সবার আগে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যনিরাপত্তায় ধান গবেষণায় যেখানে জোর দিতে হবে
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
সবার আগে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যনিরাপত্তায় ধান গবেষণায় যেখানে জোর দিতে হবে
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

শ্রমবাজার সংস্কারে ব্যর্থ অন্তর্বর্তী সরকার, চাপে নতুন সরকার

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং রফতানি ও বিনিয়োগে স্থবিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সদ্য বিদায়ী বছরে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

তবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লেও বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে চিত্র আশাব্যঞ্জক নয়। দক্ষ জনশক্তি রফতানিতে ব্যর্থতা, রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম ও সিন্ডিকেটভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের কারণে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

প্রতিশ্রুতি থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ নেই

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার শ্রমবাজার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারেনি। বিশেষ করে প্রধান শ্রমবাজারগুলো সংকুচিত হওয়ার পেছনে দায়ী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কূটনৈতিক পর্যায়ে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারে বাণিজ্যিক কূটনীতির ঘাটতিও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম

দেশের শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই খাতেই সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদায়ী সরকারের আমলে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ২৮৩টি নতুন রিক্রুটিং এজেন্সিকে লাইসেন্স দেওয়া হয়।
অনেক প্রতিষ্ঠান দক্ষ জনশক্তি রফতানির বদলে অবৈধ পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর সঙ্গে জড়িত। ফলে বিদেশি শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে এবং কয়েকটি দেশ ভিসানীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

দক্ষতার অভাব বড় সমস্যা

বাংলাদেশি শ্রমিকরা প্রধানত নির্মাণ শ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সেবাখাতের সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করেন। আধুনিক কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে উচ্চ আয়ের পেশায় প্রবেশ করতে পারছেন না তারা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। দক্ষতাভিত্তিক মানদণ্ড তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দরকষাকষির সক্ষমতাও বাড়বে।

নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রমবাজার পুনর্গঠনের চাপ আরও বেড়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি সরকার সিন্ডিকেট ভাঙা, প্রতারণা বন্ধ ও শ্রমবাজার বহুমুখীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাতারাতি সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহের ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

সুপারিশ

✔️ রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে নামানো
✔️ অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা
✔️ শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি
✔️ কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার
✔️ দীর্ঘমেয়াদি শ্রমবাজার সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন

বিশ্লেষকদের মতে, শ্রমবাজার সংস্কারে ব্যর্থতা দেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নতুন সরকারকে দ্রুত বাস্তবমুখী ও টেকসই নীতি গ্রহণ করতে হবে।

জাকির হোসেন, সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *