যুদ্ধবিরতির পরও একাধিকবার হামলা করেছে ইসরায়েল: লেবানন
এপ্রিল ১৭, ২০২৬
গ্রীষ্মে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা উৎপাদন সংকটে লোডশেডিং দুই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি
এপ্রিল ১৭, ২০২৬
যুদ্ধবিরতির পরও একাধিকবার হামলা করেছে ইসরায়েল: লেবানন
এপ্রিল ১৭, ২০২৬
গ্রীষ্মে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা উৎপাদন সংকটে লোডশেডিং দুই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি
এপ্রিল ১৭, ২০২৬

৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায়

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে পুনরায় ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে এ দিনটিকে ‘ক-শ্রেণী’ভুক্ত দিবস হিসেবে ঘোষণা করে পুনরায় সরকারি ছুটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠক শেষে রাত ৮টায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে আগের মতো ‘‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’’ হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত ১৬ বছর এ দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়নি। এখন থেকে এটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে এবং এ দিন সরকারি ছুটি থাকবে।’

ঐতিহাসিক ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক অনন্য অধ্যায় রচিত হয়েছিল। সেই চেতনাকে সমুন্নত রাখতেই সরকার এ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আধিপত্যবাদ ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ এক নতুন পথে যাত্রা করেছিল। দীর্ঘ দেড় যুগ পর বর্তমান সরকার সেই ছুটি ও দিবসের মর্যাদা পুনর্বহাল করল।

মন্ত্রিসভায় এ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রতি বছরের ৬ জুলাইকে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ২০৩০ সালের মধ্যে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি—বিশেষ করে সৌরশক্তি (সোলার পাওয়ার) ব্যবহার করে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তিনি বলেন, ‘এজন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫‘’ এবং ‘‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক প্রকল্পে বিনিয়োগ সহজীকরণ’‘ ও ‘‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের প্রস্তাব’’ অনুমোদন বিষয়ে আলাপ হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সরকার জ্বালানি খাতের এ বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি জমির পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও বড় পরিসরে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান নীতিমালাকে আরো কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে এটি রিভিউ করা হয়েছে, যাতে উদ্যোক্তারা সহজে বিনিয়োগ করে মুনাফা নিশ্চিত করতে পারেন। সরকারের অংশগ্রহণের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এজন্য একটি কমিটির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে কাজ শুরু করবে। এ কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজন হলে আইন ও নীতিমালা চূড়ান্ত করে কাজ শুরু করবে।

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি উইন্ড মিল (বায়ুশক্তি) এবং বায়োগ্যাস নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তবে ১০ হাজার মেগাওয়াটের মূল লক্ষ্যমাত্রা শুধু সৌরবিদ্যুতের জন্য নির্ধারিত।’

বর্তমানে প্রচলিত সোলার সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একে আরো আধুনিক ও টেকসই করতে দেশীয় উৎপাদনের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতি বছরের ৬ জুলাইকে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি ‘খ-শ্রেণী’ভুক্ত একটি দিবস হিসেবে পালিত হবে। অর্থাৎ এ দিন কোনো সরকারি ছুটি থাকবে না, তবে দিবসটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপন করা হবে।

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘সৌরবিদ্যুতের কস্টিং বর্তমানে ইউনিট প্রতি ৪-৮ টাকার মধ্যে রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *