শর্তের বেড়াজালে ‘ভঙ্গুর’ যুদ্ধবিরতি, কাটছে না অনিশ্চয়তা
এপ্রিল ৯, ২০২৬
হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১০ শিশুর মৃত্যু, শনাক্তের হার ৬০ শতাংশ ছাড়াল
এপ্রিল ৯, ২০২৬
শর্তের বেড়াজালে ‘ভঙ্গুর’ যুদ্ধবিরতি, কাটছে না অনিশ্চয়তা
এপ্রিল ৯, ২০২৬
হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১০ শিশুর মৃত্যু, শনাক্তের হার ৬০ শতাংশ ছাড়াল
এপ্রিল ৯, ২০২৬

যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গেছে।

গতকাল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের কাছাকাছি নেমে যায়। যুদ্ধ শুরুর আগে জ্বালানি তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি গড়ে ৭০ ডলার। অর্থাৎ তেলের দাম কমলেও তা এখনো ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের তুলনায় অনেক বেশি অবস্থানে রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসায় বিশ্বের বড় শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে; দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ার বাজার বেড়েছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া হংকংয়ের হাং সেং ৩ শতাংশ এবং চীনের শেনচেন কম্পোজিট সূচক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপের বাজারগুলোতেও ব্যাপক উত্থান দেখা গেছে। গতকাল সকালে ব্রিটেনের এফটিএসই ১০০ সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। জার্মানির ড্যাক্স ৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং ফ্রান্সের সিএসি ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটেও ইতিবাচক সূচনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বাজারে স্বস্তি ফিরলেও যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্লেষক অ্যালেক্স হেলস বলেন, ‘এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে কিনা—তা বোঝার জন্য ইসরায়েল, ইরান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের পদক্ষেপগুলো নজরে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনায় বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে, তাই বাজার এখনো ‘অপেক্ষা এবং দেখার’ নীতি নিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। সংঘাত শুরুর আগে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার থাকলেও এখন ২০২৭ সাল পর্যন্ত ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের ওপরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শোর ক্যাপিটালের বিশ্লেষক জেমস হোসি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও এটি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আবার সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *