ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ হামলার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের, সরকার পতনের ইঙ্গিত ট্রাম্পের
মার্চ ১৪, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর
মার্চ ১৪, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ হামলার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের, সরকার পতনের ইঙ্গিত ট্রাম্পের
মার্চ ১৪, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর
মার্চ ১৪, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় ঝুঁকিতে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ধীরে ধীরে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। ইরান যুদ্ধের কারণে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সরবরাহ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর ওপর বাড়ছে চাপ।

বিশেষ করে হিলিয়াম ও ব্রোমিনের মতো উপাদান সরবরাহে বিঘ্ন, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ব প্রযুক্তি শিল্পে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ উৎপাদন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। আর তাতে স্মার্টফোন থেকে ল্যাপটপ, ইলেকট্রনিক পণ্য থেকে গাড়ি, সার্ভার থেকে ব্যাংকিং—প্রযুক্তিনির্ভর বহু খাতেই ব্যয় বাড়বে এবং ব্যাহত হবে সেবা। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ই-কমার্স, অনলাইন লেনদেন, শিল্প উৎপাদন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা চাপে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতির গতি শ্লথ করে দিতে পারে; যার শেষ ধাক্কা গিয়ে লাগবে সাধারণ ভোক্তার জীবনযাত্রার ব্যয়ে।

চিপ উৎপাদনের কাঁচামাল এক অঞ্চল থেকে আসে, জ্বালানি অন্য অঞ্চল থেকে, উৎপাদন হয় আরেক দেশে আর ব্যবহার হয় পুরো পৃথিবীতে। ফলে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধও খুব দ্রুত বৈশ্বিক প্রযুক্তি অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিতে পারে। ইরান যুদ্ধ সে বাস্তবতারই একটি নতুন উদাহরণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সংঘাত যদি দ্রুত শেষ না হয়, তাহলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং তা বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অস্থির করে তুলতে পারে।

বর্তমান বিশ্বে স্যাটেলাইট থেকে স্মার্টফোন, চিকিৎসা যন্ত্র থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি—সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো কম্পিউটার চিপ বা মাইক্রোচিপ (ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট)। আধুনিক ডিজিটাল যুগের অবকাঠামো কার্যত এ ক্ষুদ্র চিপগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ফলে এ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিপর্যয় মানে কেবল প্রযুক্তি খাতের সংকট নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, আর্থিক লেনদেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এমনকি দৈনন্দিন জীবনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ওপরও তার সরাসরি প্রভাব পড়া।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে এখন সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চিপ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রে হিলিয়াম ও ব্রোমিনের মতো কিছু উপাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি আধুনিক চিপ তৈরিতে শতাধিক ধাপের সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হয়; যেখানে তাপমাত্রা, গ্যাসের বিশুদ্ধতা ও রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ হয় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে। এ কারণেই নির্দিষ্ট কিছু গ্যাস ও রাসায়নিকের ওপর শিল্পটি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

চিপ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয় সিলিকন থেকে তৈরি অত্যন্ত মসৃণ একটি পাতলা ডিস্ক বা সেমিকন্ডাক্টর ওয়েফার দিয়ে। এরপর তার ওপর স্তরভিত্তিকভাবে সার্কিট নকশা বসানো হয়। কাজটি করা হয় ফটোলিথোগ্রাফি নামের একটি জটিল প্রক্রিয়ায়। এতে আল্ট্রাভায়োলেট আলো ব্যবহার করে ওয়েফারের ওপর সূক্ষ্ম সার্কিটের নকশা আঁকা হয়। এ ধাপের পর ওয়েফারের কিছু অংশ রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কেটে বা ক্ষয় করে ফেলা হয়, যাকে বলা হয় প্লাজমা এচিং। আবার কোথাও নতুন উপাদানের স্তর বসানো হয়। এ পুরো প্রক্রিয়াটি বহুবার পুনরাবৃত্তি হয়, যাতে শেষ পর্যন্ত একটি ক্ষুদ্র সিলিকন টুকরোর মধ্যে কোটি কোটি ট্রানজিস্টর তৈরি করা যায়।

এসব ধাপে যন্ত্রপাতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে ব্যবহার হয় হিলিয়াম গ্যাস। অত্যন্ত হালকা ও স্থিতিশীল একটি গ্যাস হিলিয়াম, যা দ্রুত তাপ সরিয়ে নিতে পারে। চিপ তৈরির সময় লিথোগ্রাফি মেশিন, এচিং সিস্টেম এবং অন্যান্য উচ্চক্ষমতার যন্ত্রে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে মূলত এটি ব্যবহার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ওয়েফারকে খুব নির্ভুল তাপমাত্রায় স্থির রাখার জন্যও ব্যবহৃত হয় হিলিয়াম গ্যাস। এছাড়া ক্রায়োজেনিক কুলিং বা অতিনিম্ন তাপমাত্রার শীতলীকরণ ব্যবস্থায়ও এর ভূমিকা রয়েছে। সমস্যাটি হলো হিলিয়ামের কার্যকর বিকল্প প্রায় নেই এবং পৃথিবীতে খুব অল্প কয়েকটি দেশই এটি উৎপাদন করে। কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও আলজেরিয়া প্রধান উৎপাদক। এর মধ্যে কাতার একাই বৈশ্বিক সরবরাহের বড় অংশ জোগান দেয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বা সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদে বিঘ্ন ঘটলে চিপ শিল্পে চাপ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে ব্রোমিনও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান। চিপ তৈরির সময় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক কেমিক্যাল ও ফটোরেজিস্ট উপাদান তৈরি করতে এটি ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ফটোলিথোগ্রাফি ও ওয়েফার প্রসেসিংয়ের সময় নির্দিষ্ট রাসায়নিক বিক্রিয়ায় রাসায়নিক এ উপাদানের প্রয়োজন হয়। এছাড়া প্লাজমা এচিংয়ের কিছু প্রক্রিয়ায়ও ব্রোমিনভিত্তিক যৌগ ব্যবহৃত হয়, যা ওয়েফারের নির্দিষ্ট অংশকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ক্ষয় করতে সাহায্য করে। ফলে এর সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে পুরো চিপ উৎপাদন ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মধ্যপ্রাচ্যসহ সীমিত কয়েকটি অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ অঞ্চলে যুদ্ধ, অবরোধ বা পরিবহন ব্যাহত হলে এসব উপাদানের সরবরাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এরই মধ্যে পড়তেও শুরু করেছে। আর চিপের সরবরাহ সীমিত হয়ে গেলে বা ব্যয় বৃদ্ধি পেলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উৎপাদন খরচ বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর বড় অংশই গিয়ে পড়বে ভোক্তার ওপর। কেননা নতুন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি চাপ পড়তে পারে ক্লাউডভিত্তিক সেবার ওপরও।

আধুনিক ডিজিটাল অর্থনীতির বড় অংশই এখন ক্লাউড অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। অনলাইন স্টোরেজ, সফটওয়্যার সেবা, ভিডিও স্ট্রিমিং, ডেটা বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—সব ক্ষেত্রেই বিশাল ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন হয়। আর এসব ডেটা সেন্টার পরিচালনায় ব্যবহার হয় হাজার হাজার সার্ভার ও চিপ। ফলে চিপের দাম বাড়লে বা সরবরাহ সীমিত হলে ক্লাউড অবকাঠামো পরিচালনার ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ক্লাউডসেবার সাবস্ক্রিপশন মূল্যেও। ডিজিটাল অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো অনলাইন ব্যাংকিং ও পেমেন্ট ব্যবস্থা। আধুনিক ব্যাংকিং সিস্টেম, ডিজিটাল লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক সবই নির্ভর করে শক্তিশালী ডেটা সেন্টার, সার্ভার ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর ওপর। প্রযুক্তি অবকাঠামোতে অস্থিরতা বা ডেটা সেন্টারে হামলার ঝুঁকি বাড়লে এসব সেবার নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থা, অনলাইন ব্যাংকিং বা ডিজিটাল পেমেন্ট সেবায় সাময়িক বিঘ্ন দেখা দেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সঙ্গে ই-কমার্স খাতও চাপের মুখে পড়তে পারে। অনলাইন বাণিজ্যের পুরো ব্যবস্থাও নির্ভর করে ডেটা প্রসেসিং, ক্লাউডসেবা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোর ওপর। প্রযুক্তি খাতে ব্যয় বেড়ে গেলে ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর ডেলিভারি ব্যবস্থাপনা, অর্ডার প্রসেসিং এবং পেমেন্ট পরিচালনার খরচও বেড়ে যাবে।

অনলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো সহজ ও সাশ্রয়ী করতে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে এআই ডেটা সেন্টার বানানোর পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের কিছু ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর এসেছে। যদি এ অঞ্চলে প্রযুক্তি অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে তাহলে নতুন ডেটা সেন্টার প্রকল্প কমে যেতে পারে।

ইরান যুদ্ধের শুরুতে কেবল জ্বালানি তেল ক্ষেত্র, বন্দর বা সামরিক ঘাঁটি ছিল প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু এখন ডেটা সেন্টার, ক্লাউড অবকাঠামো এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্ককেও কৌশলগত অবকাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম সম্প্রতি এক তালিকা প্রকাশ করেছে। তাতে গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, আইবিএম ও ওরাকলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক অফিস, ক্লাউড অবকাঠামো ও ডেটা সেন্টারকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ হুমকি শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মধ্যপ্রাচ্যে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের কয়েকটি ডেটা সেন্টারে এরই মধ্যে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার ফলে অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং আঞ্চলিক ব্যাংকিং ও পেমেন্ট সেবায় বিঘ্ন দেখা দেয়। ফলে অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকদের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে ডেটা স্থানান্তরের পরামর্শ দিতে শুরু করেছে।

এনভিডিয়া সাময়িকভাবে দুবাইয়ের অফিস বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা যায়। একই পরিস্থিতিতে অ্যামাজনও তাদের আঞ্চলিক অফিস বন্ধ করে দিয়েছে, যাতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এদিকে সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ব্যাপক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দুবাইয়ে অবস্থানরত গুগলের কিছু কর্মী আটকা পড়েন। ফলে তাদের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে।

হিলকো গ্লোবালের ভূরাজনীতি ইউনিটের নির্বাহী পরিচালক প্যাট্রিক মারফি বলেন, ‘ইরান আগে মূলত জ্বালানি তেল ক্ষেত্রকে লক্ষ্যবস্তু বানাত। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডেটা সেন্টারগুলোয় সাম্প্রতিক হামলা দেখাচ্ছে, এখন তারা ডিজিটাল অবকাঠামোকেও কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে; যা এ শিল্পের জন্য অশনিসংকেত।’

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত এবং কাঁচামাল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে মারাত্মক সংকট তৈরি হবে, যা পুরো বিশ্বের ডিজিটাল অর্থনীতিকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রযুক্তি বিশ্লেষক রে ওয়াং সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতাদের কাঁচামাল সংগ্রহে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে। যদিও এখনো প্রভাব সীমিত পর্যায়ে রয়েছে, তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুতর ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

এ সংকটের আরেকটি বড় দিক হলো জ্বালানি নিরাপত্তা। বিশ্বের উন্নতমানের কম্পিউটার চিপের প্রায় ৯০ শতাংশই উৎপাদিত হয় তাইওয়ানে। এ দ্বীপরাষ্ট্র প্রযুক্তি শিল্পের এক ধরনের বৈশ্বিক কেন্দ্র। একই সঙ্গে জ্বালানিতে আমদানিনির্ভর। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এরই মধ্যে দামে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে, ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপর। এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তাইওয়ানের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আর তাইওয়ানের চিপ উৎপাদন যদি জ্বালানি সংকটে বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়বে পুরো বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতারা পড়তে পারেন আরো বড় ধাক্কার মুখে। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের ফলে যেসব মেমোরি চিপের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে, সেগুলোর প্রধান উৎপাদক দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো। স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ মেমোরি চিপ নির্মাতা। এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে এসব চিপের চাহিদা এরই মধ্যে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে মেমোরি চিপের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার ব্যয়ও অনেক বাড়বে। এতে এআই কার্যক্রমের সম্প্রসারণের গতি ধীর হয়ে যেতে পারে।

এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব শেয়ারবাজারেও দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার কমে গেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বহু প্রযুক্তি কোম্পানি তাদের আঞ্চলিক কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *