
আদালতে হট্টগোল বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি আটক
ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ বাংলাদেশে আরো বেশি হারে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান
ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যশোর ছাড়াও নড়াইল, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার রোগীরা আসেন চিকিৎসা নিতে। প্রতিদিন হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকেন ৪৫০-৫০০ রোগী।
বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নেন এক হাজারেরও বেশি রোগী। হঠাৎ করেই হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় অনেক ইনজেকশন ও স্যালাইন শেষ হয়ে গেছে। ফলে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে রোগীদের, যা দরিদ্র রোগীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝা তৈরি করছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়েকটি অর্থবছরে ওষুধ ক্রয়ে চাহিদার মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। ১০০ শয্যার বরাদ্দ দিয়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় কয়েক মাস পরই ওষুধ ফুরিয়ে যায়। ফলে রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।
হাসপাতালের হিসাবরক্ষক ইসরাফিল হোসেন জানান, সামান্য পরিমাণ বরাদ্দে কেনা ওষুধ দিয়ে রোগীদের প্রয়োজন মেটানো কখনো সম্ভব হবে না। সরকারের সরবরাহ করা ওষুধ দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হলে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে ১১২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) থেকে আসে ৮২ ধরনের ওষুধ। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় অর্থে টেন্ডারের মাধ্যমে অবশিষ্ট ৩০ ধরনের ওষুধ কেনা হয়। কিন্তু বর্তমানে অতি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী নেই।
হাসপাতালের স্টোর কিপার গৌতম কুমার জানান, প্রতি অর্থবছরে ইডিসিএল থেকে ৮২ ধরনের ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ মেলে। তাও মাত্র চাহিদার সাড়ে ৭ শতাংশ। আর টেন্ডারের (দরপত্র) মাধ্যমে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় ৩০ ধরনের ওষুধ ক্রয় করা হয়। টেন্ডারে কেনা ওষুধ দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। ফলে কিছু করার থাকে না।
তিনি জানান, ইডিসিএলের সরবরাহ করা ওষুধ শেষ হয়ে গেলে বিভিন্ন হাসপাতালে মজুদ রাখা রাখা ওষুধ সংগ্রহ করে আনা হয়। সরকারি বরাদ্দ কম থাকায় সব সময় বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।
হাসপাতালের সার্জারি, মেডিসিন, হৃদরোগ, গাইনি, অর্থোপেডিকস, শিশু, পেইং ও লেবার ওয়ার্ডের একাধিক রোগী স্বজনরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে যৎসামান্য ওষুধ দেয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ ওষুধ ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়।
সদর উপজেলার চান্দুটিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি তার বাবা ইউনুস সর্দারকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর ওয়ার্ড থেকে বিনামূল্যে কোনো ওষুধ দেয়া হয়নি। গ্যাস ও হাইড্রোকরটিসন ও সেফুরএক্সিম-৭৫০ ইনজেকশনসহ সব ওষুধ ফার্মেমি থেকে কিনতে হয়েছে।
করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্তদের নাভির ইনজেকশন কার্ডিনেক্স বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে না।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, গত অর্থবছরে হাসপাতালে ওষুধের চাহিদা ছিল ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকার। এর মধ্যে বহির্বিভাগের ফার্মেসিতে চাহিদা ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ৭৯ হাজার ৫৭৫ টাকা ও আন্তঃবিভাগের ১৯ ওয়ার্ডে চাহিদা ছিল ৪২ কোটি ৩০ লাখ ২৫ হাজার ৪৭৫ টাকা। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানটি ৮ কোটি ২৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকার ওষুধ ক্রয় করে। সামান্য পরিমাণ ওষুধ দিয়ে এত বড় হাসপাতালে রোগীদের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
সার্বিক বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কয়েকটি অর্থবছরে চাহিদার তুলনায় খুবই কম অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। আবার অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে রোগীদের বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে চাহিদার মাত্র ৩ শতাংশ ওষুধ। বাকি ৯৭ শতাংশ ওষুধ রোগীদের কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে। ১০০ শয্যার বরাদ্দ দিয়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনা করা হচ্ছে। যে কারণে ওষুধ সংকট লেগে থাকে। এক্স-রে ফিল্ম ও প্যাথলজি পরীক্ষার রি-এজেন্ট কেনার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়, তা দিয়ে সামাল দেয়া খুব কষ্টকর।’


