
**শিরোনাম: শোষণমূলক কাঠামো ভেঙে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার**
মার্চ ২৭, ২০২৬
তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল
মার্চ ২৭, ২০২৬২৬ মার্চ—মহান স্বাধীনতা দিবস। রক্তস্নাত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্তি আমাদের শুধু গৌরবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় না; বরং নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে—আমরা কতটা এগিয়েছি সেই কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক মুক্তির পথে?
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল কেবল একটি ভূখণ্ড অর্জন নয়; বরং একটি সাম্যভিত্তিক, মানবিক এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী রাষ্ট্র গঠন। সংবিধানেও আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। তবে স্বাধীনতার এত বছর পরও অর্থনৈতিক মুক্তির সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ পেরিয়ে আজ দেশটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির কাতারে দাঁড়িয়েছে। তবুও বাস্তবতা হলো—অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সবার জীবনে সমানভাবে সুফল বয়ে আনতে পারেনি। আয় বৈষম্য, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং সুশাসনের ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক মুক্তির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে দক্ষ মানবসম্পদ। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা—যাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ অর্জন সম্ভব। কিন্তু এই জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে তোলার জন্য প্রয়োজন সময়োপযোগী শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন।
বিশেষ করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে শুধু প্রথাগত শিক্ষা যথেষ্ট নয়। তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং উদ্ভাবনী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের বৈশ্বিক শ্রমবাজারের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। এ জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগোপযোগী সংস্কার এবং গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
অর্থনীতিকে টেকসই করতে হলে রফতানি খাতেও বৈচিত্র্য আনতে হবে। তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ওষুধশিল্প, আইটি সেবা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধান এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন।
এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রধান শর্ত। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তাও মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সুস্থ, দক্ষ ও নিরাপদ কর্মশক্তি গড়ে তুলতে হলে স্বাস্থ্যখাতে কাঠামোগত সংস্কার এবং সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বাধীনতার এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কেবল পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা যেন প্রতিটি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং ন্যায়ভিত্তিক সম্পদ বণ্টনের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।
অতএব, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ প্রশস্ত করাই হোক আমাদের আগামী দিনের প্রধান লক্ষ্য। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সঠিক নীতি এবং দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছাই পারে একটি আত্মনির্ভরশীল, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
সবাইকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।
জাকির হোসেন, সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম


