
সাধারণ ক্ষমার আওতায় মিয়ানমারে মুক্ত সাড়ে চার হাজার বন্দি
এপ্রিল ১৭, ২০২৬
যুদ্ধবিরতির পরও একাধিকবার হামলা করেছে ইসরায়েল: লেবানন
এপ্রিল ১৭, ২০২৬মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ বাড়ছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ‘জটিল বিষয়গুলোতে’ অগ্রগতি করতে পেরেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
তবে ইরান সতর্ক করে দিয়েছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও মধ্যস্থতার মূল ব্যক্তিত্ব ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে ম্যারাথন আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর বুধবার তেহরান পৌঁছেন। গতকাল তিনি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন। একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এ সফর দ্বিতীয় দফা আলোচনা ও দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যদিও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গুরুতর মতভেদ রয়ে গেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে, উভয় পক্ষই আলোচনা পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী, যদিও এখনো কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি। খবর রয়টার্স
ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির খবরে দুই পক্ষের সমঝোতায় পৌঁছার সম্ভাবনা আরো বেড়েছে। ইসলামাবাদে প্রথম দফা আলোচনার আগে ও পরে লেবাননে হামলা বন্ধ করার শর্ত দিয়ে আসছিল ইরান। এর মধ্যে গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ওয়াশিংটনে দুই দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। বাংলাদেশ সময় গতকাল দিবাগত রাত ৩টায় এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে মাত্রই চমৎকার একটি আলোচনা শেষ করেছেন। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই নেতা এ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শিগগিরই আবার সংলাপে বসতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে দ্বিতীয় দফা বৈঠক কোথায় এবং কবে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ সংলাপ নতুন করে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা পরিস্থিতি প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত পরবর্তী দফার আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট এ তথ্য জানান বলে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লেভিট বলেন, পরবর্তী বৈঠকগুলো সম্ভবত আগেরবারের জায়গাতেই (ইসলামাবাদ) অনুষ্ঠিত হবে।
আলোচনা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে লেভিট বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানিরা চমৎকার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তাদের বন্ধুত্ব ও প্রচেষ্টাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিই।’ লেভিট জানান, বর্তমানে পাকিস্তানই এ আলোচনার একমাত্র মধ্যস্থতাকারী দেশ। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশই এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন, পাকিস্তানের মাধ্যমেই এ যোগাযোগ অব্যাহত রাখা জরুরি। সে অনুযায়ী কাজ চলছে।’
সূত্রগুলো বলছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনা প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হলেও পারমাণবিক ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান এখনো বিশাল। যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দাবি থেকে কিছুটা সরে এসে ইরানের সব পারমাণবিক কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে ইরান তিন-পাঁচ বছরের বিরতির কথা বলেছে। ওয়াশিংটন ইরানের উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ চাইছে, আর তেহরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানাচ্ছে।
রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ পথ দিয়ে জাহাজগুলো যাতে হামলার কোনো ঝুঁকি ছাড়াই চলাচল করতে পারে এমন ব্যবস্থা বিবেচনা করে দেখতে পারে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে তেহরান এ প্রস্তাব দিয়েছে বলে আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। হোয়াইট হাউজ বা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রস্তাবটি তেহরানের আগের আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে সরে আসার একটি ইঙ্গিত। এর আগে ইরান এ আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল আরোপ এবং প্রণালির ওপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার হুমকি দিচ্ছিল।
এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে পেন্টাগন। গতকাল মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চুক্তি না হলে সামরিক অভিযান আবার শুরু হবে। যতদিন প্রয়োজন ততদিন ইরানের বন্দর অবরোধ চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে, কারণ ইরানের আর কোনো নৌবাহিনী নেই। ইরান যদি কোনো চুক্তিতে সম্মত না হয় তবে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে মার্কিন শীর্ষ জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, অবরোধের আওতাভুক্ত এলাকায় ইরানকে সহায়তাকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করবে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানকে সহায়তাকারী জাহাজ ছাড়াও ইরানি তেল বহনকারী জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।


