
গাইবান্ধায় খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন
মার্চ ১৯, ২০২৬
সাপ্তাহিক পুঁজিবাজার ব্লুচিপ সূচক ডিএস-৩০ কমেছে পৌনে ১ শতাংশ
মার্চ ১৯, ২০২৬দেশে ধান উৎপাদনে মোট সেচের ৯৩ শতাংশই প্রয়োজন হয় বোরো মৌসুমে।
সেচনির্ভর বোরো আবাদে জমির প্রকারভেদে ১৫-৩০ বার সেচ দিতে হয়। এতে ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় বহু গুণে। বিপুল পরিমাণে পানি উত্তোলনের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে যাচ্ছে। সেচ সংকট নিরসনে ১৯৭৫ ও ১৯৮৫ সালের দিকে বরিশাল বিভাগের তিনটি জেলায় ৭৮টি পাম্প হাউজ স্থাপন করা হয়। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণাধীন এসব সেচ পাম্পের বেশির ভাগই অকেজো হয়ে পড়েছে। এসব পাম্প হাউজের ইঞ্জিন ও পাইপ বিক্রির অভিযোগও রয়েছে পাউবোর সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় ব্যক্তিগত পাম্পের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, সরকার পাম্প হাউজগুলো নতুন করে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ১৫টি পাম্প হাউজ নতুন করে চালু করা হয়েছে। আরো ২১টি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে পাউবো কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেচ পাম্পগুলোর আওতায় বিভাগের ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৫ হেক্টর জমি চাষাবাদ হয়ে আসছিল। বিভিন্ন স্থানে পাম্প হাউজগুলোর পুরনো ইঞ্জিন, পাইপ ও যন্ত্রাংশে মরিচা ধরে অচল হয়ে পড়েছে কয়েক যুগ আগেই। কোথাও আবার ভবন ভেঙে পড়েছে। ভবনের দরজা-জানালাও নেই।
বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের পতাং গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘ছোটবেলায় দেখেছি বোরো চাষে পাম্পের পানি ব্যবহার হতো। পাম্পগুলো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়লে তা আর মেরামত করা হয়নি। পাউবোর লোকজন ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গেছে। সেই থেকে সরকারি সেচ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমরা এখন বাধ্য হয়ে বোরো চাষে অধিক খরচে সেচের ব্যবস্থা করছি।’
বাকেরগঞ্জের পাদ্রিশিবপুরের কৃষক অমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘পাউবোর কিছু কর্মকর্তার কারসাজিতে সরকারের এ প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এখন নতুন করে প্রকল্প চালু করার কথা বলছে পাউবো কর্তৃপক্ষ। তবে আগের মতো সেই সুবিধা এখন কৃষক পাবে কিনা তা দেখার বিষয়।’
পাউবো কর্মকর্তারা বলছেন, ১৯৭৫ ও ১৯৮৫ সালে বরিশাল বিভাগে ইরিগেশন প্রজেক্ট নামে একটি প্রকল্পের অধীনে ৭৮টি পাম্প হাউজ স্থাপন করে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল সদর উপজেলায় ১৬টি, বাবুগঞ্জে ১৪, বাকেরগঞ্জে ১২, ঝালকাঠির নলছিটিতে ১৪, ঝালকাঠি সদরে ১৪, রাজাপুরে সাত ও পিরোজপুরের কাউখালীতে একটি পাম্প স্থাপন করা হয়। ধীরে ধীরে পাম্পের ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সরকার পুনরায় পাম্প হাউজগুলো গ্রাফিটিতে উন্নীত করে বিদ্যুচ্চালিত পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে ১৮টি চালু করা হয়েছে। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই আরো ২১টি চালু করা হবে। তবে ধাপে ধাপে অচল পাম্পগুলো সংস্কার করে সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে স্থাপিত পাম্পের সক্ষমতা ২৫ কিউসেক। প্রতি সেকেন্ডে ৭০০ লিটার পানি ওঠাতে সক্ষম একটি পাম্প। আর এ পাম্প থেকে কৃষকদের মাঝে লোকাল সংগঠনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ডিজেলে নিজস্ব পদ্বতিতে একরে যেখানে খরচ হয় সাড়ে ৭ হাজার টাকা, সেখানে পাউবোর গ্রাফিটি পাম্পের মাধ্যমে সেচ দিলে খরচ হবে মাত্র ২ হাজার টাকা।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সময়ে সেচ নিশ্চিত না হলে বোরো ও আমন মৌসুমে উৎপাদন কমে যাবে, যা স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানির বিস্তার আরো বাড়ায় সরকারি সেচ ব্যবস্থা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারিভাবে নির্মিত এসব পাম্প হাউজ এক সময় বরিশাল অঞ্চলের কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশই ধ্বংসের পথে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ শাহিদুল আলম বলেন, ‘বাজেট সীমাবদ্ধতা ও যন্ত্রপাতি সংকটের কারণেই প্রায়ই সংস্কার কাজ বিলম্বিত হয়। সরকার ২৩৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আশা করি ধাপে ধাপে নতুন করে পাম্প স্থাপন করে হাউজগুলো চালু করা হবে।’


