যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম
এপ্রিল ৯, ২০২৬
বিএনপি খুব দ্রুত দমনমূলক অবস্থানে যাচ্ছে: আসিফ
এপ্রিল ৯, ২০২৬
যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম
এপ্রিল ৯, ২০২৬
বিএনপি খুব দ্রুত দমনমূলক অবস্থানে যাচ্ছে: আসিফ
এপ্রিল ৯, ২০২৬

হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১০ শিশুর মৃত্যু, শনাক্তের হার ৬০ শতাংশ ছাড়াল

দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গত কয়েক দিনে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ওঠানামা করলেও শনাক্তের হার ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার পৌঁছেছে ৬৬ শতাংশে, যা উল্লিখিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আরো ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল মোট ১৩৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯২টি হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর আগের দিনগুলোতেও শনাক্তের হার ক্রমাগত বেড়েছে। ৬ এপ্রিল ১৮৭টি নমুনার মধ্যে ৯১টি (৪৮ শতাংশ), ৫ এপ্রিল ১৩৯টি নমুনার মধ্যে ৭৭টি (৫৫ শতাংশ) এবং ৪ এপ্রিল ১৫৬টি নমুনার মধ্যে ৭০টি (৪৫ শতাংশ) সংক্রমণ ধরা পড়ে। এপ্রিলের শুরুর দিকেও সংক্রমণের প্রবণতা ছিল উল্লেখযোগ্য। ৩ এপ্রিল ২৮৫টি নমুনার মধ্যে ৬৯টি (২৪ শতাংশ), ২ এপ্রিল ২৮৮টির মধ্যে ১০৬টি (৩৭ শতাংশ) এবং ১ এপ্রিল ১৮৯টি নমুনার মধ্যে ৬৪টি (৩৪ শতাংশ) নমুনায় হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্চের প্রথম সপ্তাহে শনাক্তের হার গড়ে ৩০-৪০ শতাংশের মধ্যে থাকলেও সপ্তাহের শেষভাগে তা দ্রুত বেড়ে ৫০ শতাংশ অতিক্রম করে এবং সর্বশেষ ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ভাইরোলজিস্ট আমিরুল হুদা ভূইঞা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হাম শনাক্তের হার দিন দিন বাড়ছে। নমুনার পরিমাণ কমে এলেও শনাক্ত বেশি হচ্ছে। প্রথম দিকে ৩০-৩৫ শতাংশ ছিল, যা বর্তমানে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। যেটি আসলে উদ্বেগের। তবে আমরা আশা করছি এ সপ্তাহ পর রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করবে।’

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শনাক্তের হার বাড়ার অর্থ হলো কমসংখ্যক পরীক্ষাতেই বেশি রোগী ধরা পড়ছে, যা সংক্রমণ বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়। এ অবস্থায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি বলে মনে করছেন তারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়া না হলে হামের সংক্রমণ আরো বিস্তার লাভ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‘সন্দেহজনক হাম’ বা হামের উপসর্গ নিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আরো ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর বেশির ভাগই ঢাকা বিভাগে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৩৮ জনের। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুর ছয়জনই ঢাকা বিভাগের। আর তিনজন রাজশাহী এবং একজন খুলনা বিভাগের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দেয়া তথ্যানুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে মোট ২১ শিশু মারা গেছে। আর সন্দেহজনক হাম নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৩৮ শিশুর। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৯৩ শিশু আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮৯ জনের।

এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত মোট শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ৫৯৯। আর হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১৩৩। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ২৪১। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ সংখ্যা ২৮৫। এরপর রয়েছে যথাক্রমে চট্টগ্রাম (১২৬), রাজশাহী (১১৯), খুলনা (৭২), সিলেট (৩৩), বরিশাল (২৫), রংপুর (২০) ও ময়মনসিংহ (১৩)।

সন্দেহজনক হাম নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ৫৯৬ জন ছাড়া পেয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৪৩ জন হাসপাতাল ছেড়েছে। এ নিয়ে গত ২৫ দিনে হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৭ হাজার ৫৭৭ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছে ৫ হাজার ২৪১ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *