশেষ করে পরিবহন, কৃষি ও জাহাজ চলাচলে এর ব্যবহার বেশি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ক্রুড অয়েল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি বাড়িয়েছে সরকার। এতে বাড়তি দামে তেল কিনতে গিয়ে বিপুল পরিমাণের ভর্তুকির কথা জানায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম গত ২৭ মার্চ জানান, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এ হিসাব ধরলে মাসে জ্বালানি তেলে বর্তমানে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি লাগছে।

জ্বালানি বিভাগের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির কথা তুলে ধরা হচ্ছে। এর মধ্যে ৯ এপ্রিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে সরকারকে প্রতি মাসে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। দেশের নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকার জ্বালানি সরবরাহ ঠিক রাখতেই এ ভর্তুকি চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে গত ফেব্রুয়ারিতে। মার্চে দাম সমন্বয় করা হলেও তাতে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম বাড়ায়নি সরকার। বরং ফেব্রুয়ারির দাম অপরিবর্তিত রেখেছিল।

এদিকে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ‘প্যানিক বায়িং’ কমবে না, বরং সংকটে যারা মজুদ করেছিল, তারা বাড়তি মুনাফা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে দেশের সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে, সেই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে প্যানিক বায়িং কমবে বলে মনে হয় না। যারা জ্বালানি তেল জমিয়ে রেখেছিল তারা কিছুটা মুনাফা করবে। ট্রান্সপোর্ট সেক্টরে প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে ট্রাকের ভাড়া বাড়বে। পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়বে। তাতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ বৃদ্ধিটা বেশি নয়। এ বৃদ্ধির পরও ভর্তুকি দিতে হতে পারে।’

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এমন কথা বার বার বলছে সরকার। তবুও জ্বালানি তেল নিতে সারা দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ভোক্তারা। এদিকে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ধরতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে সরকার। গত দেড় মাসের অভিযানে কয়েক লাখ লিটার ডিজেল, পেট্রল, অকটেনের অবৈধ মজুদ জব্দও করেছে সরকার। এরপরও জ্বালানি তেলের দীর্ঘ লাইনের ঘাটতি কমানো যাচ্ছে না।

এর আগে সবশেষ ৭ এপ্রিল বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল বা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়। বিইআরসি ঘোষিত দাম অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২২৭ টাকা শূন্য ৮ পয়সা করা হয়েছিল। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪৮০৬ ডলার (শুল্ক ও মূসকমুক্ত) নির্ধারণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *