শ্রমবাজার সংস্কারে ব্যর্থ অন্তর্বর্তী সরকার, চাপে নতুন সরকার
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
তরুণদের মূল্যবোধ গড়তে প্রচার মাধ্যমকে কাজে লাগাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
শ্রমবাজার সংস্কারে ব্যর্থ অন্তর্বর্তী সরকার, চাপে নতুন সরকার
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
তরুণদের মূল্যবোধ গড়তে প্রচার মাধ্যমকে কাজে লাগাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যনিরাপত্তায় ধান গবেষণায় যেখানে জোর দিতে হবে

বিশ্বের অন্যতম উর্বর বদ্বীপ বাংলাদেশে ধান কেবল প্রধান খাদ্যশস্য নয়, বরং সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও জাতীয় অস্তিত্বের ভিত্তি। দেশের মোট ফসলি জমির প্রায় ৭৫ শতাংশে ধান চাষ হয় এবং বছরে উৎপাদন হয় প্রায় ৩৬ থেকে ৪০ মিলিয়ন টন চাল। তবে এই সাফল্যের আড়ালে রয়েছে বড় উদ্বেগ—নিবিড় চাষাবাদ ও রাসায়নিক সারনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

বর্তমানে দেশের কৃষি ব্যবস্থা আমদানিকৃত রাসায়নিক সারের ওপর প্রায় ৯০ শতাংশ নির্ভরশীল এবং সরকারকে প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার, সার ও কীটনাশকের লাগামহীন প্রয়োগ মাটির জীবনীশক্তি ধ্বংস করছে। এতে ভবিষ্যতে উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।

২০৫০ সালের চ্যালেঞ্জ

জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০ কোটির বেশি হবে। অথচ নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবাদি জমি ক্রমেই কমছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান উৎপাদন প্রবৃদ্ধির ধারা দিয়ে ভবিষ্যতের খাদ্য চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ধানের ফুল ফোটার সময় অতিরিক্ত তাপমাত্রা পরাগরেণুকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি শস্যের ওজন ও পুষ্টিমান কমিয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে হিট শকের কারণে ধানের শীষ দানাহীন হয়ে পড়ছে, ফলে শতভাগ পর্যন্ত ফলনহানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

প্রচলিত পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা

প্রথাগত প্রজনন পদ্ধতিতে নতুন জাত উদ্ভাবনে ১০–১২ বছর সময় লাগে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের গতি এত দ্রুত যে এই ধীরগতির পদ্ধতি কার্যকর থাকছে না। দেশে বহু জাত উদ্ভাবন হলেও কয়েকটি জনপ্রিয় জাতের বাইরে কৃষকের আস্থা তৈরি হয়নি।

গবেষকরা মনে করছেন, বিচ্ছিন্ন গবেষণা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় ধান গবেষণা কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

আধুনিক বিজ্ঞানেই সমাধান

বর্তমান সংকট মোকাবেলায় ‘নির্বাচনভিত্তিক প্রজনন’ থেকে বেরিয়ে ‘নকশাভিত্তিক নির্ভুল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর দিকে যেতে হবে। জিনোম এডিটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট জিন পরিবর্তন করে ধানের ফলন বাড়ানো, তাপসহনশীলতা বৃদ্ধি এবং ফুল ফোটার সময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এতে শুধু ফলন বাড়বে না, বরং চালের গুণমান ও পুষ্টিমানও রক্ষা করা যাবে। পাশাপাশি পুষ্টি আহরণে দক্ষ শিকড়ব্যবস্থা, লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল বৈশিষ্ট্য যুক্ত করে ‘স্মার্ট রাইস’ জাত উদ্ভাবনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

স্মার্ট ধানের জাত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের ধানের জাতগুলোকে হতে হবে—
✔️ উচ্চফলনশীল
✔️ জলবায়ু সহনশীল
✔️ কম সার ও পানিতে টেকসই
✔️ পুষ্টিমানসমৃদ্ধ

এ জন্য ভূস্থানিক মডেলিংয়ের মাধ্যমে তাপপ্রবাহপ্রবণ অঞ্চল শনাক্ত, দ্রুত জাত উন্নয়নে স্পিড-ব্রিডিং এবং কার্যকর জিন শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন।

জাতীয় কাঠামোগত সংস্কারের আহ্বান

ধান গবেষণায় ‘প্যারাডাইম শিফট’ আনতে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন, ল্যাব ও মাঠ পরীক্ষার সমন্বয় এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি শিক্ষায় আধুনিক জিনতত্ত্ব ও বায়োটেকনোলজির অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ধীরগতির প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করলে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। তাই আধুনিক বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে ধানের ভবিষ্যৎ এখনই পরিকল্পনা করতে হবে।

জাকির হোসেন, সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *